Home / সবিশেষ / রণদীপম বসু-এর পাঁচটি কবিতা

রণদীপম বসু-এর পাঁচটি কবিতা

kobeta-2016

রণদীপম বসু-এর পাঁচটি কবিতা

     পতাকা

কে ওরা হল­া করে ? না কি উল­াস ?
ভুলে গেছে তবে
সবুজ জমিনে আঁকা লাল বৃত্তটা ওই
রশ্মিমান সূর্য শুধু নয়
তারও আগে
ছোপ ছোপ রক্তের বিদীর্ণ চিৎকার-
অন্তর্গত কান্না দিয়ে যা মুছে দিতে হয়
নিরন্তর।
কাঁদতে জানে না যে তার কাছে
ওটা তো শুধুই শুধু
এক টুকরো বিমিশ্র কাপড় !

কবিতা, অনঙ্গ শরীরী নদী

(এক)
কাব্যের দেহলি ভেঙে
অক্ষরের মর্মর গায়ে
মেলে কি পঙক্তির প্রাণ?
নির্বান্ধব শব্দেরাই
ধরে রাখে মৈথুনের ঘ্রাণ।

(দুই)

নদীরা যৌবনা হলে সারা গায়ে
রমণীয় জলের গন্ধ ছড়ায;
কবিতাও তাই।
শব্দের প্রতিরূপে নদীই দাঁড়ায় এসে
প্রিয়তার চোখে-
এবং তখনি মনে হয়
অনঙ্গ-শরীরী নদী কেবলি জরায়ুময়।

অদৃশ্য বাতিঘর

মনে পড়ে সমুদ্রের কথা…
অদৃশ্য বাতিঘর এক পেছনে নিমগ্ন রেখে
পেরিয়েছি ক্ষয়িষ্ণু বিকেল কতো
নোনাজল গায়ে মেখে তরুণী বৃক্ষ এক
দিয়েছিল সঙ্গ কেবল
এঁকেছিল বুকে তার আর কারো মন্থন ব্যথা।

এখনো ভুলে কোন জলাশয় এলে
ইতিউতি খুঁজে ফিরি বিপন্ন বাতিঘর এক
অদৃশ্য ক্ষরণ নামে মগ্নতার জলে
হায়, কোথায় সেই বৃক্ষ আজ?

সমুদ্রের কথা মনে পড়ে যায়…।

 যতিচিহ্ন

[মানুষের এপিটাফ]

একটা কলম হাঁটতে হাঁটতে বলা নেই কওয়া নেই
আচমকা এঁকে দিলো অনড় যতিচিহ্ন এক !
এখনো তো ফুরোয় নি কথা-
পায়ের চিহ্নে চিহ্নে এখনো হয়নি তো
মঙ্গল আল্পনা আঁকা
অথচ এ চিহ্নেরা আছে বলেই
বসে যাবে নির্দ্বিধায় যত্রতত্র এমোন !
এতোটা খামখেয়ালি ভালো নয়।

ভালোবাসলেই
পূর্ণতার জন্য যেতে হবে বিচ্ছেদের অবিচ্ছেদ্য চূঁড়ায়-
এমোন তো কথা নেই।
আটপৌরে চাওয়া-পাওয়ার প্রথাগত জলেও
নাব্যতা থাকে-
রৌদ্রদগ্ধ শরীরসমেত
অনায়াসে দেয়া যেতো তুমুল সাঁতার,
অথচ এসব বিশ্বাসের আপতিক স্রোত
এভাবেই থেমে যাবে উৎসমুখ ঢেকে !
পারতো তো বয়ে যেতে বিভক্ত ধারায় ধারায়।

অনিবার্য বিরতি মানুষকে এমোনই
প্রথাহীন করে দেয় !

     নদীরা ভুলেনা কিছুই

নদীরা ভুলেনা কিছুই, তবু
বাাঁক ফিরেই
ভুলে গেলো নদী তার ফেলে আসা
পেছনের নাম।

সোমত্ত সংসার ফেলে সুবাস্তু শরীরে কার
ফুটেছে তৃষ্ণার ফুল-
খোঁজে খোঁজে নদী কি সেখানেই যায় ?
কী দামে কিনেছে সে
ঘাসফুল রঙে আঁকা লালনের সাজানো সংসার ?

ঘরে এক নদী ছিলো পৈঠায় সিঁদুর মাখা
মাঝে মাঝে ফুঁসে ওঠে অদৃশ্য বাতাসে খুব
মাস্তুল খুলে গেলে নিরীহ বৈঠায় ভাঙি
উপচানো কূল।

নদীরা ভুলে না কিছুই
ঘর ভেঙে বাঁধে ঘর, তবু
এঘর ওঘরে থাকে দুস্তর অমিল !