Home / আজকের বই / শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘মুজিববাদ’ বই

শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘মুজিববাদ’ বই

শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘মুজিববাদ’ বই
মুজিববর্ষে শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের লেখা ‘মুজিববাদ’ বই। অগ্রিম কিনলে ৫০% ছাড়! মাত্র ৪০০ টাকায়!*ডেলিভারি চার্যসহ ৪৫০ টাকা। (ঢাকার বাইরে সুন্দরবন কুরিয়ারে ডেলিভারি)
প্রয়াত খ্যাতিমান লেখক সাংবাদিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের লেখা ‘ মুজিববাদ’ বইটি #শ্রাবণপ্রকাশনী নতুন করে প্রকাশ করবে। আগামী ২৫ ফেব্রয়ারি ২০২১ বইটির নতুন সংস্করণ প্রকাশীত হবে। প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার বোর্ড বাঁধাই ৮০০ টাকা দামের বইটির অগ্রিম গ্রাহক হলে অর্ধেক দামে মাত্র ৪০০ টাকায় পাওয়া যাবে। অগ্রিম গ্রাহক হওয়া যাবে ১৫ ফেব্রয়ারি ২০২১ পর্যন্ত।
boionlinebd.com -থেকে কিনলে ডেলিভারি চার্যসহ ৪৫০ টাকায় ঘরে পৌঁছে যাবে বই ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। বিকাশ (পেমেন্ট 01932790209) । যে কোনো ব্যাংকের ভিসা ক্রেডিট কার্ড থেকে কিনতে পারবেন।

#মুজিববাদ বইয়ের কথা।

বিভিন্ন জাতির বিকাশ ধারায় এমন কতকগুলো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে যা এক জাতি থেকে অপর জাতির সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। জাতি পরিচয়ের মূল সূত্র অর্থনৈতিক ক্রিয়াকাণ্ড এবং উৎপাদনের সঙ্গে শ্রম সম্পর্কের ঐক্য ও সংহতি। এ প্রশ্নে শাসিত ও শোষিত জাতির ভাগ্য বিপর্যয়ের ঘটনায় তেমন কোনো বিরোধীয় উপাদান পাওয়া যায় না। যেমন পাওয়া যায় না স্বশাসিত ও শোষণ মুক্ত জাতির সমগ্র মেহনতী শ্রেণির সঙ্গে উৎপাদন যন্ত্রে শ্রম সম্পর্ক, মালিকানা এবং সরকারি ক্ষমতায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে।
কিন্তু বাঙালি জাতির বিকাশে এমন কতগুলো ঐতিহাসিক পরিস্থিতি তার বাস্তব জীবনকে প্রভাবান্বিত করেছে, যার নজির অন্যান্য জাতির বেলায় সচরাচর দেখা যায় না। শ্রেণি সংগ্রাম ও জাতীয় সংগ্রামে বাঙালি মানসিকতা বিকাশে সমৃদ্ধ উপাদান সন্নিবেশিত হয়েছে। অনেক জাতির জীবনেও তার ঘটে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডে বসবাসকারী সুপ্রাচীন ও সুসভ্য মানবগোষ্ঠীর আর্য নামক অপর একটি আধাসভ্য কিন্তু সুপ্রাচীন মানবগোষ্ঠীর অস্ত্রের বশ্যতা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন এবং সুদীর্ঘকাল তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত থেকে এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়, বাঙালির জাতীয় জীবনে মূল্যবান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির মূলে তার প্রভাব অনন্যসাধারণ।
মুজিববাদের মূল্য দর্শন- বাংলার মাটি, বাঙালি-মানস এবং বাঙালির চারিত্রিক, ভৌগৌলিক ও পারিপার্শ্বিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্রের সমাবেশ ঘটিয়ে সেই সঙ্ঘবদ্ধ ও সুসংহত শক্তিকে জাতি গঠনের কাজে নিজস্ব পথে এবং সাফল্যজনকভাবে নিয়োগ ও প্রয়োগ। সেই সঙ্গে মুজিব-চিন্তার শপথ- বাংলাদেশে শ্রমিক, কৃষক বুদ্ধিজীবী ও সকল মেহনতী মানুষের জন্যে একটি গণতান্ত্রিক, শোষণহীন, সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা। সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা তার গ্যারান্টি। সোনার বাংলা তার পরিচয়।
মার্কসবাদ-লেনিনবাদ সাম্যবাদের দর্শন, সমাজতন্ত্র তার অন্তর্বর্তী কার্যক্রম। মুজিববাদ সমাজতন্ত্রের দর্শন, বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র তার অন্তর্বর্তী কার্যক্রম। কাজেই বাংলাদেশের মার্কসবাদ ও লেনিনবাদের সঙ্গে মুজিববাদের অবস্থান দ্বন্দ্বমূলকভাবে নয়, রয়েছে সম্পূরকভাবে
কিছু কিছু অতি উৎসাহী তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ভাবাবেগে মুজিববাদ এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অতিরঞ্জিত কথাবার্তা ও স্লোগান উত্থাপন করে থাকেন। কিন্তু একথা স্মরণ রাখা দরকার যে, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ প্রভাবান্বিত বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে যাঁরা মুজিববাদ বিরোধী, তাঁরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদেরও বিরোধী। যাঁরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ বিরোধী তাঁরা প্রকারান্তরে মুজিববাদেরও বিরোধী।
বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদ ও নয়া-উপনিবেশবাদের যে জিওপলিটিক্স, তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বিশ্ব পুঁজিবাদের নেতৃত্বে এ দেশে, এমন কি সমগ্র ভারত-বাংলাদেশের-পাকিস্তান উপমহাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, প্রগতি ও সমাজতন্ত্র প্রতিরোধ করতে তারা বিপুল অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি নিয়োগ করেছে। বর্তমান বিশ্বের এই অঞ্চলে যে মার্কিন খুনি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বিশেষভাবে তৎপর উপমহাদেশের প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও বক্তৃতা থেকে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে। সেরূপ অবস্থায় যাঁরা মুজিববাদ বিরোধী কিংবা মার্কসবাদ ও লেনিনবাদ বিরোধী তাঁদের সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রাখা শান্তি, গণতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক শক্তিবর্গের সবিশেষ প্রয়োজন। কারণ বিশ্ব পুঁজিবাদের নেতৃত্বে সামাজ্যবাদ ও নয়া-উপনিবেশবাদী একচেটিয়া পুঁজিপতিরা কোন্ কৌশলে কখন যে কার হাতে কলকি খেয়ে যায় বলা শক্ত।

মুজিববাদ সম্পর্কে #বঙ্গবন্ধু বলেন

দেখুন, ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত আমার এই সুদীর্ঘকালের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম কতিপয় চিন্তাধারার উপর গড়ে উঠেছে। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী তথা সকল মেহনতী মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাম্য প্রতিষ্ঠাই আমার চিন্তাধারার মূল বিষয়বস্তু। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। কাজেই কৃষকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে আমি জানি শোষণ কাকে বলে। এ দেশে যুগ যুগ ধরে শোষিত হয়েছে কৃষক, শোষিত হয়েছে শ্রমিক, শোষিত হয়েছে বুদ্ধিজীবীসহ সকল মেহনতী মানুষ। এ দেশে জমিদার, জোতদার, মহাজন ও তাদের আমলা-টাউটদের চলে শোষণ। শোষণ চলে ফড়িয়া-ব্যবসায়ী ও পুঁজিবাদের। শোষণ চলে সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও নয়া-উপনিবেশবাদের। এ দেশের সোনার মানুষ, এ দেশের মাটির মানুষ শোষণে শোষণে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের মুক্তির পথ কি? এই প্রশ্ন আমাকেও দিশেহারা করে ফেলে। পরে আমি পথের সন্ধান পাই।
আমার কোনো কোনো সহযোগী রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল বন্ধুবান্ধব বলেন শ্রেণী সংগ্রামের কথা। কিন্তু আমি বলি জাতীয়তাবাদের কথা। জিন্নাবাদ এ দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িকতাবাদের বিষবাষ্প। তার জবাবে আমি বলি যার যার ধর্ম তার তার-এরই ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কথা। সেই সঙ্গে বলি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের কথা। শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সমাজতন্ত্র চাই। কিন্তু রক্তপাত ঘটিয়ে নয়- গণতান্ত্রিক পন্থায়, সংসদীয় বিধিবিধানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে চাই সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। আমার এই মতবাদ বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিচারবিশ্লেষণ করেই দাঁড় করিয়েছি। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুগোশ্লাভিয়া প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে, নিজ নিজ অবস্থা মোতাবেক গড়ে তুলছে সমাজতন্ত্র। আমি মনে করি বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারটি মূল সূত্র ধরে, বাংলাদেশের নিজস্ব পথ ধরে।
আমার উপরোক্ত মতবাদকে অনেকে বলছে ‘মুজিববাদ’। এ দেশের লেখক, সাহিত্যিক কিংবা ঐতিহাসিকগণ আমার চিন্তাধারার কি নামকরণ করবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার, আমার নয়। নামকরণের প্রতি আমার কোনো মোহ নেই। আমি চাই কাজ। আমি চাই আমার চিন্তাধারার বাস্তব রূপায়ণ। আমি চাই শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমি চাই আমার স্বপ্ন ‘সোনার বাঙলা’ নির্মাণের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

সূচিপত্র

১. মুজিববাদের দার্শনিক পটভূমি ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
পূর্বকথা
মার্কসবাদ ও তার বিকাশ ধারা
মার্কসবাদী বিজ্ঞান- বস্তুবাদ
মার্কসবাদী অর্থনীতি- সাম্যবাদ
লেনিনবাদ
লেনিনের শ্রেণি চরিত্র
লেনিনের যুগ ও লেনিনবাদের বিকাশ
মাওবাদ ও তার বিশ্বাস ধারা
চীনে মাওবাদী বিপ্লবের চরিত্র
মাও সে-তুংয়ের শ্রেণি চরিত্র
গান্ধীবাদ
জিন্নাবাদ
ইহুদিবাদ ও তার বিকাশ ধারা
নাসেরবাদ ও তার বিকাশ ধারা
টিটোবাদ ও তার বিকাশ ধারা
মুজিববাদ- দর্শন ও বিজ্ঞান…
মুজিববাদ- বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতার স্তর
মুজিববাদ- জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব ও জাতীয় অর্থনীতি বিকাশের স্তর
মুজিববাদ- শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা, বৈজ্ঞনিক সমাজতন্ত্রবাদ বা সোনার বাংলা নির্মাণের স্তর
২. মুজিববাদে বিকাশ ধারা
বাংলার আদিম মানুষের সংগ্রাম ও তার সংগ্রামী চেতনা
বাঙালির ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনা বিকাশে শ্রেণি সংগ্রামের প্রভাব
বাঙলার বিরুদ্ধে বহিরাক্রমণ ও তার জাতীয় চেতনার বিকাশ
বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে শ্রেণি সংগ্রামের ভূমিকা
পাশ্চাত্য জগতে পুঁজিবাদের বিকাশ ও
সামন্তবাদী বাংলায় তার প্রবেশ
বাংলায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসন ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব
সামাজ্যবাদের ভারত বিভাগ ও পাকিস্তানে
নয়া-উপনিবেশবাদের আধিপত্য
বাংলাদেশের জিওপলিটিক্স
পাকিস্তানে রাজনীতির বিকাশ ধারা ও নিপীড়িত জগণ
নেতা মুজিব, তাঁর শ্রেণি চরিত্র ও চিন্তাধারার ক্রমবিবর্তন
৩. মুজিববাদের মূল সূত্র
মুজিববাদের মূল নীতি প্রসঙ্গে
ধর্মরিনপেক্ষতাবাদ
জাতীয়তাবাদ
গণতন্ত্র
সমাজতন্ত্রবাদ
৪. মুজিববাদের সমস্যা
মুজিববাদ নির্মাণে মূল সমস্যা

শ্রাবণ প্রকাশনী/ boionlinebd.com
রোজভিউ প্লাজা ৫তলা ৫০৭ নং রুম, ১৮৫ বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (হাতিরপুল বাজার শর্মা হাউসের উপরে) ঢাকা-১০০০। মোবাইল : ০১৭১৫৭৫১১১৭। আমাদের (পেমেন্ট বিকাশ) : ০১৯৩২৭৯০২০৯। বিকাশ পর্সোনাল : ০১৭১৫৭৫১১১৭।