Home / সবিশেষ / সাখাওয়াত টিপুর এই সময়ের কবিতা

সাখাওয়াত টিপুর এই সময়ের কবিতা

সাখাওয়াত টিপুর এই সময়ের কবিতা

রহস্য ললাট
_________

বার্তা কি রুটির মত গোলাকার ইতিহাসে
বাতাস বন্দুক তাক করে প্রকাশ্যেই হাসে
গোপন ফুলের বাক্য কেন প্রকাশ্যেই রটে
জন না-কি গণ তন্ত্র তুমি বিরহী বোম্বাটে

দেহ হতে মন আর কান হতে কৌমযুগে
কে যেন দুলছে একা, গূঢ় একাকি মায়ায়
যে আসে কথার ডোরে বহুবার গৌরপুবে
জায়া কি জননী আগে সপ্তর্ষি নিবিয়া যায়

যার আছে তার কাছে অর্থ অনর্থের দায়
সেকি অপলক দাস যার কোন অর্থ নাই
চাঁদ যেন কাল হয়, যদি বর্ণ লোপ পায়
সাধু, বাক্য ছাড়া দুনিয়ার সব অসহায়

রহস্য ললাটে কেন সহাস্য কেনবা আজ
দাস কিন্তু প্রজা নয় লিখে রাখ রক্তরাজ!

_____________

৫/৫/১৪

 

রাষ্ট্রের ইঞ্জিন!

 

যেন যাবে না বলেই, রাত হলো দিন
হাত বাঁধা অন্ধ চোখে রাষ্ট্রের ইঞ্জিন
ঝরা পাতাদের সাথে উড়ে যাচ্ছে গান
গোধুলির ধুলো সেও মৃত্যুকলা প্রাণ

যেন মূক ভাষা পাবে বি-বর্ণ মালার
কোথাও কি ছিল কোন মানুষের হাড়
যেন কবরের ছাদে হেঁটে যাবে লাশ
বাতাসে ভাসবে কেন শুধু হাহুতাশ

গুহা দিক চিহ্ন হীন সশস্ত্র পাহারা
কি তবে অমূল্য দেশ এমনি বেশরা
নাই হবে যাই কবে মূল্য যত দূর
তোমার প্রাণের পাশে ঘুমুবে কুকুর

লাশের নাম কি তবে অজানা স্বদেশ
রাষ্ট্রই মৃত্যুর ফাঁদ সাবাশ বাংলাদেশ!

৪/৫/১৪
ঢাকা

 

 

বিষাদ তোমার হাত
————————–

বিষাই বাতাস হতে
সরে যাচ্ছে ভূমি
খুব একা তুমি!

একা রাতে একবাক্য
বিরতির পর রতি
যেন দুই জনমের গতি!

তারপর শব্দ ধায়
ক্ষয়ে যাওয়া অক্ষর
অন্ধকারে কেমন ঘুমায়?

তোমার ধারালো ভাব
কেবল পড়লে তিরতির করে
রক্ত ঝরে অঝোর জিহ্বায়!

কে তুমি প্রাণের পাশে
বসে বসে মনে মনে হাঁটো
মহাশ্মশানের ঘাটে!

মুক্তি নাই যে সাগরে
কতকাল বিপরীত ঘরে
তোমার দু হাত নড়ে!

ঢাকা ২০১৪

 

 

লাল হৃৎপিণ্ড ভাসে

তোমাকে বাসিতে ভাল
ভালতে বাসিয়া নাচি
জন্মে আছি কাছাকাছি
ওলো রক্তের মৌ-মাছি।

তো-মাকে শব্দরা খায়
তম মধুর কোরাসে
এবাকাশে দেখি, অয়
লাল হৃৎপিন্ড ভাসে”

১. ২. ২০১২

 

 

লেনিনের জন্য গান
_______________

লাল চিমনির
ধোঁয়া উঠছে
ও ভ্লাদিমির

বাজে এনজিন
হাড় হাড্ডির
তাক ধিনা ধিন

পুঁজি একদিন
খাবি খাচ্ছেন
এই যে লেনিন

লাট মুনাফার
পণ্যের পশরা
জার যেরবার

বাঁকা কাসতের
হাতেই হস্তির
দাঁতাল রাষ্ট্রের

এই তো সেদিন
ভলগার পাড়ে
জাগছে লেনিন
___________

২০১৪/ঢাকা

 

 

আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?
——————————————————

আমাদের মাথার উপরে কোন ছাদ নাই
আমাদের গোলাঘরে কোন অর্থ নাই
আমাদের ইতিহাস খেয়ে গেছে উইপোকা
আমাদের শিক্ষা ঝুলে আছে ফাঁসের রজ্জুতে
আমাদের উন্নয়ন কিছু লোকের ডেরায়
আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?

আমরা কাঠের চেয়ারকে লোহা বানিয়েছি
আমরা বুলেট খেয়ে রক্ত হাগি দিনশেষে
আমরা জানি না কে দেবে বাঁচার অধিকার
আমরা বেঁচেই আছি দুই চক্ষু বেচে বেচে
আমরা পথকে বানিয়েছি অথই সাগর
আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?

আমাদের রক্ত ছাড়া কোন কশেরুকা নাই
আমাদের হৃৎপিণ্ড ছাড়া কোন মেরুদণ্ড নাই
আমাদের মজ্জা ছাড়া কোন মাথামুণ্ড নাই
আমাদের ক্ষুধা ছাড়া কোন পাকস্থলি নাই
আমাদের অন্তর্বোধ খুবলে খেয়েছে মাছি
আমাদের রক্ত ধূলায় পড়লে পানি হয়ে যায়
আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?

আমরা মানুষ নই এমিবার মতো ছোট
আমরা গাছের কাছে রেখে দিয়েছি করাত
আমরা গোরের খোপে ছুঁড়ে দিচ্ছি জিন্দালাশ
আমরা সহজে অসহায় শিশুর মতোন কাঁদি
আমরা বেদনা বিক্রি করে ভাবি কেল্লাফতে
আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?

আমাদের দরোজার চাবি বেদখলে বহুদিন
আমাদের ঘুম নাই আজ বেহাত স্বপ্নের রাত
আমাদের শিশুরা কাঁদছে ভবিষ্যতের আশায়
আমাদের বর্তমান লুট হয়ে যায় সকালবেলায়
আমাদের সামনে আঁধার পেছনে হারানো পথ
আমরা কেমন দেশে আছি আব্বাজান?

আমাদের কোন গণতন্ত্র নাই টনতন্ত্র নাই
আমাদের কোন কথা বলার মেশিন নাই
আমরা নিরস বদনে রসাতলে চলে যাই
আমরা সরস মনে বিরস রচনা লিখে যাই
আব্বা-আম্মা ছাড়া আর কে আছে আব্বাজান
আমাদের রক্তপাত ছাড়াই বেহেস্তে নিয়া যান!

ঢাকা ২০১৮