Home / সবিশেষ / পাঠক ঠিকই বইমেলায় যাবে এবং মেলা জমবে-আমীন আল রশীদ

পাঠক ঠিকই বইমেলায় যাবে এবং মেলা জমবে-আমীন আল রশীদ

                                                                   Amin-Al-Rasheedআমীন আল রশীদ

আসছে একুশে বইমেলা ২০১৬। কবি আমীন আল রশীদ-এর সাথে বইনিউজের কথা হয় তাঁর নতুন-পুরাতন বই-সাহিত্য-বইমেলা নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক রবীন আহসান।

বইনিউজ : আপনার লেখালেখির শুরুটা কখন থেকে? প্রথম বই কবে প্রকাশিত হয়? প্রথম বই প্রকাশের কোনো মজার ঘটনা পাঠকের সাথে শেয়ার করতে চান?
আমীন আল রশীদ : আমার লেখালেখির শুরু স্কুলজীবনেই। দেয়ালপত্রিকা বানাতাম। তবে এর আনুষ্ঠানিক চর্চা শুরু হয় ইন্টারমিডিয়েটের পরে যখন লিটল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত হই। আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালের একুশে বইমেলায়। ‘মানুষের গল্প’ নামে এ বইটি প্রথম আলো ও যায়যায়দিনে প্রকাশিত কিছু ইতিবাচক সংবাদের সঙ্কলন। এটি প্রকাশ করেছিল শ্রাবণ প্রকাশনী। এ বইটি যেদিন প্রকাশিত হয়, সেদিন আমার ছোটবোনের প্রথম মেয়ে তুনতুনের জন্ম হয়। অর্থাৎ প্রথমবার মামা হবার অভিজ্ঞতা হয় এবং ওইদিনই বইমেলায় যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়েছিলাম, কিন্তু মাসখানেক পরে ওই রোগী মারা যান। খবরটা শুনে খুবই মর্মাহত হই।

বইনিউজ : আসছে একুশের বইমেলায় আপনার কী কোন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে?
আমীন আল রশীদ : এবার বইমেলায় আমার কোনো বই আসছে না। তবে সম্প্রতি ‘কমিউনিটি রেডিও হ্যান্ডবুক’ নামে একটি অ্যাকাডেমিক বই বের করেছে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)। এ বইটি মূলত রেডিওর কর্মীদের জন্য লেখা।

বইনিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নন-ফিকশন বইয়ের সংখ্যা এবং লেখক কমে যাচ্ছে, তার মানে কী পাঠক নন-ফিকশন পড়তে আগ্রহী নয়?
আমীন আল রশীদ : নন-ফিকশন বইয়ের সংখ্যা এবং লেখক কমে যাচ্ছে- এটি খুবই কমন অভিযোগ। কিন্তু নন-ফিকশনের প্রতি পাঠকের আগ্রহ কমেছে বলে আমার মনে হয় না। ভালো লেখার প্রতি পাঠকের আগ্রহ বরাবরই ছিল এবং আছে। মান নিশ্চিত করাটা জরুরি। পাঠক ছাইপাশ লেখা যেমন বোঝে, তেমনি ভালো লেখা কোনটা তাও বোঝে।

বইনিউজ : আপনি কী মনে করেন এই সময়ে তরুণদের মধ্যে চিন্তার জাগরণ ঘটায় এমন বইয়ের প্রতি আগ্রহ নেই?
আমীন আল রশীদ : চিন্তার জাগরণ ঘটায় এমন বইয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমেছে কি না- সেটি খুব জটিল প্রশ্ন। এ বিষয়ে একটা জরিপ চালানো যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় শুধু চিন্তার জাগরণমূলকই নয়, ইন্টারনেট তরুণদের সামগ্রিক পাঠাভ্যাসকেই প্রভাবিত করেছে, মানে কমিয়ে দিয়েছে। আমি নিজেও এখন আগের চেয়ে অনেক কম পড়ি বা পড়তে পারি- এটিই হলো বাস্তবতা।

বইনিউজ : মুক্তচিন্তায় একের পর এক লেখক-প্রকাশক হত্যা হচ্ছে, আপনি কী মনে করেন এর মধ্য দিয়ে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে?
আমীন আল রশীদ : এর মধ্য দিয়ে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করার একটা চেষ্টা তো অবশ্যই আছে। কিন্তু মুক্তচিন্তা বলতে আমরা কী বুঝি, তাও পরিস্কার হওয়া দরকার। আমার কাছে যা মুক্তচিন্তা, আরেকজনের কাছে সেটি অন্য অর্থ বহন করতে পারে। তবে মত প্রকাশের জন্য আটক, গ্রেপ্তার, খুন এর কোনোটাই কাম্য নয়। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো বহুমত। ওপেন সোসাইটি বা মুক্তসমাজের জন্য অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রথম শর্ত।

বইনিউজ : গত বইমেলায় লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে এরপর সম্প্রতি একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে এবং আরো তিনজন লেখক-প্রকাশকের উপর হামলা হয়েছে। আগামী একুশের বইমেলায় এর কোন প্রভাব পড়বে কী?
আমীন আল রশীদ : বইমেলায় এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমার মনে হয় না বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে। এ ঘটনায় লেখক-প্রকাশক, বিশেষ করে মুক্তমনা লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে একটা আতঙ্ক বা একটা ভয় হয়তো কাজ করবে, কিন্তু আমার বিশ্বাস, পাঠক ঠিকই বইমেলায় যাবে এবং মেলা জমবে। বিশেষ করে এখন পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল, হরতাল-নাশকতা নেই। মানুষের মধ্যে আপাতত স্বস্তি রয়েছে। ফলে আশা করা যায় বইমেলায় এবার বিক্রিও ভালো হবে।
 
বইনিউজ : বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা নিয়ে লেখক হিসেবে আপনার কোন পরামর্শ আছে?
আমীন আল রশীদ : একুশের বইমেলা বাংলা ভাষার সংগ্রাম, এর মর্যাদা ও অহঙ্কারের সঙ্গে মিশে আছে। সুতরাং বাংলা একাডেমির প্রতি একটাই নিবেদন, এই মেলাকে সব ধরনের বাণিজ্যিকীকরণ আর দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত রাখতে হবে। বইমেলার অব্যবস্থাপনাও আমাদের সব সময়ই পীড়া দেয়। প্রচণ্ড ধূলোবালি, মেলায় আসার পথে যানজট, ভালো টয়লেট ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং সেইসাথে ভীড়ের মধ্যে নারীদের নিগ্রহ করার ঘটনাও নতুন নয়। তাছাড়া বইমেলার মতো একটা নান্দনিক উৎসবে যেসব স্টল নির্মাণ করা হয়, অনেক সময়ই তাতে কোনো নান্দনিকতার ছাপ থাকে না। যার যেভাবে খুশি বাঁশ-কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করেন। দূর থেকে দেখলে ঠিক বোঝা যায় না, ওখানে বইমেলা হচ্ছে নাকি গরুর হাট বসেছে। এক্ষেত্রে প্রতি বছরই মেলায় স্টল নির্মাণে স্থাপত্যবিদ, শিল্পী ও লেখকদের নিয়ে একটা কমিটি করা যেতে পারে।