Home / সবিশেষ / একা থাকতে ভালোবাসি-কবি আহসান হাবীব

একা থাকতে ভালোবাসি-কবি আহসান হাবীব

ahsanএকা থাকতে ভালোবাসি-কবি আহসান হাবীব

নির্বাচিত প্রশ্নপত্র ভিত্তিক কবি আহসান হাবীব-এর সাক্ষৎকারধর্মী লেখা । ১৯৮২-এর একুশে বইমেলা উপলক্ষে লিটলম্যাগ স্বনির্বাচিত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর অগ্রন্থিত এই ছোট সাক্ষৎকারটি আজ জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে বইনিউজে প্রকাশিত হলো- সম্পাদক

আহসান হাবীব
জন্মসালঃ জন্মস্থান
জানুয়ারি ২, ১৯১৭। গ্রাম-শঙ্করপাশা, জেলা-বরিশাল।
পেশা
সম্পাদক- সাহিত্য বিভাগ, দৈনিক বাংলা।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ
রাত্রিশেষ, ছায়া হরিণ, সারা দুপুরে, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু’হাতে দুই আদিম পাথর।

অবসর কিভাবে কাঠাতে ভালবাসেন
একা থাকতে ভালোবাসি। ঘরে বা বাইরে কোথাও একা বসে নিজের সঙ্গে কথা বলতে, কখনো বা তর্ক করতে ভালোবাসি। কখনো পড়ি; আবার প্রিয় সঙ্গী পেলে (একাধিক নয়) বেড়াতে ভালোবাসি। মাঝারি হৈ চৈ ভালো লাগেনা। চূড়ান্ত হৈ চৈ কখনো কখনো ভালো লাগে।

প্রিয় কবি স্বদেশঃ বিদেশী
এ রকম প্রশ্ন প্রায়ই আসে, বিভ্রান্তিকর এবং উত্তর দেয়ার ঝুঁকিও অনেক। বিভ্রান্তিকর এই জন্যে যে, অন্তত আমার ক্ষেত্রে একই কবি প্রথম থেকে শেষাবধি সমান প্রিয় হয়ে থাকেন নি। আমার ভালো লাগতো না এমন কবিও ক্রমশঃ প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে বিদেশী কবি এই মুহূর্র্তে নাম মনে পড়ছে হিমেনীথ আর ফ্রস্টের। আজো আমার খুব প্রিয় কবি। আগে নামই জানতাম না ডম মোরেস। বছর দুই আগে তাঁর একটি সংকলন পড়ে মুগ্ধ হয়েছি।
আমার যৌবনের প্রবলতম কবি বুদ্ধদেব বসু। তাঁর পরবর্তী কালের কবিতা আমাকে তেমন আবিষ্ট করে না। বেশি বয়সের পাঠক দর্শনাশ্রিত কবিতা অধিকতর পছন্দ করেন, কিন্তু যদি হয় দর্শনাবৃত?
উত্তর দেয়ার ঝুঁকিও অনেক বলেছিলাম এই জন্যে যে, প্রিয় কবি আর উত্তরদাতার বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ কবি সব সময় এক হয় না। অথচ প্রশ্নটির উত্তরে উলে­খিত নামের তালিকায় যাঁদের নাম থাকে না তাঁরা স্বভাবতই ক্ষুব্ধ হন। যদি বলি প্রিয় কবির প্রসঙ্গে এই মুহূর্তে বিনয় মজুমদারকে আমার খুব মনে পড়ছে, শক্তি চট্টোপাধ্যায় কেন মনে করবেন, আমি মজুমদারকে তাঁর চেয়ে বড় কবি হিসেবে চিহ্নিত করছি? বন্ধু নীরেন চক্রবর্তী কেন ক্ষুব্ধ হবেন? অমিয় চক্রবর্তী আমার খুব প্রিয় কবি অথচ এক মুহূর্তে আগেও তাঁর নাম মনে পড়ছিলো না।
শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, রফিক আজাদ আর আবুল হাসানের বইগুলো আমার পড়ার টেবিলে চোখের সামনে সাজানো।

প্রথম কবিতা রচনার অভিজ্ঞতা
প্রথম কৈশোরের ব্যাপার। আজ আর স্পষ্ট কিছু মনে নেই। তবে মনে আছে, চমকে গিয়েছিলাম। পুঁথির মধ্যকার কিছু নয়- আমি নিজেই লিখেছি, ভেবে ভেবে লিখেছি এবং এখন তা ছন্দ রেখে- অন্ত্যমিল রেখে পড়া যায়; এ এক আশ্চর্য ব্যাপার! আমার মধ্যে অলৌকিক কিছু ঘটে গেছে, এ রকম মনে হয়েছিলো বলে মনে পড়ে। ভয়ে ভয়ে (বিশ্বাস করবেনা এই ভয়) বন্ধুদের পড়ে শুনিয়েছিলাম। রাত্রে খাতাটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়েছিলাম। মাঝ রাতে জেগে গিয়ে আলো জ্বেলে আবার পড়েছিলাম।

ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে কবিতা ও কবির ভূমিকা সম্পর্কে অভিমত
কবিতা মানব হৃদয়ে কর্ষণের কাজ করে। এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে কবির অভিজ্ঞতা। সফল নির্মাণের মাধ্যমে কবি যখন তাঁর অভিজ্ঞতার আলো ফেলেন পাঠকের অর্ন্তলোকে, পাঠক তখন উচ্চকিত হন উদ্ভাসিত হন। জীবনের অবিশ্রান্ত প্রবাহে অর্থবহ জীবন সন্ধানে ব্রতী যে ব্যক্তি বা সমাজ, তার পাশে পাশে দুর্লক্ষ্য বাতিঘরের নাম কবিতা।
সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক উচ্চারণের পাশাপাশি শৈল্পিক সজ্জায় সজ্জিত অন্তস্রোতের এই ইতিহাস লিপিবদ্ধ না থাকলে মানুষ বারংবার তার উদ্যম হারাতো।