Home / আজকের বই / জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি (১৯০৫-৪৭) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি (১৯০৫-৪৭) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

--------------------জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি (১৯০৫-৪৭)সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
লেখকের নাম : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রকাশনা সংস্থা : সংহতি প্রকাশন।
মূল্য : ১০০০ টাকা।
প্রাপ্তিস্থান : সংহতি প্রকাশন।

১৯০৫ সালে এই ভারতীয় উপমহাদেশে বড়মাপের একটি রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছিল, সেটি বঙ্গভঙ্গ। ১৯৪৭ সালে এর চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে, সেটি ছিল দেশভাগ। এক হিসেবে ১৯০৫ পরিনতি পায় ১৯৪৭ এ। মাঝখানের সময়টা চাঞ্চল্যকর এবং অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়কার ঘটনাবলীর ভালো-মন্দ ফলাফল ও প্রভাব উপমহাদেশের মানুষ এখনো বহন করে চলেছে।
বঙ্গভঙ্গ, দেশভাগ এবং মাঝখানের নাটক, অতিনাটক ও প্রবাহমনতা নিয়ে গবেষণা, অনুসন্ধান, স্মৃতিচারণ, প্রকাশনা এসবের প্রয়োজন ছিল। তা পাওয়াও গেছে, ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে। অন্যান্যদের সাথে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর “জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি“ বইটির পার্থক্য হলো দৃষ্টিকোণের। পরিচিত ইতিহাসকে এখানে বিচার করা হয়েছে জনগণের সমষ্টিগত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের পরিপ্রেক্ষিতে। বিন্যাস এবং বিশ্লেষণও সেই আলোকেই।
সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আত্মত্যাগের কোনো অবধি ছিল না। “জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি“ বইটিতে সে আত্মত্যাগের ইতিহাসকে বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে স্বভাবতই গুরুত্ব পড়েছে সকল প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও তাৎপর্যের ওপর। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী প্রবণতার এক ধরনের ছাপ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী‘র রচিত এই বইটিতে পাওয়া যাবে। জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে। ইতিবাচক দিকটি হলো দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা। এই ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে, বাইরের আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যের প্রেরণা ও সাহস যোগায় এবং সমষ্টিগত স্বার্থ-বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণ হয়। নেতিবাচক দিক হলো উচ্চমন্যতার অহংকার, জাতিবিদ্বেষ ও আগ্রাসনের প্রবৃত্তি। জাতীয়তাবাদের বিকাশের সাথে পুঁজিবাদের বিকাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং পুঁজিবাদের চালিকাশক্তি হচ্ছে মুনাফার লোভ। মুনাফা পছন্দ করে লুণ্ঠন। পুঁজিবাদী বিকাশের ধারাপ্রবাহে ইউরোপ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল লুণ্ঠনের লালসায়। ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে এসে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার যে কাজটি করেছিল তার সামনে ব্যক্তিগত তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল বৈকি কিন্তু পেছনে ছিল জাতীয়তাবাদী সমর্থন। জাতীয় ভাবে অর্জিত দক্ষতা, জ্ঞান, বৈষয়িক অর্জন, সামর্থ্য এবং বিজিতদের দূর্বলতা সবকিছুই সাম্রাজ্যবাদকে সাহায্য করেছে। এর বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রতিরোধের মূল ধারাটা ছিল জাতীয়তাবাদী। পরস্পরবিরোধী দুই শক্তির ভেতর ঐক্যের জায়গাটি ছিল পুঁজিবাদী আদর্শের প্রতি তাদের আনুগত্য। বস্তুগত স্বার্থের পরিচালনার কারণে দুই পক্ষই সামাজিক বিপ্লবের সম্ভাবনাকে দমন করতে চেয়েছে। এসব সত্যও বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে।
হিন্দু জাতীয়তাবাদ, মুসলিম জাতীয়তাবাদ এখানে যেমন উঠে এসেছে তেমনি রাজনীতির সাথে ধর্মের মিশ্রণ, এবং তার ফলে সৃষ্ট নানান সমস্যাবলীও উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে। উঠে এসেছে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা এবং তাদের কাজের রাজনৈতিক তাৎপর্যের বিবেচনা।
এই সকল বিষয়ে লেখাগুলো সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে দশ বছর। তবে একটানা নয়, ধীরে ধীরে। অনেকটা ধারাবাহিকভবে প্রকাশিত উপন্যাসের মতো। প্রকাশিত হয়েছে ত্রৈমাসিক নতুন দিগন্ত পত্রিকায়। সেই লেখাগুলোরই দুই মলাটের ভেতরে প্রকাশিত সংকলন “জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি“ বইটি।
বইটি প্রকাশিত হয়েছে সংহতি প্রকাশনী থেকে। বইটির দাম পড়বে ১০০০ টাকা। বইটি পাওয়া যাবে সংহতি প্রকাশনীতে।

 

 

এই বই আলোচনাটি সমাজিক গণমাধ্যমে বন্ধুদের শেয়ার করুন