Home / সবিশেষ / কয়েছ আহমদ বকুলের ‘এই সময়ের কবিতা’

কয়েছ আহমদ বকুলের ‘এই সময়ের কবিতা’

Untitled-3কয়েছ আহমদ বকুলের ‘এই সময়ের কবিতা’

 

 

এসো প্রস্তুত হই – ০১

———————

আমি তো কতবার

নেকাব খুলে খুলে তোমার

আদর প্রহার চিহ্ন এঁকেছি সরল বলয়ে

তোমার ঘন কালো চুলের চঞ্চল নিজস্ব মোহনায়

আমার কামেরা উন্মোতিত হয়ে হয়ে

চুষেছে অবিরাম গ্রীবার কৌলিন পারদ……

সেই অর্থে

আমাদের ভালোবাসাবাসির সেই গোপন আনন্দের অপরাধে

তুমি আমি কতলযোগ্য,

আমাদেরও হওয়া চাই ফারাজ কিংবা তারিশি পরিণাম

তুমি হিজাব করো মাঝেমধ্যে, ইচ্ছে হলে-

ধর্মকর্মে তুমি থাকো নিত্য পেরেশান

আমি তার বিপরীতে

তুমি ভীষণ ক্বিরাত জানো, আমার জানা শুণ্যের ঘরে

তথাপিও ভালোবেসে

আমায় তুমি ঠাঁই দিয়েছ তোমার বুকে – নাভিমূলে

আমায় পেলে উদাস তুমি, এলোথেলো – পৃথ্বী ভুলে আপন খেলা…….

এই অপরাধ তোমায় এখন মারবে জেনো

এখন তোমায় মারবে ওরা ট্রেনে বাসে রেঁস্তোরাতে

মরতে হবে আমাকেও

তোমার আমার নিজের ধর্ম এই অধীকার দিছে ওদের

মারছে যারা তাদের কি দোষ

রাষ্ট্র তোমার করছে আপোস

সেন্টিম্যান্টের গরম কথা প্রথা ভাঙা বলছে যাঁরা

তাঁরা তো আর সাধারণ নয়, রাজা উজির নায়েব হাকিম……..

তুমি তো খুব ধর্ম করো, প্রেমকেও তুমি ধর্ম মানো

ধর্ম মানে মানুষ হত্যা! তুমি ধর্মের কচু জানো।

 

এসো প্রস্তুত হই -০২

———————-

পরেছ মেহদি হাতে চাঁদ রাতে,

আহারে সংসার

মানুষ মরার ভীড়ে মানুষেরা

তুমি আমি

ঈদ পুজা নানাবিধ লৌকিক স্বজ্জায়

একেরে অন্যের করি উপযোগি

যেখানে মানুষ মরে যেখানে রক্তেরা বহে স্রোতের সমান

সেই পুড়া স্বৈরাজে তোমার চুড়িরাও বাজে যেন সেঁতারের সুর

তোমার ঠোঁটেরা লাল

খোঁপায় গোলাপ তরতাজা

ভালভাসি বলেই এই ভীষণ দুর্দিনে

ইচ্ছেরা তোমায় ডাকে উৎসব শেষের বিছানায়

 

এসো প্রেম ধ্বংস করি

————————
মানুষকে ধ্বংসের আগে

ধ্বংস করে দিতে হয় তার মধ্যকার প্রেম

বিধ্বস্ত মন্ত্র জপে জপে প্রেম জন্ম নেয় –

আমি মানুষের কথা বলছি

তুমি কি মানুষ, আমি সে উনি?

কেউনা……

আমরা বরং ধ্বংসযজ্ঞের নিপুন কারিগর

আমরা মানুষ ধ্বংস করতে শিখে শিখে

প্রেমকে পূজা করে নিয়েছি

এসো প্রেম ধ্বংস করি

এসো সকল উল্লাস নৃত্যের আগে

দশ দিগন্তে মানুষ ধ্বংসের জয় পতাকা ছড়িয়ে দেবার আগে

আমরাও শিখে নেই মেঘেরা পোঁয়াতি হলে

জাগ্রত নদীরা পায় নির্ঝর চুম্বন

দীর্ঘ হতাশা শেষে সীমান্ত খুলেছে আরেকবার

প্রস্তুত প্রেয়সী ঠোঁট

বুকের পাহাড় তার গ্রহণ অভীপ্সায় স্ফীত হয়ে আছে খুব

স্পর্শসুখের স্বরে আমরা কি জেনে নেবো

মানুষের পৃথিবীতে মানুষ ধ্বংসের আগে

প্রেম কিছু কিভাবে পুড়িয়ে দিতে হয়!

 

 

দেশপ্রেম ঘোলাটে শ্মশান

—————————

দেশপ্রেমের কবিতার চেয়ে

বিশ্বাস করুন মহাশয় প্রেমের কবিতা বিক্রি হয় সহজে

কবিতার ক্রেতাগুলো বিষম তরুণ বলে নয়

অথবা বেপারী খামারগুলো রাষ্ট্রের অশ্লীল আদর,

আসলে দেশপ্রেম প্রক্রিয়াটা শোর্যবীর্য অকস্মাৎ আশ্বিন তরল

নির্দিষ্ট দিনক্ষণে দেশপ্রেম চিৎকার ফুৎকার

মহাশয়

ক্ষমার ব্যাধিতে হোক আক্রান্ত আমার কলম

স্রোত উঠুক স্রোত নামুক

নিরাপদ ফাল্গুনে ফুটুক ফড়িং ফড়িং প্রেমের স্তবক

দীর্ঘ ব্যবধানে জাগা দেশপ্রেম ভালো থাকুক আপনাদের ঠোঁটের চিপায়

আমার স্বল্প মেয়াদী প্রশ্বাসগুলোকে খুঁজে পেতে দিন কিছু নির্মল বোতাম
আমিও মিছিলে যাই শাহবাগ বুঝি

তনু মিতু বুঝি, ব্লগারের রক্ত বুঝি

প্রকাশকের বাবার নিঃশ্বাস আমাকেও করে দেয় ব্যাকুল

চাপাতি আর শফি হুজুর সমার্থক হয়ে আমায় নীরব থাকতে বেশ উৎসাহ জোগায়
আমিও দেশপ্রেম বুঝি – তিস্তা বুঝি মহাশয়

সুন্দরবন রামপাল আমাকে ও ভাবিত করে

ইলিশ গার্মেন্টস বি এস এফ বুঝি

বিশ্বাস করুন মহাশয় পেট্রোলবোমা হরতাল অবরোধ

নির্বাচন নির্যাতন গুম হত্যা শাসন প্রশাসন সব বুঝি আমি

আমিও দাগী চোর

নিত্য নীরব কত প্রেমের উঠোন ভাঙি দেশপ্রেম ঘোলাটে শ্মশান।