Home / সবিশেষ / ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে নিয়ে চে গুয়েভারা ও পাবলো নেরুদার কবিতা

ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে নিয়ে চে গুয়েভারা ও পাবলো নেরুদার কবিতা

kobeta

 

ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে নিয়ে চে গুয়েভারা ও পাবলো নেরুদার কবিতা
অনুবাদঃ আজফার হোসেন

 

 

unnamed

ফিদেলের জন্য গীত- চে গুয়েভারা

তুমি বলেছিলে, সূর্য উঠবে জেগে।
তাহলে চল যাই
মানচিত্রের না-আঁকা পথ ধরে
তোমার ভালোবাসার সবুজ কুমিরটাকে মুক্ত করার জন্য।

চল যাই সব অপমান নিশ্চিহ্ন করে
কালো বিদ্রোহী নক্ষত্রে জ্বলজ্বল করা
আমাদের ভ্রুলেখা দিয়ে
আমরা বিজয় আনবো ছিনিয়ে, নয়ত মৃত্যু পেরিয়ে চলবে যুদ্ধ।

পহেলা আঘাতে সারা বন
জেগে উঠবে তাজা বিস্ময়ে আর ঠিক
তখনই সেখানে শান্ত সঙ্গী সব
তোমার পক্ষ নেবে।

যখন তোমার কণ্ঠ চারদিক ছাপিয়ে আওয়াজ দেবে—
কৃষি সংস্কার, ইনসাফ, রুটি, স্বাধীনতা
আমরা দাঁড়াবো তোমার পাশে
অভিন্ন স্বরে।

আর স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে
দিনের শেষে যখন আমাদের নিখাদ অভিযান সম্পূর্ণ হবে
ঠিক তখনই সেখানে সর্বশেষ যুদ্ধে প্রস্তুত আমরা
তোমার পক্ষ নেবো।

তার বিক্ষত পার্শ্বকে যখন বুনো জন্তু লেহন করতে থাকবে
যখন কিউবার বল্লম তাকে আঘাত করবে
আমরা থাকবো তোমার পাশে
গর্বিত হৃদয় নিয়ে।

কখনও ভেবো না, আমাদের মর্যাদাবোধ প্রাণশক্তি হারাবে
সেই সব অলঙ্কৃত নীল মাছির দ্বারা, উপহার নিয়ে যারা লাফায়-ঝাঁপায়,
আমরা চাই তাদেরই রাইফেল আর শিলার এক টুকরা,
অন্য কিছু নয়।

যদি লোহা আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়
আমরা চাই কিউবার চোখের পানি দিয়ে তৈরি সেই চাদর
যা আমাদের গেরিলা শরীর রাখবে ঢেকে
লাতিন আমেরিকার ইতিহাস অভিমুখে আমাদের অভিযাত্রায়,
অন্য কিছু নয়।

 

 

 

unna

ফিদেল ফিদেল-পাবলো নেরুদা

ফিদেল ফিদেল, জনতা কৃতজ্ঞ
তৎপর শব্দের জন্য, গান-গাইতে-থাকা কাজের জন্য,
সে-কারণে দূর থেকে তোমার জন্য এনেছি
আমার দেশের পানীয়ভরা এক দারুণ পেয়ালাঃ
নিচে থাকা অদৃশ্য জনতার রক্ত
যা প্রচ্ছায়ার ওপার থেকে তোমার কণ্ঠনালী ছুঁয়ে যাবে,
খনির শ্রমিক তারা, যারা হাজার বছর ধরে
জমে যাওয়া জমি থেকে নিঙড়িয়ে এনেছে আগুন।

সাগরের অতলে ডুবে যায় তারা কয়লার খোঁজে
কিন্তু ফিরে আসে তারা তাদেরই ভুত হয়ে;
চিরস্থায়ী রাতে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠে
কর্মদিনের আলো তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা হয়েছে তো আগেই।
কিন্তু তারপরও এইখানে এই পেয়ালা—
এত ভোগান্তির আর এত দূরত্বের পেয়ালা—
কারারুদ্ধ মানুষের সুখ
যে মানুষ আচ্ছন্ন আর আবিষ্ট থাকে অন্ধকারে আর বিভ্রমে,
কিন্তু যারা খনির ভেতর থেকেই আঁচ করে নেয়
বসন্ত আর তার সুগন্ধির আবির্ভাব—
কারণ তারা জানে মানুষ লড়াই করছে
বৃহত্তম স্বচ্ছতায় পৌঁছানোর জন্য।

এবং কিউবাকে দেখে নেয় দক্ষিণের খনিশ্রমিকেরা
লা পাম্পার  নির্জনতাক্রান্ত সন্তানেরা
প্যাটাগোনিয়ার শীতলতার যাজকেরা
টিন আর রুপার জনকেরা
গোষ্ঠিবদ্ধ পাহাড়কে বিয়ে করা মানুষেরা
চুকিকামাতা থেকে তামা তুলে আনা মেহনতীরা
বাসে লুকিয়ে থাকা আদমীরা
বিশুদ্ধ নস্টালজিয়ার ব্যাক্তিরা
ক্ষেতের-মাঠের-কর্মশালার নারীরা
শৈশবকে কান্নায় ভাসিয়ে দেয়া শিশুরা—
এই সেই পেয়ালা, তুলে নাও, ফিদেল!

এত আশায় ভরাট এই পেয়ালা যে
পান করা মাত্র তুমি জেনে যাবে তোমার বিজয়,
আমার দেশের বর্ষীয়ান শরবতের মতো
একজনের নয়, অনেকের তৈরি
একটি আঙ্গুরের নয়, অনেক তরুলতার তৈরি
পানির মাত্র এক ফোঁটা নয়, অনেক নদীঃ
কেবল একজন নেতা নয়, অনেক যুদ্ধ।

এবং তারা তোমায় সমর্থন করে
কেননা আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের সমবেত সম্মানকে
তুমিই তো প্রতিনিধিত্ব কর; কিন্তু যদি কিউবা তলিয়ে যায়
আমরা সবাই তলিয়ে যাব
তবে তাকে আবারও তোলার জন্য আমরা আসবো
আর যদি ফুলের মত ফুটতে থাকে কিউবা
তাহলে আমাদের অর্জিত অমৃতে সে বিকশিত হবে।

এবং যদি তারা কিউবার লোম স্পর্শ করার সাহস দেখায়
তাহলে তোমার মুক্তি পাওয়া হাত দিয়ে
তারা দেখবে সর্বজনের হাত,
আর আমরা তুলে নেবো আমাদের লুকানো হাতিয়ার;
রক্ত আর মর্যাদাবোধ একই সঙ্গে আসবে
আমাদের প্রিয় কিউবার পক্ষালম্বন করেই
তাকে উদ্ধার করতে।