Home / সবিশেষ / রবিশঙ্কর মৈত্রীর পাঁচটি কবিতা

রবিশঙ্কর মৈত্রীর পাঁচটি কবিতা

kobeta-2016

রবিশঙ্কর মৈত্রীর পাঁচটি কবিতা

প্রার্থনা

তোমার তৃষ্ণার জল ভাগ করে
যে ফুল ফোটাও–
দুচোখের
প্রেম দিয়ে
রক্ত দিয়ে
যে ফুল রাঙাও
সে ফুলের সুবাস তুমি
নরকে ছড়াও।

নন্দনকাননের মিথ্যে গল্পে
ভুলব না আর
আমার সবটুকু ভুল ধুয়ে দিয়ে
একটি ফুল আমাকে দাও।

পরকীয়া

তোমার বিছানায় এ দেহ বিছিয়ে দেব না আর, বেছন বীজ তোমার বুকের পরে ছড়াব না আর কোনোদিন।
কোনোদিন আঁজলা ভরে নেব না তোমার আঁচল জল। ঠোঁটে কানে পিঠে চিবুকে সেই সব আদর ভালোবাসাগুলো এখন শুধুই গল্প ছড়াবে।
না ছুঁয়ে না নুয়ে স্পর্শের বাসনাহীন এই নিষ্কাম প্রেম আমি আমৃত্যু বয়ে বেড়াব, বহু দূর দেশে দেশে তোমার শোকগাথা গেয়ে বেড়াব।
বাল্যবিধবার মতো আমিও নিয়তি নিবন্ধিত প্রেমিক। পাব না খুঁজে নতুন রাজা রামমোহন, নতুন সাগর ঈশ্বরচন্দ্র? চির পুরাতন ভৃত্যের প্রেম থেকে মুক্তি পাব না পরদেশি হয়ে?

মৃত্যুহীন কবির রাজধানী পরিভ্রমণ
(অকালমৃত কবি মাহবুবুল হক শাকিলকে মনে করে)

বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরী পদ্মা মেঘনা হয়ে
ভূমধ্য সাগরের উত্তর-পশ্চিম তীরে
একজন কবির মৃত্যুগন্ধ ভেসে আসছে,
কফিনের বরফগলা বাতাস লেগে
সেভেন পাহাড়ের পাতাঝরা গাছেরা আজ
নুয়ে পড়ছে শীর্ণ জীর্ণ হয়ে।
কবির মৃত্যুগন্ধবদ্ধ বাতাস আজ
আমার শরীরে কাঁটা হয়ে গেঁথে গেছে।
চারুকলার মূর্তিবাগান, ঘন বকুলতলা,
রমনার অশ্বত্থ, বলধার আমলকিগাছ
শীতের হাওয়াই আজ নির্বিকার দুলে যাচ্ছ।
কবিকে তুমি শাহবাগ, তুমি টিএসসি,
তুমি বইমেলা কতোটুকু জানো?
কবিকে তুমি তেজগাঁও কতোটা চেনো?
হে জাতীয় কবিতা উৎসব,
হে পহেলা বৈশাখ,
হে শহিদ মিনার,
কবিকে মনে পড়বে কি আর?
পরিত্যক্ত ঢাকা বিমান বন্দর
কবির ফিরে ফিরে চাওয়া
সেই প্রশ্ন অাঁকা দুটি চোখ
দেখবে না আর।
কাজী নজরুল এভিনিউ, হে যানজট,
কবি এ ভিড়ে হাঁটবে না আর।
হে গুলশান, হে শুনশান
হে শোকসভা, হে স্মৃতিউন্মাদ,
বানানো কথার ভুলঝুরি দিয়ে
কবির মৃত্যুকে কোরো না নিরর্থক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন বৃক্ষসকলে
বাকলে বাকলে রচিত হচ্ছে
মরণোত্তর কবিতা আজ,
সকল আলয় শূন্য হয়ে
একজন মৃত্যুহীন শুদ্ধ সুন্দর কবি
রাজধানী পরিভ্রমণে আসছে আবার।

বাড়িফেরার গল্প

শরীরেও থাকে, মনেও থাকে
কিছু ছেঁড়াফাটা জোড়ামারা দুঃখকষ্ট থাকেই।
রুগ্ন অসাড় হাতটুকু ঢাকা থাকে লম্বা হাতার নিচে।
দুপায়ে কতো ক্ষত কুৎসিত দাগ আর
বিবর্ণ মরামরা রোম থাকে–জিন্সের নিচে
–ওসব বাড়ির লোকের কাছে
চোখসওয়া নিত্য জীবন।
বাইরে কেবল বদগন্ধঢাকা প্যারিসের সুগন্ধি
বানানো গল্প ছড়ায়।
পোশাকআশাক ভুল গল্পে কতো কিছু বকে যায়।
আমরা পানাহার শেষে
পরস্পরের মদিরতায়
চাঁদ তারা এবং সুসজ্জিত অন্ধকারে নিবিড় হয়ে
বাড়িফেরার সময় হারাই।

আক্ষেপ নিরন্তর

জলস্রোতে পাথরও সরছে,
ভেসে যাচ্ছে হলুদ হেমন্ত,
অথচ এখানে আমার
অবগাহনের জল নেই।