Home / সবিশেষ / শিল্পী বর্মন-এর একগুচ্ছ কবিতা

শিল্পী বর্মন-এর একগুচ্ছ কবিতা

kobeta-123

শিল্পী বর্মন-এর একগুচ্ছ কবিতা


(রোহিঙ্গা)

নৌকায় দুলছে জীবন
আগ বাড়াও কিংবা পিছে
নিশ্চিত মৃত্যু,বাচাঁর ভাবনা মিছে।।
সংখ্যালঘু বলছ, নয় কে?
মননে-বর্মে-কর্মে কিংবা ধর্মে…


চে থেকে ফিদেল

তুমি কোন নাম নও
একটি জীবন্ত স্বপ্ন।
ক্ষমতার মোহ কাম্য নয়
এ এক গাঢ় বন্ধুতার মেল।
যে বন্ধন যাবেনা টুটে
জুড়বেনা আশ্চর্য ম্যাজিকে।
বলে ছিলাম অনুসরন করবো
কিন্তু ৯০ এ তুমিই অনুসারী হলে।।

৩. কারচুপি

বন্ধু বন্ধু যুদ্ধ খেলায়
জয়ের মাল্য তোর কিংবা আমারি।
হয়নি জানা থাক অজানা
ছেড়ে যাওয়ার কারচুপিটা কার-ই।।


আদর্শলিপি

তুমি কি-
এ-বি-সি-ডি,অ-আ-ক-খ, এক-দুই?
আমার পড়া হয়নি কিছুই….


নষ্টালজিক

আশ্বিনে আসেনা শিউলি শিশির ভোর
হারিয়েছে বিসমিল্লা-বিলায়াতের ভৈরবী
ধুনচি আর ঢাকের বাদ্য
হারিয়ে গেছে বিরেন্দ্র ভদ্র
এফবি-ম্যাসেঞ্জার-হ্যোয়াইট অ্যাপে
ভালোবাসা নিষিদ্ধ বহুতায় ফোটে
তবু আজো দেবীপক্ষ ষষ্ঠী থেকে ভাসানী
খুঁজে ফিরি হারানো সাদা কালো দিনগুলি


বেঁচে-বর্তে

নেই স্পর্ধা আমার সূর্য ধরার
প্রয়োজনহীন ঝলমল সভ্যতা
উঠে বসি, চা খাই মধ্যরাতে-
ভাললাগে-রাগহীন পাজঁরাতে
ভাবনায় ছোট আছি-ছোট থাকি
ছোট ছোট স্বপ্নে বেঁচে-ভালোআছি।।

নিশুত রাতের তারারা
ডুবে যায় অন্ধকারের অ্যাপে
স্বপ্ন ভাসে-স্বপ্নে মজে-পিসফুল মধ্যরাতে………


কাদেরী কাব্যমালা

শহীদ কাদেরী উজ্বলতম নক্ষত্রের পতন
সঙ্গতি পূর্ণ উত্তরাধিকার থেকেই বলছি
তার মৃত্যুতে কোন ক্রন্দন তৈরী হয়না।
স্মৃতি:কৈশোরিক নয় আমরন বইতে হয়
বাংলার কবিতার ধারা কে উল্লাসে
মাংস মাংস মাংস বলে গলধকরণ করনি
তাই – তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।।


পুরনো থিম

ভেবেছিলাম কবিতা লিখব
নিযম করে না হোক অনিয়নিত।
শব্দে ফুটবে ঘাসফুল,রৌদ্র-বৃষ্টি-মেঘ
কাজল-টিপ-মুড়ির ঠোঙ্গা-সেভিং ক্রিম
এ-সব আমার বিভাজনহীন পুরনো থিম।।
দগ্ধ দহন ইচ্ছেগুলো হচ্ছে পুড়ে ছাই ভষ্ম
ভাবনা ঘুড়ির টক্কর-ছিঁড়েছে সুতা সত্তর,
সাদা কাগজ থাকে অব্যক্ত শব্দহীন বিবর্ণ
না লেখা পংতিমালা নিশ্চিন্তে বারমাস ।।

১০

বাড়ির বাইরে কাক ভেজেনা শুধু
রিকসা ভিজে অফিস ছুটি আমি
বিষ্টি জলের ফোঁটায় আজি
মুক্ত ঝরায় মন চুইয়ে বন-
বৃষ্টি তুই আজ সৃষ্টিছাড়া
ডাকছে স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া মন

১১

সক্রেটিস বিষপানে বাচোঁ……………………
হিংস্রতার নখে যদি উপরে ফেলে চোথ, ফেলুক
আগুনে পোড়া চামড়া তোমার পচেঁ যায় যদি ? যাক
গুলিতে খুলি উড়ছে যদি নির্দলীয় ৯ জনা,- উড়ুক
যুগের উপযোগী দায়স্বীকার এ বাচোঁ।

১২

তোমার ঔদ্ব্যত আচরন আমায় নির্বাক করে
তোমার অকারন নতজানু আমায় আহত করে
তোমার আগ্রাসী ক্ষুধা আমায় লজ্জিত করে
তোমার একপেসে ভালোবাসা স্বাধিনতা হরন করে।।

১৩

প্রিয় মান্যবরেষু
আপনার উপদেশ,জীবনদর্শন,ঈতিহাস,রাজনীতি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
সাধারণ মানব জীবনকে এপিঠ-ওপিঠ করে ভাজার কৌশল টি অসাধারণ।
ভয় পাবেননা, এ জঙ্গলে একটাও ইঁদুর নেই যে কিনা প্রাণ বাঁচাবে
মহীরুহ সিংহের ।
কিন্তু শেয়ালের সংখ্যা কম নয়
কুমির ছানাদের দায়িত্ব নিয়ে সাবাড় করতে তারা উদ্যত।
ভালইতো, শব্দ- আলোর রোশনায় হারাচ্ছে ক্লেদময় জীবন,
এঈ বির্বতনের বিতর্কিত ভাবনায় আপনি-
আপনি ভালো থাকুন-
এই কামনায়…

১৪

৫২,৭১ নয় আজ আর
নয় চলমান প্রগতির ধারা,
বিদেশী রাষ্ট্র নির্বাচনে স্বক্রীয়
ক্ষমতার তোড়ে বলি গনতন্ত্র।
সাংবিধানিক বাধ্যকতার বাঁধা
সমঝোতাহীন আজব এক ধাঁধাঁ,
গানপাউডার, বোমা, ককটেল ফোটে
ভয়াবহ আতংকে কেউ মরে কেউ বাঁচে।

১৫

ভালোবাসা না প্রেম?
দ্বন্ধ না সন্দেহ?
কান্না না বিষাদ?
হাসি না প্রশান্তি?
আলোচনা না সংলাপ?
তুমি না আমি?

১৬

এই তো চলছে বেশ-
সস্তা দোকানে চায়ের কাপে
চুমুক দিয়েই মুখে পুড়বো  ধোয়াঁ,
দাঁড়িয়ে নেব তোমার কুশল খবর।
অদর্শন ভালো মানিয়ে নেয়ার চেয়ে
স্মৃতির সূতা কাটছি উড়িয়ে দেব বলে।

১৭

হারিয়ে গেছে নুতন চূলায় প্রথম আগুন জ্বালা
হারিয়ে গেছে এদেশ থেকে পিঠা-পুলির পালা।
ভোরের বেলা কুয়াশা ঢাকা মিষ্টি খেজুর রস
সেই রসেতে ভিজবে পিঠা জিভে জল করবে টসটস।
ভাপা পিঠা, ম্যারাপিঠা, পাটিসাপটা, ক্ষিরপুলি
আন্দেলী, এলোকেশী, মালপোয়া আর চন্দ্রপুলি,
আরোছিল নকশীপিঠা, ফুল, চাঁদ, মাছ, তারা।
হারিয়ে গেছে সেই দিন…নবান্নে আজ সুনসান পাড়া।

১৮.
বিরোধী পক্ষ

এই যে শুনুন বলছি আমি আপনাকে
সকাল সন্ধ্যা গাল মন্দে-
একটুও নেই কোন ক্লান্তি যে?
নিজেকে কি ভাবেন্ দশের ভূত-ভবিষ্যত?
উপযাজক না হয়ে
নতুন ঘরানার সাথে হোক বসবাস।
আকর্ষিক হতাশ ঝড়ে কাঁপছে চর্তুদিকটা,
তাই বলে কি থমবে যাবে
বাড়ন্ত দেশের অভ্যন্তরিন কাজটা।।

১৯

নির্মল আনন্দ
চাইনি তোর কাছে,
তোর সাথে
রক্তে রক্তে খেলা,
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মায়া,
লীলায়িত প্রান।
হৃদয় দিয়েছি পুরোটাই
তুই তোর কনামাত্র দিস।।

২০.
নিবে যাওয়া চাঁদ

তুমি আর থাকবেনা আমার সাথে
কোনদিন ফিরবেনা বলে চলে গেছ,
অন্ধকারে তারা ঘসা আমার সত্যি হল।
আলোহীন বারান্দা,নিবে যাওয়া চাঁদ আর ক্যাকটাস
সাথে নিয়ে সংসার একা ঘুমায়।
একটা স্বর্গ অভিপ্রায় ছিল তোমার
যাপিত জীবনে অফিস,আড্ডা,বাজার,
কফি-চা আর আমি,
স্বর্গ অলীক স্বপ্ন নিয়েছি মানি।
দিনে দিনে অভিমান
কি করে প্রতিহিংসা হল?
আহত হলাম আমরা,
কেউ খুঁজবো কখনো আর
হারানো সেই আমাদের দিনকাল।
সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা না হোক দোঁহার
আমার গল্প হবে কাবুলীওয়ালার সাথে,
তারপর, শব্দহীন অন্ধকার বিনিদ্ররাত
একাকী জাগবো আমি
ঘুমাবে সংসার।

২১.

পিছনে স্মৃতিরা তাড়া করে ফেরে
আমি আর প্রবঞ্চনা সমর্থক লাগে,
একদিন সকালে সব ভুলে যাব
যে কোন দিন যেকোন সন্ধায়,
দ্বন্ধহীন জীবন সে বড় পানসে
পদ্মপাতার শিশির-অপূর্ব মাধূর্য।

২২

ওরা করে হানাহানি
যায় মন্দির মসজিদ গীর্জায়,
নয় তারা ভক্ত-
ধর্মের বর্মে ওরা বড় শক্ত।
চারিদিকে ডামাডোল
হাঁকডাক শোরগোল,
সম্পৃীতির কলেবরে
পাবলিক মরে বেঘোরে।।

২৩. মৃত্যুদিন

তোমার ছবিটা দেয়ালে টাঙানো
আজ কোথাও নেই এতটুকু ঝুল,
চারপাশে পুড়ছে ধুপ-
কোন লাল ফুলে সাজেনি সমাধী।
এখন তুমি শব -তাই সাদা,
চন্দন,ফুল,প্রদীপ আর
আমার অন্ধকার।

২৪.

কে তুমি আজও অবসরে
স্মৃতি স্বপ্নে বাজাও তাল,
প্রাত্যহিকতার জাল ছিঁড়ে
তীব্র অভিমান বুকে হানে বাণ।
ভাঙে অবসর কাটে নির্জনতা
হাত ভরে আজ অন্য ভালোবাসা ।

২৫.
বিপনি

আরকত কল্পিত স্বপ্নে বাঁধবি হৃদয়,
সাজাবি ভরা যৌবন?
মমতায় যাকে সঁপে দিয়ে
চললি আপন ঠমকে,
সে তোমায় করে অজান্তে সহস্র বিপনি,
তবু রাখ মন-হারাতে ও মনে।

২৬.

শরৎ নীল তোমাকে দিলাম
ঝরা শিউলী কুন্দ-দোপাটী
বকুল টগর তোমায় দিলাম।
সার্সিটানা জানলা আর
মৃদু আলো নির্জন ঘর,
কাঁপা অধর গোপন খবর
ভালোবাসা তোমায় দিলাম।

২৭

দ্বিধাহীন সমর্পন তোমাতে নয়
তুমিতো পতঙ্গ,চাঁপা অধরে লুব্ধ
স্বনীল দেহ পল্লবে জ্বলে-পোঁড়াও শুধু,
কামনার নীল প্লাবনে রক্তে নাচন
অঙ্গীকারহীন বাহুতে অবকাশ যাপন।

২৮

যুগ যুগ কতকাল পরে
ফিরে এলি তুই
ঝাল মুড়ির ঠোঙায়
পড়ন্ত বিকেলের চা,তে।।
মন ডুবিয়ে আয়েশে
জমানো যতো নালিশে
আগলানো আবদার,
তোর সাথে ছিল আড়ি
সন্ধির চোখ আরশিতে।

২৯

কোন এক ঐশীর প্রতি

তোমায় ছুঁয়ে ঈশ্বর ছুঁয়েছিল যে হাত
তোমার হাসিতে স্বপ্ন সাজাত যে মন
তোমায় নিয়ে দুরন্ত হত যে চঞ্চল ভঙ্গিমা
তুমিই তাকে দিলে অবকাশ-অবিরাম ছুটির।
তোমায় ধন্যবাদ হে-মোর আত্মজা
কৃতজ্ঞতা সন্তানহীন সমস্ত মা-বাবার হয়ে।
ম্যাজিক অভিশপ্ত ভোর আসবেনা তাদের জীবনে
দামামা বাজবেনা সমর্পিত হৃদয়ের নিশ্চিত মৃত্যুতে।।

৩০.

রীতিনীতি পাল্টায়না বর্তায়।
ভিতরের সব কালো ছবি
করে দিতে হবে রঙিন,
আমি খুঁজি আশ্চর্য চেরাগ
স্বর্গে নয় অন্ধকূপে………

৩১.

ঘরে বন্ধ সময়ের সেতুবন্ধ
ভাসেনা কাগজের নেকৈা, ওড়েনা প্লেন
ব্যোম ব্লাষ্টিং,কানামাছি-বউচি
নামগুলো নয় উন্মুক্ত
শ্রুতিহীন অন্দরে মৃত্যু

৩১.

সেইতো তোর একই জীবন এক চিলতে ঘর
নুন আনতে পান্তা যেথায় ফুরায় বারো মাস।
দিব্যি ছিলি খোঁশ-মেজাজে, প্রদীপ জ্বেলে রাতে
কি মোহে ভাসলি এমন জোছনা চাঁদের আরশিতে.