Home / আজকের বই / Defying ISIS-JOHNNIE MOORE

Defying ISIS-JOHNNIE MOORE

isisDefying ISIS-JOHNNIE MOORE
লেখকের নাম : জনি মুর।
প্রকাশনা সংস্থা : থমাস নেলসন পাবলিশিং হাউজ।
মুলয় : ৭০০ টাকা।
প্রাপ্তিস্থান : পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরাক এবং সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। গত কয়েকমাস ধরে জঙ্গি গোষ্ঠীটির ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের হামলায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্স যোগ দিয়েছে। আর সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু তারপরও টিকে আছে এই গোষ্ঠীটি! ইতোমধ্যেই তারা তাদের বর্বরতা আর শক্তিমত্তার পরিচয় জানান দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। কিন্তু আইএস এর এই শক্তির উৎস কোথায়, কীই বা তাদের লক্ষ্য?
আইএস/আইএসআইএস সন্ত্রাসীদের উৎপত্তি হয়েছিল সিরিয়া থেকে বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার জন্য। সেখানে প্রায় ৩ বছর সিরিয়ান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে এই সন্ত্রাসী গোষ্টিটি যা এখনও চলছে। জি সি সি এর অন্তর্গত সৌদি-আরব, কুয়েত,আরব-আমিরাত ছাড়াও ফ্রান্স, তুরস্কসহ ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি অ্যামেরিকা,অস্ট্রেলিয়া এ সময় ফ্রেন্ডস অফ সিরিয়ার নামে এদের সহায়তা দিতে শুরু করে। এক্ষেত্রে তারা তুরস্কে সন্ত্রাসীদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য সামরিক প্রশিক্ষক পাঠায়, আর্থিক সুবিধা, অস্ত্র, জীবাণু অস্ত্র, ভারী অস্ত্রের বন্দোবস্ত করে, এমনকি এসব দেশ থেকে বেকার যুবকদের ১৫০০ ডলার মাসিক বেতনে এই মিশনে যুক্ত করা হয়। কিন্তু রাশিয়া আর চিনের বাঁধায় নিজেরা সামরিক অভিযানে যেতে পারে না। সিরিয়া সরকার ইরান, রাশিয়া আর হিজবুল্লাহদের সহায়তায় এই সন্ত্রাসীদের দমন করে। প্রায় ২ লক্ষের বেশী মানুষ মারা যায় এই সংঘাতে।

পরবর্তীতে আইএস/আইএসআইএস সন্ত্রাসীরা সিরিয়াতে তেমন সুবিধা করতে না পেরে ইরাকে ঢুকে পরে। ইরাকে ঢুকেও তাদের বর্বরতা চলতে থাকে। এমনকি ইরাকের ২য় বৃহত্তর শহর মসুল দখল নেয় তারা ইরাকি জেনারেলদের হাত করে প্রায় বিনা যুদ্ধে। এরপর একে একে তারা ইরাকের তেল ক্ষেত্রগুলোর দখল নিতে শুরু করে। যা তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের কিছুদিন পর ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা ঘোষণার মাধ্যমে নওমুসলিমদের বিভ্রান্ত করে তাদের দলের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। এদিকে অ্যামেরিকা ইরাকে তাদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য লোক দেখানও বিমান হামলা শুরু করলে এই সন্ত্রাসীরা আমেরিকান নাগরিকসহ খ্রিস্টান ও অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও হত্যা করতে শুরু করে, যা পশ্চিমা বিশ্বের জন্যও হুমকির কারন হয়ে দেখা দেয়। পশ্চিমা দেশগুলোর সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অমুসলিম বিশেষ করে খ্রিস্টান ও ইয়াজীদীদের উপর তাদের অত্যাচারের মাত্রাটাই সবচেয়ে বেশী। ইতোমধ্যেই আইএসের হাতে নিহত মানুষের সংখ্যা দাড়িয়েছে কয়েক লক্ষ। শিরচ্ছেদ, আগুনে পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে এমন কোন হেন অপরাধ নেই যা তারা করছে না । সম্প্রতি সারা দুনিয়া থেকে খ্রিস্টানদের উচ্ছেদ করার হুমকিও দিয়েছে আইএস। তারই পথ ধরে হিটলারের নাজি বাহিনীর মতো প্রতিটি খ্রিস্টান পরিবারকে বিশেষ নির্দশনা দিয়ে চিহ্নিতও করেছে। এরপর চলছে গণহত্যা। সেই আইএস এর আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন মানবতাকর্মী এবং আমেরিকার বেস্ট সেলিং লেখক জনি মুর। “Defining ISIS“ বইতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে উত্থান হলো এই জঙ্গী গোষ্ঠীর। এছাড়াও তুলে এনেছেন দৈনন্দিন বড় খবরের আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া অন্যান্য ছোট ঘটনাগুলোকে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকার থমাস নেলসন পাবলিশার্স থেকে। বইটি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে পাঠক সমাবেশে কেন্দ্রে । দাম পড়বে ৭০০ টাকা।