Home / সবিশেষ / শিল্পী বর্মণ-এর একগুচ্ছ কবিতা

শিল্পী বর্মণ-এর একগুচ্ছ কবিতা

 

শিল্পী বর্মণ-এর একগুচ্ছ কবিতা

মৃত্যু ও কাল রাত
এক রাত্রে কর্কশ অন্ধকার নামে
ছুঁড়ে ফ্যালে বুকের চাঁদ,
শরীরী উৎসব রাজনীতি
করে মাতামাতি।
বাসর শেষ অন্ধকার
জ্বলে প্যাঁচার চোখ।
পৃথিবীর চাঁদ তখন মৃত।
তবু রাত্রি থাকে বাকি
আরো ভোগ-প্রতিশোধ।
নিথর শিশু ঔদ্ধত্যের পীড়া
জাগে মা রাত্রির গুহায়।
তখন পাহারায় নির্ভিক
পরিবর্তিত সমাজ- শিশু- দেশ
মৃত্যু এবং নারী।।
মুক্তি
তোমার মৃত্যুরথ সামনে
মুক্তির খোঁজে তুমি মৃত,
মহারথিরা তোমায় নিয়ে চলল
দুলতে দুলতে।
পথে পড়ে থাকলো ফুল
ফল-খই- আনাকড়ি,
কতো সংগীত কতসুর
তবু হরিবোল বাজল শুধু।।

চাতুরিক খেলা
একটাই জীবন
কি লাভ চাতুরতায়!
কত অভিসন্ধি
বিশ্বাস ভাঙ্গা পলায়ন।
যেখানে মৃত্যু অব্যর্থ
পতঙ্গের মৌতাতে
ঢিল ছুঁড়ে কি হবে!
ফাঁকির ওজন জানি
তোমাকে ঠিক ডোবাবেই।

তোমাকে ভালবেসে
তোমাকে ভালোবেসে স্বপ্ন আসে
স্বপ্ন ভাসে-স্বপ্ন চলে যায়,
তোমাকে ভালোবেসে সুখ গুলো
ব্যাথাতুর মনে হয়।
তোমাকে ভালোবেসে থামে সময়
থেমে যাই আমি,
তোমাকে ভালোবেসে যতটা পাই
অনেকটা বেশী তার হারাই।

অভিসার
যন্ত্রনার দুঃখ চাষে কি ফল হবে!
দীর্ঘ অযুত নিযুত বাঁচবোনা পৃথিবীতে
পিছনে অতীত সামনে তুলো মেঘ ভবিষ্যৎ,
তীব্র অভিমান শুষেছে অনেকটা কাল।
ভালোবাসা তোমায় নিয়ে ছৃঁয়ে দেব লজ্জাবতী
স্পর্শ কর আমায়- ঘোমটা পড়ুক খসে
অনাদরের স্বাধীনতায় না পাওয়া ঝরুক শিশিরে
আড়ালে নয় প্রকাশ্যে হোক আমাদের অভিসার।

সময় কাল
আগের এক দু বছর বাদ দিলে
সম্পর্কের সতের বছর হবে।
কতো আড় চোখ ইশারা
এলোমেলো অনুমান,
কতো গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল
জমে থাকা অভিমান।
কত নিশুত রাত
কাক ডাকা ভোর,
আমাদের চেনা অচেনার
শক্ত আলগা বাঁধনডোর,
কিছু তুমি, লোভ মনগড়া।

স্বীকারউক্তি
হঠাৎ গভীর রাত ডেকে তোলে
ঘুম ভেঙে বিছানায় জেগে বসি,
পাশে যে মানুষটি ঘুমায়
তার সঙ্গ আমার বহুদিনের
বড় চেনাজন প্রাত্যহিকতায়।
গভীর একান্তে সে বড় বেমানান,
ফুরিয়ে গেছে অনেককাল।
টানাটানির টানাপোড়ন
বিস্মরনের আগুন কে দেয় উস্কে ।
কাছের যে জন অধরা হয়ে রয়
সাক্ষী থাকে ভাবনার কৃপনতা
রাত ভোর আর একবুক ব্যথা।

ভবিতব্য
মাঝে মাঝে ডুকরে কেঁদে ওঠা ছাড়া
প্রতিবাদের কি আছে সংসারে!
সেপারেশন কোন শান্তির পথ নয়
তাছাড়া সমাজ সেটা ভালোভাবে নেবেনা,
তুমি চাইলেই ফিরিয়ে দিতে পারবেনা
কর্তব্য স্নেহহীন পিতৃ পরিচয়!
সহ্য অসহ্যের সীমায় মারামারি মন্দ নয়,
যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব একটা স্থায়ী নয়
শুধু গায়ে সওয়া ভাবান্তর ভাব আছে।
চাইলেই সংসার থেকে বেরুনো যাবেনা
প্রেমের মাসুল দিতে হবে গুনে গুনে,
অসাবধানে সুতো ছিঁড়ে যাক ক্ষতি নেই।
জীবন সমর্পনে প্রায়শ্চিত্তটা করে যাও,
প্রলোভনে প্রতারিত হবার চ্যালেন্স তো
কতবার, বার বার নিয়েছ,
এখন নাহয় আত্মজ বাঁধনে
থাকো আর কতকাল পাশাপাশি,
আলাদা হোক ঘর, বিছানা,স্বপ্ন
একসাথে চলার ভূ-ভবিষ্যত।
সংসারের কু গলা ছেড়ে গাইতে নেই
ফন্দি করে বন্দী করে রাখতে হয়।
অসহায় একাকীত্বের টানাপোড়ন
জীবন থেকে জীবন বিচ্ছেদ চায়না,
তলানী থেকে খুঁড়ে তোলে প্রেম
যা সচরাচর স্বাভাবিক হবার নয়
আশার জল তারই গোড়ায় ঢালো।।

সেই হাত
হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় নানা রংয়ের
সাদা-কাল-গোলাপী-পীত হাতগুলো।
বইমেলায়,সিনেমাহলে,মেলার প্রবেশ মুখে,
মার্কেটে,পরিবহন,রাজপথ,বিপণিবিতানে,
প্রকাশ্যে কিংবা অন্তরালে
বুদ্ধিহীন, ক্লিব অবয়বহীন সে হাত
সন্তর্পণে কিংবা ঔদ্ধত্তে
সে হাত উড়ে এসে পড়ে মাথা গড়িয়ে গায়ে
কোমরে, বুকে-পিঠে, সমুখে কিংবা পশ্চাতে।
অবলীলায় ঘুরে বেড়ায় হাতগুলো
কতশত মামলার মালা পড়ে
হাতগুলো ফিরে আসে স্তব্ধ বিচারে,
ভিডিও ফুটেজের ফুটো থেকে
অবলীলায় গলে যায় ঘটনার দৃশ্যপট।
হাতের কত আইন,রুল জারি
সাত পাঁচের দফায় দফারফা,
প্রতিকারের প্রতিবাদ আজ অর্থহীন।

একদা এক স্বপ্নের বাড়ি
বারবার শব্দহীন কাচ ভেঙ্গে পড়ে
পূর্বপূরুষেরা দেয়ালের ফাটল ঢাকে
কেউ নেই পাশে ভেবে কুন্ডলী পাকায় গলা
গভীর রাতে শুনি নি:শব্দ পুথিবীর শব্দ
হার্টবিটের মতো ধুকধুক করে ঘুরে চলে।
সরে যায় দিন-মাস বছর পেরিয়ে যুগ
জেগে থাকি আমি জাগে রাত্রি প্রহর,
আজকাল ভুতুম প্যাঁচা রাতজাগা পাখিরা
কংক্রিটের শহরে ভুলেও আসেনা,
কার্নিশে একটুকরো আকাশ ঝুলে থাকলেও
চাঁদ-তারাদের সখ্য সেখানে চোখে পড়েনা।
শব্দহীন ভাঙা কাচে হেঁটে যাই আমি একা
ভাঙে স্বপ্ন, দিবাযত্ন, ভাঙে কবিতার শব্দ।
একদা একটা স্বপ্নের বাড়ি ছিল আমাদের
সেখানে আজ ঘুরে বেড়ায় ইঁদুর-তেলাপোকার দল।

১০

যদি তুমি ফিরে আস
যদি কোনদিন ফিরে আস হাওয়ার চাবুকে
জন্ম জন্মান্তর কীর্তনখোলার ঘোলা জলে
কালের যাত্রায় হাসি কান্নায় এ বাংলায়।
যদি আস একবার নক্ষত্র খচিত চাঁদয়ায়,
করি দুদন্ড বিলুপ্ত নগরীর অর্থহীন আলাপ।
আজকাল রাত্রিতে কালপেঁচা জেগে থাকে
বাদুরেরা রক্তচোষা হয়ে ডানা ঝাপটায়,
ক্লান্তিতে চোখেকালি পড়ে কালিপদদের
ট্রেনে কাঁটা পড়ে আয়ু বৃন্তচ্যুত ফুল-স্বপ্ন,
পায়ের শংকিত পদক্ষেপ,উদ্ভ্রান্ত ঘরে ঘেরা
শকুনের গান, নির্বাক মানুষের জেগে ওঠার
সম্ভাবনা-তুমিহীন অধরাই থেকে গেল জীবনে।

১১

ফেসবুক
ফেসবুকে বন্ধু
চেনাজানা নয়ত,
কেউ ছিল চেনা
মনে নেই তাকে
হারিয়েছি তার ঠিকানা।
কাজ করি চোখ থাকে
লাইক কমেন্টে,
ল্যাপটপ,টাচ ফোনে
বিল গুনি মাসগেলে,
নেশা মোর একটাই
ফেসবুক থাক চাই।
অনলাইন প্রেম
জটিলতো নয়
শরীরী টাচ নেই
হবেনা নৈতিক ক্ষয়।
এ যুগের সম্পর্ক
হাওয়ায় ভাসে,
ঝামেলায় পড়ে কেউ
ব্লক করে বাঁচে।
বিশ্বজয়ে ইন্টারনেট
করছি কত ফ্লাটিং
কাছের সম্পর্ক ভেঙে
করছি নেটে চ্যাটিং।