Home / সবিশেষ / লেখালেখি গভীর ধ্যান এবং পরিশ্রমের কাজ-শাহাদুজ্জামান

লেখালেখি গভীর ধ্যান এবং পরিশ্রমের কাজ-শাহাদুজ্জামান

Shahaduz-Zamanলেখালেখি গভীর ধ্যান এবং পরিশ্রমের কাজ-শাহাদুজ্জামান

আসছে একুশে বইমেলা ২০১৬। কথাশিল্পী শাহাদুজ্জামান-এর সাথে বইনিউজের কথা হয় তাঁর নতুন-পুরাতন বই-সাহিত্য- বইমেলা নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক -রবীন আহসান।

বইনিউজ: আসছে একুশের বইমেলায় আপনার কী কোন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে?
শাহাদুজ্জামান: আমি জীবনানন্দ দাশের  জীবনের উপর ভিত্তি করে একটা উপন্যাস লেখার কাজ করছিলাম অনেকদিন ধরে, এবার সেটা শেষ হয়েছে এবং এবছর তা প্রকাশিত হবে। তবে বইমেলার সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে বলে মনে হয় না। বইমেলায় প্রকাশিত হবে আমার ‘ভাষান্তর সমগ্র‘ পাঠক সমাবেশ থেকে, ‘নির্বচিত গল্প‘, গদ্যপদ্য প্রকাশনী থেকে এবং আমার চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখার সমগ্র ‘চলচ্চিত্র কথা‘, চৈতন্য প্রকাশনী থেকে।

বইনিউজ: বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের এখন এক দুঃসময় চলছে, একদিকে যেমন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকের অভাব রয়েছে তেমনি সিরিয়াস ধারার লেখকেরও সংকট আছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী?

শাহাদুজ্জাান:  লেখালেখি গভীর ধ্যান এবং পরিশ্রমের কাজ বলে মনে করি। বাজারের দিকে তাকিয়ে চট জলদি লেখালেখি করলে সাহিত্য একটা সংকটের ভেতরই পড়ে। তেমন প্রবনতা এখন নানাভাবেই দেখা যায়। তবে বিচ্ছিন্নভাবে মেধাবী কাজও  হচ্ছে।

বইনিউজ: আপনার লেখালেখির শুরুটা কখন থেকে? প্রথম বই কবে প্রকাশিত হয়?
শাহাদুজ্জামান: আমার লেখালেখির শুরু আশির দশকের মাঝামাঝি লিটল ম্যাগাজিনের মাধ্যমে। মাওলা ব্রার্দাস আয়োজিত পান্ডুলিপি প্রতিযোগীতায় শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পায় আমার ‘কয়েকটি বিহবল গল্প‘, যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে। সেটিই আমার প্রথম প্রকাশিত বই।

বইনিউজ: গত বইমেলায় লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে এরপর সম্প্রতি একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে এবং আরো তিনজন লেখক-প্রকাশকের উপর হামলা হয়েছে। আগামী একুশের বইমেলায় এর কোন প্রভাব পড়বে কী?

শাহাদুজ্জামান: এর একটা প্রভাব বইমেলায় প্রচ্ছন্নভাবে পড়বে বলে মনে হয়। এই ধরনের নৃশংস ঘটনায় স্বভাবতই লেখক প্রকাশকরা বেশ সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেবেন।

বইনিউজ: মুক্তচিন্তায় একের পর এক লেখক-প্রকাশক হত্যা হচ্ছে, আপনি কী মনে করেন এর মধ্য দিয়ে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে?
শাহাদুজ্জামান: মতপ্রকাশের পরিসর নানাভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে দেশে। মুক্তচিন্তায় বাধা সৃষ্টি কালে কালে সবসময় ঘটেছে কিন্তু  সাম্প্রতিককালে এই বাধার মাত্রা যেমন তীব্র হয়েছে, ধরন যেমন উগ্র এবং বীভৎস হয়েছে তেমনটা এদেশের কখনও হয়নি। এমন একটা পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হলো তার রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটা আমাদের খুব ভালোভাবে বুঝে নেয়া দরকার, তাহলেই এই অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

বইনিউজ: সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের পাঠকদের অনুপ্রানিত করবে এমন কিছু বলবেন

শাহাদুজ্জামান: সাহিত্যের দিগন্ত এখন নানাদিকে প্রসারিত হচ্ছে। সাহিত্যের নানা শাখার ভেতরকার দেয়ালগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। এবছর বেলোরুশের যে লেখিকা নোবেল পুরষ্কার পেলেন তিনি মুলত সাংবাদিক, তিনি সাংবাদিকতা আর সাহিত্যের ভেতর মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। আমি  ব্যাক্তিগতভাবে এই সাহিত্য দর্শনে বিশ্বাস করি। আমার লেখাপত্রে আমি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধের মুল উপাদানের মিশেল ঘটাতে পছন্দ করি।

বইনিউজ: পাঠকের সাথে বইয়ের সেতুবন্ধন একুশের বইমেলা ছাড়া কীভাবে গড়ে তোলা যায়?
শাহাদুজ্জামান: একুশের বই মেলার বাইরেও সারা বছর দেশের নানা প্রান্তে বই মেলা হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সাহিত্য, সাহিত্যিকদের কেন্দ্র করে নানারকম অনুষ্ঠান হতে পারে।

বইনিউজ: বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা নিয়ে লেখক হিসেবে আপনার কোন পরামর্শ আছে কী?
শাহাদুজ্জামান:  বই ভাব, ভাবনা, আবেগ চর্চার জায়গা , বইয়ের মেলার পরিবেশটাও এমন হওয়া উচিৎ যাতে সেখানে গেলে এই অনুভতি, প্রবনতাগুলো মুক্ত হবার সুযোগ পায়। এজন্য বড় পরিসর দরকার, বইপত্র দেখার সুশৃংখল ব্যাবস্থা দরকার,  শব্দ দুষন মুক্ত এলাকা দরকার। বাংলা একাডেমি যে বই মেলার এলাকা একাডেমী চত্বরের বাইরে প্রসারিত করেছে তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে বইয়ের ষ্টল ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা আরো সুশৃংখল হওয়া দরকার, প্যাভেলিয়নের সংখ্যা বাড়ানো দরকার,  লেখক, পাঠক ইনফরমালি কথাবার্তা বলতে পারবে তেমন আরো পরিসর দরকার।