Home / আজকের লেখক / আমার নতুন বই।। সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ

আমার নতুন বই।। সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ

notunboi

আমার নতুন বই।। সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ

সম্ভাষন জানাই পাঠককে।
আমার নতুন বই বের হতে যাচ্ছে আসন্ন বই মেলা এবং সর্বোপরি পাঠকের সৃজনশীল মননের সমীপে।পাঠক মননে পাঠসূত্র আমার বইকে পূর্ণপ্রাণ করবে বলে নিবেদিত হলাম।
জন্মদিনকে বলা যায় ব্যক্তিজীবনের পুনরাবিস্কারের তারিখ। বই প্রকাশ লেখকজীবনের পুরাত্থান, আবিস্কার ও ছায়াপথ খুঁজে নেয়ার বিরল মুহূর্ত।
হিসাবের খাতা খোলা হয়, পাঠকের মতানুসারে স্হান পায় জমা-খরচ-ইজা। পাঠকের ইস্কুলে গিয়ে শিখে নিতে যাই অজানা। বই প্রকাশ পাচ্ছে রবীন আহসানের বেপরোয়া আয়োজনে শ্রাবণ প্রকাশনীর হাতিয়ারওয়ালা।
এখানে থাকবে একযোগে দু’টি উপন্যাস। অপরটি হচ্ছে এক যে ছিল কল্পনা। কল্পনা চাকমাকে নিয়ে। রাষ্ট্রীয় বেনিয়াতন্ত্রের গণহত্যার দলিল হিসেবে এখানে History থেকে Story হয়ে উঠেছে যেন আমরা Story থেকে Historyতে আবার প্রবর্তিত হতে পারি।

সৈয়দ শামসুল হক:আমাদের আধুনিকতার কয়েকটি দিক।

যারা গড়েছেন সাহিত্য, তাদের অন্যতম সৈয়দ হক, তাকে পাঠ করেছিলাম–প্রতিটি পাঠ ছিল রচনা তৈরি হওয়ার সমসময়ে। কীভাবে সেই সময়ে অভিযোজন এবং এখনো রসায়ন চলেছে তা পরখ করে নিতে , আধুনিকতার প্রত্নচিহ্ন খোঁজার উপলক্ষ্য করে এই গ্রণ্থ আমাদের মনোভূমির অস্তি নাস্তি।আমাদের আধুনিকতা আখ্যান লিপিময় রয়েছে।

বেহুলা বাংলা থেকে প্রকাশ পাবে কুসুম অমৃত কথা। এই উপন্যাস আমার অবলোকিত জীবনের আলোকিত ঘটনার উপাখ্যান। নারী-পাঠ হয়ে উঠল শেষ পর্যন্ত মেঘ তাড়িয়ে আকাশ দেখার মুহূর্ত।
লিখতে মাকে পেয়েছি , খুঁজে পেয়েছি নারীগণকে :ইলেক্ট্রা থেকে গাইনোকোলজি , এনাটমি থেকে সেক্স সাইকোলজি ও ফিজিক্স যা আমার প্রফেশনাল ডিগ্রিকে কান মলা দিয়েছে।

দ্বিতীয় মানুষ এখন ষোড়শ উপাচারে অনর্গল তথ্য দিয়ে আক্রান্ত, ব্যতিব্যস্ত। অজস্র তথ্যঘন মেঘের নিচে তার বোধ -বুদ্ধি মন্ত্রহীন ;সে খুঁজে পায় না তথ্য দিয়ে তথ্য গেঁথে তুলতে।
আমাদের হৃদয় আজ ঘাস। এখন কাহিনী বলার চেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে তথ্যকে সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বলতে থাকা , সুচেতনাকে শেষ পর্যন্ত তথ্যের ক্লান্তি কাটিয়ে দ্রুত রেখ ছিনিয়ে আনতে পারবে মননের শস্য; উসকে দেবে পাঠকের সৃজন শীলতা যেন শাদাকালো কখন আলাদা হয়ে যাবে।

শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে পাঠকের কাছে যাবে হাতিয়ারওয়াল। এই গ্রণ্হে রবীন আহসানের সরাসরি নেমে পড়ায় একযোগে স্হান পাচ্ছে দু’টি উপন্যাস।হাতিয়ারওয়ালার সঙ্গে অন্যটি কল্পনা চাকমাকে নিয়ে লেখা এক যে ছিল কল্পনা। রাষ্ট্র মাত্র বৈধ এক নিপীড়ক ব্যবস্হা।এই রাষ্ট্রীয় বেনিয়াতন্ত্রের গণহত্যার দলিলে যুক্ত নাম কল্পনা চাকমা। ধর্ষন, হত্যা , আগুন ধ্বংসের প্রেক্ষপটে জন্ম নেয়া দেশে আকাঙ্ক্ষা ছিল এই জনপদে নয় শুধু কোথাও কোন স্হানে কখনও গণহত্যায় রাষ্ট্রটি শরীক হবে না , হাতে মাখবে না রক্ত। স্বাধীন দেশে আমাদের হাতে রন্জিত হয়েছে এই জনপদ।তখন স্বৈরকাল চলছিল।অগ্নি পরিবৃত্ত সেসময়ে পাকপ্রেতাত্মা ছুঁ মন্তর দিল যেন। গণহ্ত্যা চললো সমমানসিকতায়।একদা জাতীয়তাবাদী বাঙালি আমরা যেভাবে জাতি নিধনের শিকার হয়েছিলাম তেমনি দুঃখজনক কাজ আমারা সুস্পন্ন করে ছিলাম। যে অপরাধ আমাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল, সেই একই অপরাধ আমরা করেছিলাম অপর জাতি সত্তার বিরুদ্ধে। এক যে ছিল কল্পনা , উপন্যাসে , গণহত্যাকে defined-redefined, recontruct করেছে।

হাতিয়ারওয়ালা র কীর্তিতে সজনে বিজনে, দেশে বিদেশে খুন ঝরেছে। হাতিয়ার কেবল গোলাবারুদ অস্ত্রশস্ত্র নয়, খাদ্য, ধর্ষন, আতঙ্ক, উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো এমন বিচিত্র বিষয়কে অস্ত্র হিসেবে হাতিয়ার হিসেবে খড়গকৃপান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র হাতিয়ার। এই হাতিয়ার ইয়োরোপীয় রেনেসাঁর পর আরও বিশদ ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে।ফলে বোমাপতন, পারমানবিক হামলায় অপর পক্ষের সৈন্য ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও মৃত্যুর শিকার হয় নিরীহ নারী শিশু পুরুষ বৃদ্ধ। ধ্বংস যজ্ঞের মাত্রা ও গুনগত মান পরিবর্তন হয়েছে।এখন যুদ্ধ শিল্পে উত্তীর্ণ হয়েছে।
বাংলায় মন্বন্তর হয়েছে।১৯৪৩এ বা বাংলা ছিয়াত্তরে। এসব রাষ্ট্রীয় বেনিয়াতন্ত্রের গণহত্যা অথচ এই গণনিধন স্বীকৃতি পায় নাই, বিচার তো দূরের কথা। দেশভাগ দেশত্যাগ। মানব বিনিময়।মস্তক বিনিময়।মানুষকে তার জীবিকা , বসত, দেশ, ঐতিহ্য থেকে উৎপাটিত করার মধ্য দিয়ে ইহুদি নিধনের চেয়েও বড় হলোকাস্ট হয়ে গেল, কোটি মানুষ মরল, নারী সম্ভ্রম হারালো।
এইসব আন্তর্জাতিক উদাসীন বিষয়কে উপস্হাপন করার মধ্য দিয়ে গণহত্যাকে গণহত্যাকে দেখা ও বোঝার জন্য একটিক্ষেত্র খুঁজে পাবে পাঠক দুইদশক ব্যাপী ভিয়েতনাম যুদ্ধ, নানকিং গণহত্যা , ইরাক যুদ্ধ ;মার্টিন লুথার কিং , কেনেডি, গান্ধী জিন্নাহ, চে গেভারা, সিরাজ শিকদার , বঙ্গবন্ধু খালেদ মোশাররফ, মন্জুর হত্যা : প্রাসাদ রাজনীতি ও গুনে গুনে তাদের সহযোগী মতাবলম্বীদের হত্যা , সব মিলিয়ে হাতিয়ারওয়ালাদের করতে পারে না কোন কাজ… সব উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।এই উপন্যাস লিখে চলতে চলতে চোখে লবনাক্তা অনুভব করেছিলাম। প্রাক পেশাদারীত্বের কালপর্বে সেনার দল নরমেধ যজ্ঞ নিজের ও অপরের জন্য পরিচালনা করেছিল। রাজনীতিতে জাসদ, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আওয়াজ, খাদ্যাভাব দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র, দেশ গড়ার বদলে ভাগ্য গড়া এমন এক পরিবেশে রাজনৈতিক হত্যা, ক্যু দেতাঁ , সব মিলিয়ে স্বাধীনতার পর ভায়োলেন্স, কিলিং , বিচার ছাড়া হত্যা সব মিলিয়ে নরক গুলজারে মধ্যে হাতিয়ারের রাজনীতি, খেলা, অস্ত্রবাজি নিয়ে আখ্যান রচনা করতে করতে যে বলাটা অনিবার্য তা নিয়ে হত্যালেখ রচিত হয়েছে। History থেকে Story রচনার দিকে এই উপন্যাস নীত হয়েছে আবার যেন তৈরি করতে পারব Story থেকে History. এই জনপদে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১. তাই আমাদের বৈধ অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে আবার কখনও গণখুনের রক্তে পৃথিবীতে কোনও নতুন কালো ইতিহাসের কলেবর বৃদ্ধি না পায় তেমন সেই নিদান ও ওঝার তুকতাক আমার এই উপন্যাসে সজ্জিত হয়েছে।

চতুর্থ

বেহুলা বাংলার চন্দন চৌধুরী প্রকাশ করবে আরেক উপন্যাস কুসুম কথা অমৃত।
ও মনে করে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের না পড়া উত্তম।আমি বলি জীবনশৈলী।
আমরা কুসুমকে মনে করতে পারব।
শরীর। শরীর। তোমার মন নাই কুসুম। -প্দ্মা নদীর মাঝি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আলোকপাতের এন্টিথিসিস আমার এই লেখা গড়ে তুলেছে সিনথেসিস। চতুষ্কোনে দরকার পড়েছিল বহু নারীর। তাদের ভেতর দিয়ে দেখাটার মধ্যে সত্তার বিভাজনের প্রতিপক্ষে যে নারী গড়ে উঠলো তাকে দেখলাম মেনোপজের পর বিরতিসূচক পজ দিয়ে হয়ে পড়ল স্পর্শ আলিঙ্গন রতিমিলন শৃঙ্গারের ভায়োলিন, সেই তার অর্কেস্ট্রা উৎপাদন ক্ষমতার বাইরে এসে পেয়ে গেল সত্তার ভেতরে এমন অগ্নিকাণ্ড যা তাকে পুরাণ থেকে এনে তুলে লোকায়েত পেশীর সঙ্গে নিজ জংঘার উত্থান পর্বে।
মনের একটা ভাষা থাকে। শরীরেও।এই দুই ভাষা কখনো সম্পূরক, কখনো বিপ্রতীপ। অবলোকিত জীবনের আলোকিত পর্বের সূত্রবদ্ধ এই নারী-পাঠ। এখানে যে Story বাহাদুরি করে সেখান থেকে ঘটবে History যা কখনও মুণ্ডুপাত করবে না। এই উপন্যাসে নারী শরীরের ধূসরতা সূর্যঘ্রাণ পেয়েছে। তবে পর্নোগ্রাফি কি ? মানুষকে নিচে নামায় পর্নোগ্রাফি। যৌনতা যোগায় জীবনের আনন্দ।উদ্দীপনা। কুসুমের মধ্যে পেয়ে গেছি সেই ঘননিশ্বাস। সুস্হ সতেজ ভরা যৌন সম্বন্ধের পক্ষে সমাজকে প্রস্তুত করার অংশ এই উপন্যাস।

নারীকে পুরুষের খোরাক করা হয়েছে সিনেমার রুপকথায় তাকে পুঁজি করা হয়েছে বাচ্চা দিতে সংসারে লগ্নি করা হয়েছে ধর্মের পরীক্ষা দিতে মনোনীত করা হয়েছে বিছানায় ফেলে ছোবল মারা হয়েছে।শয্যায় তাকে অবিরাম হাহাকার করতে হয়।তার শরীরের ভাষার জন্য কেউ রক্ত দেয় না। নিজেদের ক্ষ্ররণ মরণ নিয়ে নিজেরা মরে। বেশ্যা তাদের জন্য রাখা বেসরকারী নামাবলী হিসেবে।পুরুষ নারীশরীর ভাষার উত্তর জানে না বলে পলাতক হয়ে মনের ভাষার দোহাই দেয়। আমার জন্যও এই উপলব্ধি বযানে অতি মানুষ হতে পারি নি।পাঠক যখন পড়বেন তখন অনুভব করবেন উর্দ্ধে পতন। আমার রক্তাক্ত পুরুষ শরীর, এই নিয়ে চ্যালেন্জের সম্মুখিন। স্বমেহনে পুরুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে অথচ যৌনতা জীবনের সম বয়সী, তাকে ভয় থেকে গোপন হত্যা নিজের নারীকে অথচ ব্যাভিচার যখন তাকে একতরফা মত্ত করে সে থাকে উল্লসিত যেমন ধর্ষনকালে। রাষ্ট্রে গুম খুন হয় মানুষ অথচ নারীর শরীরী ভাষাকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ খুন গুম করে, কোন প্রতিবাদ কেউ করে না।আমরা তো আমরাই। জীবনের তথ্যগুলো বায়োলজি বইয়ে শ্লীল অথচ সাহিত্যে অশ্লীল। এই উপন্যাস লিখতে লিখতে শিখেছি অনেক। উপন্যাসটি নারী-পাঠ, শরীরের রসায়ন, সেই ভাষার ব্যাকরণ। সে শরীরের স্বাদ পেয়েছিল প্রথম, আমাদের সাহিত্যে জীবনে এমন যে কথা প্রায়ই পাওয়া যায়, এই উপন্যাস এমন বাক্যের সমাপ্তি টানবে। মন থেকে শরীরে কামনা তৈরি হয় না, তাই নারী আলিঙ্গনে নিয়ে প্রবেশ পথ খুঁজতে থাকলে অকপটে সে বলে আমার মন প্রস্তুত নয়। সময় যায়।শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনটাও বিটোভেন কোয়েৎজার সোনাটা হয়ে যায়।
নারী সন্তান ধারণ করে।রজঃ বেলাও প্রকৃতির নিয়মে থাকে।নারী তার উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ভাবতে থাকে পৃথিবী আর তার সৃষ্টিতে হাসবে না।
প্রকৃতির নিয়মে এমন অভিজ্ঞতা তাকে নিজের শরীর বহনকে মনে নিজের শবটানা! ! যদি তাই মনে করছি তো আমাদের আরোপ সামজিক প্রকাশ্য হত্যা।নিজেই নিজের অনার কিলিং।
নারীর শরীর বলতে নারী নয় শুধু, পুরুষেরও যে একটা শরীরের ভাষা আছে এবং পুরুষের শরীর নারীকে টপকে যায় তেমনি নারীর মরা শরীরও হয়ে থাকে নিশ্চিত সীমাহীন।
নারীর মত পুরুষ গর্ভ দান করে না।নারীরও সব সময় তা হয় না। পুরুষ ও সেই নারী এক সমতলে দাঁড়িয়ে থাকে।উভয়ই শরীরময় ভাষা নিয়ে নদীর মত।

বৃক্ষে বৃক্ষে বিষ করবী হয়।দেহ নিঃসৃত অনুভব।কাম প্রেমের সঙ্গম।ক্ষুধাতৃষ্ঞা আনন্দ হল-প্রেমরস নইলে পাথরের নিচে কান্না জমবে।

মেঘ দে পানি দে, সঙ্গীতের মুর্চ্ছণা এই উপন্যাস।
মনু বলেন, নারী হল ভূমি।পুরুষ হল বীজ।তাই পাপ কোথায়?
লাঙলের ফলাও লকলকে হওয়া দরকার।

এই উপন্যাস সেই উপন্যাস।

পাঠক নিশ্চয় উপন্যাস ত্রয় ও প্রবন্ধ বইটিকে আপনাদের পাঠ অভিজ্ঞতায় সাদরে গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদ। বই নিউজ ও সম্পাদক রবীন আহসানকে নিজের বই সম্পর্কে সকলকে নিজ কথা বলার সুযোগদানের সুযোগ রাখার জন্য শুভেচ্ছা।