Home / সবিশেষ / মাসুদ পথিক-এর ৫টি কবিতা

মাসুদ পথিক-এর ৫টি কবিতা

masudআজ কবি মাসুদ পথিক-এর শুভ জন্মদিন। বইনিউজের শুভেচ্ছা। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর পাঁচটি কবিতা প্রকাশিত হলো।

মাসুদ পথিক-এর ৫টি কবিতা

আমরা ও একলা মেয়ে

অতএব, পুকুরপাড়ে এই যে ফুল, এইযে জবাফুল
ফুলের বুক কোমল, কে বিঁধালো-রে তন্দ্রাহত শূল
কে কুড়ালো রাত্রি মেয়ের, জঙ্গলে,কেমন দোলাচল
সাপের মতো, মেয়ের দুপুর বেয়ে, নামলো আস্ত ভুল
আমরা তবে বৃন্তচ্যূত,কিছু দুষ্ট ছেলে,উঁকি মেরে দেখি
গুহার ভেতর আবে জমজম,—ফুল্লরা ও জরায়ু, একী!
পাড়ে বসেই একলা মেয়ে, কেবল অতীত কোলে কাঁদে
জল বিঁধলো পাথরে,—জাগলো পাড়া প্রবল অপবাদে
আমরা কী-তবে কান্নামূখর মন, ডুবেছি তার দুই চোখে
নয়তো আমরা জাতিস্বর আজ গলির বাতাসঘরের বুকে

তো

তো, বাসের জানালা থেকে দেখবে, এবং দেখি,
দুটি ঘুঘু উড়ে যায়, কেবল উড়ে যায়
যায় উড়ে দুপুরের সড়ক ঘাটের দিকে
সো এই দৃশ্য খুব আলোচ্য, ঘটনা যেহেতু মায়াময়
পুকুরের ধারনা এইখানে ক্রমে জোড়ালো অব্যয়;
ফলে এই গ্রামদেশে পুনরায়
ফিরে আসি শিল্প-ব্যবসায়ি মন ঢেকে
তো শান বাঁধানো ঘাটে একলা মেয়ে কাঁদে
বাতাসঘরে কে, কার রসুন পেয়াজ কুটে
তো তো আমি-তো দৃশ্য-শিকারের লোভে
কান্নার ভেতর নামি ধীরে ধীরে
যদিও চারধারে তার প্রচল জলেরা থাকেই ঘিরে
তো এটাই-তো জানি পুকুর জলে কতো যৌন-পোকা
ঘুরে ঘুরে নাচে; যায় না তাকে রোকা
এই-না দেখে হলাম আমি, হলাম ভীষণ বোকা
দারুণ পর্যটনের পেটে আচড়ে পড়ে ঢেউ
ওঠে-ভাসে জল একলা মেয়ে সে-ও
তো জলের তলে থাকেই আগাধ কিছু, ফুটে
কার বাড়িতে কে; ছোট মাছ কুটে
আ হা! আর প্রতিবারই হৃদয় দিয়ে দেহ গেলাম লুটে

 

মাইজভান্ডার

ও’বাবা’র পাঁচ-পানঞাতন পাঁচটি জমিন
ঠিক ভাবের মাঠে জাগর;আছেন অমলীন
তবে বাহির তার বস্তু সহায়, দেহের গড়ন
ভেতরে বাবা,ভেতরে মন,আজব তার চরণ
ভাবো তবে, আসলো বাবা’য় কোন -শে দেশ হতে
শুনছি তার রওজা হতে কেউ ফেরে না খালি হাতে
ফলে মাটি মায়ার পাঁচের বুকে এক আজব কবর
কী-উপায়ে দিলো ছড়িয়ে আতর-গন্ধ ভাবের জ্বর
আর, দরগাতলায় কাব্য-রসদ, শূন্য হতে রেশম ছড়ায়
স্পিরিচুয়ল-বাবা মাইজভান্ডার, দুই-লোকেতে বতসাময়
আমি কোথায়? শূন্যের ব্যথায়, বাঁধছি কামের গোপন ঘর
হাইপোথিসিস কুড়িয়ে জমির, বুনেছি এন্টিথিসিস বস্তু-স্বর

আইডেনটিটি কিংবা মাসুদ পথিক’র জন্ম রহস্য
…………………………………..
আমার জন্ম বিষণ্নতার গর্ভে, তবে-তো
আমার মায়ের নাম ‘বিষণ্ন দেবী’ কিংবা ‘বিষণ্ন বেগম’!
গ্রামবাসী বলে, এইডা একটা জাওড়ার পুত
এমন-কি আমার মায়ের নাম ‘কান্না’-ও বলে লোকে
ফলে মায়ের সিঁদুর ধুয়ে দেয়া বৃষ্টির পর
আমি বুনোপাখির পাশে বসে কেঁদেছি খুব
গন্তব্যের দিকে কীভাবে যাবো আমি, আমি-যে ভুলো মন
বনের পাখির সাথেই বসে থাকি আজীবন
শুনি অন্তর্লোকে এইসব রক্তে বহমান পাখিবংশের গান
এবং সত্যটা-কী ভাবি, আমপাতায় এই যে কাঁদাখোঁচা পাখি,
তার বিষ্ঠায় আটকে ছিলো বহুকাল এই মাসুদ পথিক
মা বলল, এই আমার হারানো ধন,
এই আমার নাড়িছেঁড়া রক্তের গান
বাকিরা করলো উপহাস, বলল, এতো জারজ সন্তান
ফলে অভিধান খুলে বসে থাকি, এবং পাখির বুৎপত্তি এ্যালবাম
কোথাও পাবো-কি আমার প্রকৃত জন্মসূত্র নামদাম
অনেকেই আজও বলে শুনি, তুই বড় অজাত বর্ণের কেউ-রে
তবে মূর্খ চাষা আমি, শুনি প্লুরালি-পিতার পতন উৎসব
ঝরাআমপাতায় চড়ে ভেসে ভেসে করি অতীত কলরব
মাটিকে বলি রোজ, মা-গো, আমারে একবার কোলে নিবি?
মা, নিবি?

 

এবং আমার লাশ পড়ে আছে ইতিহাসপুর বিলে

এবং আমার লাশ পড়ে আছে ইতিহাসপুর বিলে
শুনেই ছুটলাম; ভাবিনি তা মৃত না জীবিত
তখনও অবৈধ সঙ্গমে ক্লান্ত দুপুর, চোখের মতোই
বিলের তলায় মৃদু জল করছে কোলাহল,
এবং নির্ঘুম হাঁসগুলো পলিমাখা ঠোঁটে
শিকার করছে বছরের শেষ মাছ
তা বটেও, ১০ হাজার বছর পর দেখা হলো,
গতকাল সন্ধ্যায় চতুর নীলপাখিটির সাথে
গান ছিলো তার বুকেও প্রাচীন ডেল্টার
বীজগান ছড়িয়ে দিয়েই তাকে ধরতে গেলাম,পুনরায়
পালক হাতে বুঝেছি এর গন্তব্যের দিকে সব হারানো নদী;
কেবল দোল খায় আজও দোল খায়
জলের মতো ঠিক আগামির চরে বাঁকানোই আছি আমি
বহতা পলিটাই গন্তব্য ফলনের, এবং এটাই জানি যে
পাখিটির নীল ডিম ফুটেই;
ইতিহাসশিশুর জন্ম হয়েছিলো বিলের কিনারে
আর প্রতিবার আমিই পড়েছিলাম তার খোলসের পাশে
মাতৃদুগ্ধ-কাতর এক শিশু ধাত্রীর প্রতীক্ষায়,
এবং হাঁসেরা নির্ঘুম গৃহে,
ও মাঠে দিগন্তের মতো নিলো বাঁক
ফলে কিছু পথহারা জৈব-কিন্ ডিম বুকে ছড়ালো,
ও রক্তে গড়িয়ে গড়িয়ে হলো গৌড়ের কাহিনি আজ,
আছে আজও বিলের কিনারে কচুরিবনে
ছিন্ন সে ভ্যলুজের গান
এবং যতো সুবর্ণ দিন,ফসলের পরা-টান;
খলসে মাছের নীড় ঘেষে
আমি কুড়িয়ে চলি চুপি ধাত্রীর বুকের দুধ পান শেষে