Home / সবিশেষ / উপন্যাস লেখার জন্য প্রয়োজন গভীর ধ্যান ও পাঠ-স্বকৃত নোমান

উপন্যাস লেখার জন্য প্রয়োজন গভীর ধ্যান ও পাঠ-স্বকৃত নোমান

Swakrito-Nomanস্বকৃত নোমান

চলছে বইমেলা। এবারের বইমেলা, লেখালেখি, বাংলাদেশের কথাসাহিত্য, লেখক-প্রকাশকদের উপর হামলা ইত্যাদি বিষয়ে বইনিউজের সাথে কথা বলেন কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক রবীন আহসান।

 
বইনিউজ : আপনার লেখালেখির শুরুটা কবে থেকে? প্রথম বই কবে প্রকাশিত হয়?
স্বকৃত নোমান : লেখালেখি করছি প্রায় সতের বছর হয়ে গেল। আঠার-ঊনিশ বছর বয়স থেকেই শুরু করি। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপাও হতো তখন। শুরুতে মূলত আমি সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতা লিখতাম। ২০০৬ সালে কবিতাকে ছুটি দিই। কেননা বুঝতে পারি, কবিতা আমাকে দিয়ে হবে না। নাট্যকার সেলিম আল দীনের পরামর্শে গল্প-উপন্যাস লিখতে শুরু করি। আমার প্রথম বই ছিল উপন্যাস। ‘নাভি’। আমার বন্ধু ওয়াসিম আহমেদ ‘ধাবমান প্রকাশ’ ও ‘বনলতা প্রকাশনী’ থেকে যৌথভাবে বইটি বের করেছিল ২০০৮ সালে। পরবর্তীকালে জিনিয়াস পাবলিকেশন্স থেকে এটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সেই শুরু। ভবিষ্যতেও গল্প-উপন্যাস নিয়ে থাকব।

বইনিউজ : এবারের একুশের বইমেলায় আপনার কি কোনো নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে?
স্বকৃত নোমান : এবারের বইমেলায় ‘বালিহাঁসের ডাক’ নামে আমার একটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই বইটি মেলায় এসেছে বলে প্রকাশক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন। প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। এটি আমার দ্বিতীয় গল্পের বই। গত দুই বছরে লেখা মোট ১৪টি গল্প এতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এ বছর বই করার কোনো পরিকল্পনাই আমার ছিল না। কেননা গত বছর আমি লিখতে থাকা (শেষ জাহাজের আদমেরা) উপন্যাসটি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। সেটি নিয়ে এখনো ব্যস্ত। আমি সাধারণ উপন্যাসের দিকে বেশি মনোযোগ দেই। কিন্তু উপন্যাস তো আর একটানা লেখা যায় না। অন্তত আমি পারি না। একটা পর্ব লিখে আমাকে বেশ কিছুদিন বিরতি নিতে হয়। দ্বিতীয় পর্বটা কিভাবে শুরু করব তা নিয়ে অনেক ভাবতে হয়। কখনো একটা প্যারা লিখে সপ্তাহ-দশদিন বিরতি নিই। ভাবি। উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে আমার গতি অত্যন্ত ধীর। এই বিরতির ফাঁকে আমি গল্প লিখি। গত বছরের ডিসেম্বরে এসে খেয়াল করি বিরতির ফাঁকে আমি দশটি গল্প লিখে ফেলেছি! এটি আমার জন্য ছিল বিস্ময়কর। এসব গল্প লেখার কোনো পরিকল্পনাই আমার ছিল না। আইডিয়াটি মাথায় এলো, অমনি লিখতে শুরু করলাম। কোনো গল্পই লিখে শেষ করতে দুদিনের বেশি লাগেনি। দশটি গল্পের শিরোনাম যথাক্রমে : আর জনমে, বালিহাঁসের ডাক, বরাত, পুরুষ, মানুষ, উড়নচণ্ডীর কবুল, বৃষ্টিমুখরতায়, যেখানেই যাও, জ্বলে ওঠা বারুদ, যে আগুন। এই দশটি গল্প এবং ২০১৪ সালে লেখা চারটি গল্পসহ মোট চৌদ্দটি গল্প নিয়ে ‘বালিহাঁসের ডাক’প্রকাশিত হলো। বালিহাঁসের ডাকের গল্পগুলোতে আমি আসলে মানবজীবনের বহুমাত্রিক বোধের দিকে আলো ফেলতে চেয়েছি। কতটা সফল, পাঠক বিচার করবেন।

বইনিউজ : বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের এখন এক দুঃসময় চলছে। একদিকে যেমন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকের অভাব রয়েছে তেমনি সিরিয়াস ধারার লেখকেরও সংকট আছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী?
স্বকৃত নোমান : বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে দুঃসময় চলছে কিনা জানি না, তবে সংকট যে চলছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও শওকত আলীর পর সেই অর্থে বাংলাদেশে বড় মাপের কোনো ঔপন্যাসিক আসেননি। এরপর পড়ার মতো আমি তেমন কোনো উপন্যাস পাইনি। উপন্যাস তো অনেকেই লিখছেন, বইমেলায় গেলে দেখবেন কয়েক’শ উপন্যাস। কিন্তু সিরিয়াস পাঠকের পড়ার মতো সিরিয়াস উপন্যাস কই? আমার চোখে পড়েনি। আমি উপন্যাস লিখি। তাই আমাকে প্রচুর উপন্যাস পড়তে হয়। বাংলাদেশের ভালো উপন্যাস না পেয়ে আমি কলকাতার এবং বিশ্বের অন্যান্য ভাষার সেরা উপন্যাসগুলো পড়ি।
আপনার কথা সত্য, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক এখন নেই বললেই চলে। হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক এখনো আসেননি। তবে আসবেন, আমি আশাবাদী। শূন্যস্থান শূন্য থাকে না। ভরাট হবেই। সিরিয়াস ধারার উপন্যাস রচনার প্রতি তরুণদের প্রবণতা খুব একটা দেখতে পাই না। অজ্ঞাত কারণে সবাই কবিতার দিকে ঝোঁকেন, উপন্যাসের দিকে সহজে কেউ আসেন না। আমি এর একটা কারণ বের করেছি। উপন্যাস লেখার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যায় করতে হয়। এত দীর্ঘ সময় ব্যয় করার মতো ধৈর্য অনেকের থাকে না। কথাটি ঔদ্ধ্যতপূর্ণ হলেও সত্য যে, বর্তমান সময়ের তরুণরা রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যেতে চান। সাহিত্যের জন্য যে নিবিষ্টতা দরকার সেটি তাদের মধ্যে খুব একটা নেই। আমি সবার কথা বলছি না। হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে সেই নিবিষ্টতা অবশ্যই আছে। তবে তারা ফোকাসে আসেন না। অন্তরালে থেকে নিভৃতে কাজ করে যান। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম।
আমি মনে করি, উপন্যাস রচনার জন্য প্রয়োজন গভীর ধ্যান এবং পাঠ। এ দুটি না হলে আমাদের কাথাসাহিত্যের চলমান সংকট কিছুতেই কাটবে বলে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী মানুষ। অচিরেই বাংলাদেশে বড় মাপের ঔপন্যাসিকের আবির্ভাব ঘটবে, আমি আশাবাদী। এই বন্ধ্যাকাল থাকবে না, কাটবেই।

বইনিউজ : গত বইমেলায় লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে। এরপর একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে এবং আরো তিনজন লেখক-প্রকাশকের উপর হামলা হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলায় এর কোন প্রভাব পড়বে কি?
স্বকৃত নোমান : না, আমি মনে করি না নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে। হামলা তো রমনার বটমূলে বৈশাখের অনুষ্ঠানেও হয়েছিল। নেতিবাচক কোনো প্রভাব কি পড়েছে? পড়েনি। পড়বে না। আপনি যে কাজে বাঁধা দেবেন, মানুষ সেই কাজটি বেশি বেশি করবে। অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে কিংবা লেখক-প্রকাশকদের ওপর হামলা করে হত্যাকারীরা যদি মনে করে, এর মধ্য দিয়ে তারা বইমেলার মতো একটা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানকে ভুন্ডুল করে দেবে, সেটা তাদের ভুল ধারনা। তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। মানুষ দ্বিগুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এবারের বইমেলায় আসবে। গত বছর অবরোধের কারণে যে ক্ষতি হয়েছিল প্রকাশকদের, এবার তা পুষে যাবে। লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের আড্ডা জমে উঠবে। তবু আমি মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।

বইনিউজ : মুক্তচিন্তায় একের পর এক লেখক-প্রকাশক হত্যা হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন এর মধ্য দিয়ে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে?
স্বকৃত নোমান : রুদ্ধ করা হচ্ছে না, রুদ্ধ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। যারা এই অপচেষ্টা করছে তারা নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হবে। আমি নিশ্চিত। পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে। মুক্তচিন্তা আদিকাল থেকেই ছিল। মানুষ তো বনে-জঙ্গলে ন্যাংটো বসবাস করত। মুক্তচিন্তা ছিল বলেই মানুষ আজকের এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত অতীতেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। সারা পৃথিবী জুড়ে। মুক্তচিন্তা কখনো মুক্ত হয় না। মুক্তচিন্তার পদে পদে বিপদ থাকে। এই বিপদকে মোকাবিলা করেই মুক্তচিন্তকরা এগিয়ে যান, সমাজকে এগিয়ে নেন। তাদের ওপর মৃত্যুর খড়গ নেমে এলেও তারা হাসিমুখে বরণ করে নেন। পশ্চাৎপদরা যতই চেষ্টা করুক মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করতে, কোনো লাভ হবে না। পারবে না তারা। হত্যা করে মুক্তচিন্তা বন্ধ করা যাবে না। অতীতে যায়নি, ইতিহাস বলছে।

বইনিউজ : সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের অনুপ্রানিত করবে এমন কিছু বলবেন?
স্বকৃত নোমান : আমি বরং সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্যের কিছু পাঠের অভিজ্ঞতা বলি। আমার সর্বশেষ পড়া উপন্যাস নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর ‘আ গ্রেন অব হুইট’ বা ‘গমের দানা’। বুলবুল সরওয়ারের অনুবাদ। অসাধারণ উপন্যাস। হাজার হাজার মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, হাজার হাজার মানুষের রক্ত ঝরছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ লড়ছে। কেনিয়ার স্বাধীনতা লাভের সকরুণ প্রেক্ষাপটে রচিত এক মহান শিল্পকর্ম। আফ্রিকার জাতিভেদ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরবদের গোত্রপ্রীতি থেকেও ভয়ংকর। সেই জটিলতা আঁকতে নগুগি তাঁর উপন্যাসে আশ্রয় নিয়েছেন এমন সব ঘটনার, গল্পচ্ছলে যা সামাজিক প্রথার ভিত্তি ও রঙ চিনতে সাহায্য করে। কাহিনীর কোথাও তিনি টেনে এনেছেন অবতার মুসাকে আর কোথাও প্রতীকি যিশুকে। এক আশ্চর্য বিপন্নতা ও বিদ্রোহ এই উপন্যাসের পরতে পরতে গুমরে গুমরে কাঁদে। কেনিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নায়ক জুমু কেনিয়াত্তা হিমালয়ের মতো বিশাল ও অস্পষ্ট ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মঞ্চের পেছনে। সার্বিক বিচারে ‘গমের দানা’ পৃথিবীর সেরা উপন্যাসগুলোর মধ্যে একটি। সাহিত্যের পাঠকদের অবশ্যই উপন্যাসটি পাঠ্য বলে আমি মনে করি।
২০১৫ সালে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় দেড় শ গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছে আমার। আনুমানিক হিসাব। বেশিও হতে পারে। মিলান কুন্ডেরার ‘অস্তিত্বের অসহনীয় লঘুতা’, ওরহান পামুকের ‘মাই নেইম ইজ রেড’, মারিয়া ভার্গাস ইয়োসার ‘সামরিক সারমেয় কথা’ অর্ধেক পড়ে রেখে দিয়েছি। টানছিল না। অন্য কোনো সময় হয়ত শেষ করব। হেরমান হেসের ‘সেই নগর’ গল্পটি ভালো লেগেছে খুব। মূল জার্মান গল্পের র‌্যালফ ম্যানহাইমকৃত ইংরেজি অনুবাদ ‘দ্য সিটি’ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন জিএইচ হাবিব। ভালো অনুবাদ। গল্পটি ভালো লাগার প্রধান কারণ এর গতিময় ভাষা। একটি নগরের উত্থান-পতন এর বিষয়। মাত্র পাঁচ পৃষ্ঠার গল্প। কিন্তু ঠাস বুনন। হোর্হে লুই বোর্হেসের ‘আলিফ’ গল্পটি ভালো লেগেছে এর দার্শনিক ভাষ্যের কারণে। বোর্হেসের গল্পে সবসময় একটা দর্শন আমি খুঁজে পাই। তার শ্রেষ্ঠতম গল্পগুলোর মধ্যে ‘আলিফ’ অন্যতম। একই কারণে ভালো লেগেছে ‘মৃত্যু ও কম্পাস’ নামে তার আরেকটি গল্প। এটির অনুবাদও জিএইচ হাবিব। অমিতাভ রায় অনুবাদকৃত গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘বেচারি এরেনদিরা ও তার নির্দয় ঠাকুমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনী’ গল্পটি মার্কেজের অন্যসব গল্পে চেয়ে ভালো লেগেছে। ‘শত বছরের নির্জনতায় যে রূপকথা, উপকথা, ফ্যান্টাসি পেয়েছিলাম, গল্পটিতেও পাই এসবের কিছুটা। তার মশহুর ম্যাজিক রিয়েলিজম তো রয়েছেই।
আসলে লেখালেখির জন্য জানালাটা খুলে দিতে হবে। বিশ্বসাহিত্যের প্রকৃত পৃষ্ঠাগুলো পড়তে হবে। পৃথিবীর মহৎ সাহিত্যকর্মগুলো সম্পর্কে ধারণা না থাকলে তো ভালো কিছু লেখা সম্ভব না। তাই বিশ্বসাহিত্য পাঠের কোনো বিকল্প নেই।

বইনিউজ : পাঠকের সাথে বইয়ের সেতুবন্ধন একুশের বইমেলা ছাড়া আর কিভাবে গড়ে তোলা যায়?
স্বকৃত নোমান : শুধু এক মাস নয়, সারা বছর এই চর্চাটাকে জারি রাখা। যেমন বছরব্যাপী দেশের প্রতিটি জেলায় বইমেলার আয়োজন করা। এখন যেভাবে জাতীয় গণমাধ্যগুলো একুশের বইমেলাকে প্রচার-প্রচারণা দেয়, একইভাবে জেলাভিত্তিক বইমেলাগুলোকেও স্থানীয় পত্রিকাগুলো প্রচার-প্রচারণা দেবে। জাতীয় পত্রিকাগুলোও প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আসতে পারে এক্ষেত্রে। বইকে সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতি ইউনিয়নে একটি করে পাঠাগার গড়ে তোলা দরকার। প্রতি ইউনিয়নে একটি করে স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে, অথচ দেখুন, সংস্কৃতি কেন্দ্র নেই। একটি পাঠাগার নেই। বই তো মানুষের মস্তিষ্কের খোরাক। বই পড়লে মানুষ সভ্য হয়ে গড়ে উঠবে। প্রত্যেক ইউনিয়নে সাস্থ্য কেন্দ্র থাকলে সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে না কেন? পাঠাগার থাকবে না কেন? সরকারকে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। এ ছাড়া বই পুরস্কারের রেওয়াজটা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পুরস্কার হিসেবে বই দিলে বইপাঠে তাদের অভ্যাস গড়ে উঠবে।

বইনিউজ : বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা নিয়ে লেখক হিসেবে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
স্বকৃত নোমান : বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবারের বইমেলার আয়োজন অনেক ভালো। পরিসর বাড়ানো হয়েছে। তবে একটা সমস্যা রয়েই গেছে। লিট্যাল ম্যাগাজিনের স্টলগুলো এখনো একাডেমি চত্বরেই রেখে দিয়েছে। লিট্যালম্যাগ চত্বর লেখকদের প্রাণকেন্দ্র। সবাই ওখানে আড্ডা জমায়। এটা কি উদ্যানে আনা যেত না? তার মানে মেলা দুই ভাগে রয়েই গেল। একাডেমি কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আশা করি দুই ভাগে রাখবে না। এবারের মেলায় আগের চেয়ে আরো বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক এই কামনা। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক।