Home / সবিশেষ / পড়তে শেখা মাত্রই আমার মেয়ে চিনতীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম ডিজনি সিরিজের বইগুলো

পড়তে শেখা মাত্রই আমার মেয়ে চিনতীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম ডিজনি সিরিজের বইগুলো

Henry-Sawpon

ইতিহাসের ঘাঁটাঘাঁটি আর লিজেন্টদের জীবনীগ্রন্থগুলো পড়ে ভ্যানগ্যঁগ, কালিদাস হতে কার না ইচ্ছে করে। আমার আশ্চর্য্য লাগে, আজকাল কোথায় সেই ড্রাকুলা…!কোথায় ‘প্রফেসর শঙ্কু’। সত্যজিৎ রায়ের সায়েন্সফিকসনের ভূতগুলো এখনকার ছেলেমেয়েদের ঘাড় মটকে খেতে, ওদের কাঁধে উঠতে পারছে না কেনো? অসলে, এজন্য আমরা, অভিবাবকরাই দায়ি অনেকাংশে। তাহলে, কি হবে, এ-প্রজন্মের সইবার আক্রান্ত খাঁচায় পোষা ময়না-টিয়া ছেলেমেয়ের। হায়! এদের আত্মায় কি ভূত, কিই-বা ভবিষ্যত তৈরি করছি আমরা।
পড়তে শেখা মাত্রই আমার মেয়ে চিনতীর হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম ডিজনি সিরিজের বইগুলো, এরপর সে হয়তো হেনো বই নেই পড়তো না। শেষাবধি সত্যজিতের বই না পড়লে ওর ভালই লাগত না। এখন দূরদেশে থাকে কিন্তু তবুও সেদিনও বলছিলো, ডাউনলোড করে সত্যজিতের তিনটি উপন্যাস নামিয়েছে, সেগুলো পুনরায় পড়ছে।তাই, ভাবছিলাম, বই পড়ার আনন্দ একবার মনের চাতাল রোপিত হলে …বোধহয় কখনোই তা ফুরোয় না।
তাহলে, আজকাল আমি কি পড়ছি? নিয়মিত কিছু না কিছু তো পড়ছিই। তবে লিখতে বসলে বাধ্য হয়েই লেখা সংশ্লিষ্ট বই-ই বেশি পড়তে হচ্ছে। কেননা, তখন সেই লেখার জট ছাড়ানোর তাগিদে প্রয়োজনীয় বইটির খোঁজে সেলফের বইগুলো দেখতে দেখতে শেষমেশ ডিকশনারীটা পর্যন্ত ঘেঁটেঘুঁটে পড়ছি। কিন্তু বিপত্তিটা দাঁড়িয়েছে, ইদানিং বই পাঠের আনন্দ যজ্ঞে চোখটাই এখন আমার প্রধান শত্রু ফলে নতুন কিনে আনা বইগুলো খাবলে-খুবলে একসঙ্গে কয়েকটি পড়তে শুরু করি। তারপর কেনটা ঝাল, কোনটা নোনতা তেমন রুচি মেনে পড়ি।তবে, গভীর জ্ঞানের পরিধিতে এবং রূপকথার রাজ্যে গল্প-উপন্যাসে মতো তন্তুজাল ছড়িয়ে আজকাল কমসম মাথা ঘামাই। কবিতাই লেখা হয় বেশি, বাধ্য হয়েই লিখতে হচ্ছে আলোচনামূলক কিছু প্রবন্ধও। এই যেমন বেশ কিছুদিন যাবৎ ‘ম্যাজিক রিয়ালিজম’ বৈশিষ্ট্যের কবিতা খুঁজতে দোদারসে পড়ছি অনেক কবিতার বই।খুঁজছি কল্পনা ও বাস্তবের অভিব্যক্তিগুলো, সেইসাথে স্বপ্ন আর রূপকথার পরাবাস্তববাদী বর্ণনার ব্যবহারও খুজে বেড়াচ্ছি…। খোঁজাখুঁজির এই যে ছটফটানি, এটাই এখন আমার বই পড়ার আন্দের প্যাটার্ন।

এরপরেও তবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর… সেই তো আমার শেষ ভরসা এখন। ভাগ্যিস! জনতা ক্রেডিট ইউনিয়ন থেকে ১২% সুদে টাকা লোন করে, বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত, আঠারো খণ্ডের সুলভ সংস্করণের রবীন্দ্র রচনাবলী কিনে রেখেছিলাম। শুনেছি, কম মূল্যের এই সেটটি এখন আর কোনও বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় না। অজকাল এইগুলিই আমার একান্ত আপনজন।
আমি এ-ও জানি, এই তাক ভর্তি বইগুলিই আমৃত্যু আমার আনন্দময় নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে। কেননা, অমাদের একমাত্র কন্যাটি সেও তো, অনেকদিন হলো আমাদের ছেড়ে ওর বরের সঙ্গে থাকছে। মেয়েটি সারাক্ষণ বই পড়ায় বুঁদ হয়ে থাকতো, ওর জন্য সব বই আমিই কিনে আনতাম। কিন্তু এখন সে তার পড়ার জন্য ওখানকার একটি এন্টিকশপের বুকসেলফ থেকে পছন্দের যে কোনও একটি বই এক ডলার মূলে কিনে আনে…।