Home / সবিশেষ / পদব্রজে না পায়ে হেঁটে,রফিক আজাদ? ফয়জুল হাকিম

পদব্রজে না পায়ে হেঁটে,রফিক আজাদ? ফয়জুল হাকিম

19ফয়জুল হাকিম    

১।দিনগুলো যে এতো দ্রুত চলে গেছে তা টের পেয়েছে কে? আকাশ তো দাঁড়িয়ে ঠায় সেখানেই যেখানে দেখেছিলাম ।সূর্য চাঁদ অনধকার হাত ধরাধরি করে আছে । বৃক্ষ তাঁর
স্বভাব মতো দরোজা খুলে বসে আছে আগের মতো ।আর নদী তো খুব রাগ করে চেলে গেছে অনেক দূরে । ক্রমশ বদলে গেছে আপনার প্রিয় শহর ঢাকা। আপনি কি পদব্রজে না পায়ে হেটে চলেছেন রফিক আজাদ?

১৯৭১ স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষে মুক্তিবাহিনী ফিরে আসার পর আমাদের গান নাটক কবিতায় নতুন প্রাণ এলো যেন । ছোট কাগজ তখন  তরুণ লেখকদের তরতাজা লেখায় ভরা।
কবিতারও খুব চল। আমাদেরও কবিতার হাত ধরে পথ চলা। কবি আহসান হাবিব, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ ,শহীদ কাদরির কবিতা অনেকটা পথের সঙ্গী । রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, ,হুমায়ুন কবির, আবুল হাসান,আসাদ চৌধুরির  কবিতা তখন  ছোট কাগজে থাকবেই। ঢাকার বাইরে শহরগুলোতে হরহামেশা কবিতা সংকলন বের হচ্ছে। আর স্থানীয় কবিদের কবিতার সাথে ‘নামী’ কবিদের কবিতাও থাকছে।

শহর বরিশালে তখন কির্তনখোলার ঢেউয়ের মতো উপচে পড়ছে কবিতা।কবিতা নিয়ে খুব হৈচৈ।আশির দশকের গোড়াতে কবি ইকবাল হাসানের সাথে সাপ্তাহিক রোববারে মাঝে মাঝে যেতাম । সে-সময়ই কবি রফিক আজাদের সাথে দ্যাখা,পরিচয় ।তিনি রোববারে আমার দুটি কবিতা ছেপে ছিলেন।তাঁর সাথে সে সময়ের পরিচয় তিনি ভুলে যান  নি।বহুদিন পরে যখনি দ্যাখা হয়েছে আগের মতই হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।ভাবতে অবাকই
লাগে। তিনি তরুণদের কাছে প্রিয় ছিলেন।
মজা করে অনেক সত্য কথা  বলতেন কবি রফিক আজাদ ।একবার রোববারের আড্ডায় কে একজন এসে বলেছিলেন,রফিক ভাই ওমুক পত্রিকায় আপনার লেখা দেখেছি।রফিক আজাদ সমান উৎসাহে বলেছিলেন,দেখেছ?পড় নি ? উত্তরদাতা হেসে বলেছিল যে সে পড়ে নি ।রফিক আজাদ জোরে হেসে বলেছিলেন, দেখলেই চলবে ,পড়তে হবে না ।হা হা হা।
…আর এখন  তো সব সেলফি ।

২।অসম্ভবের পায়ে রফিক আজাদের হাটা… কে তাঁকে রুখে? কবিতায় সাহসি উচ্চারণ এখন আর কই ? বলবে, ভাত দে হারামজাদা তা না হলে মানচিত্র খাব।
কেউ কেউ কবি এখন বাকি সব সরকারি কবি।

রফিক আজাদকে মনে করে / ফয়জুল হাকিম  

একজন কবির বিদায়
কতোটা আহত করে তোমাকে
গভীর
এই রাতে

কতোটা নীল হলে আকাশ
বিকেল গড়িয়ে পড়েছিল গতকাল
হাসপাতালের বারান্দায়,মনে পড়ে
রফিক , বৃথাই এইসব
‘দীর্ঘ পথে তুলে নিলে ঝোলাঝুলি’