Home / সবিশেষ / নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-এর একগুচ্ছ কবিতা

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-এর একগুচ্ছ কবিতা

kobeta-4নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-এর একগুচ্ছ কবিতা

কাকে ডাকছি

অন্যরা বাইরে। বৃত্ত ক্রমশ ঘিরে আসছে ভূমি। আমরা একফালি মাটির বসতি। স্রস্তচরে শাদা বালিকাদল। ওরা আঙুলের ইশারায় ঝড়কে ডাকে। অন্যরা বাইরে। আমরা বড় বিষন্ন হয়ে আছি। আমাদের বিষন্নতা হাওয়ার মৃত্যুতে। আমরা কাকে ডাকছি- আয় আয়, আয় আয়?

উড়ন্তসন্ধ্য

ওইপারে আলোধোয়া মেঘ সন্ধ্যা উড়ায়। সন্ধ্যার শরীরে থোকা থোকা ছায়া। রাত্রি ছায়া মেলেছে এখনি। দুর্নিবার ডিসেম্বরের চাঁদে কুয়াশাও কলঙ্ক। বয়েসী ঝিলের ত্বক গাঢ় কালো হয়। পরিপাটি পাতাগুলি ঝরে পড়ে থাকে। মাটিকে ঢেকে রাখে। উড়ন্তসন্ধ্যা এই মেঘ চিনবে না রাত্রির ডাকে।

কানাকুয়া পাখি

রাত্রিকে ধরে রাখো ভোরের আগে আগে- যখন দক্ষিণের হাওয়া এসে ঘুরে চলে যায়। ধরো তাকে শহরে ধূলিঝড়ের আগে; উত্তরের বাতাস উড়ার আগে। ঘরটা খানিকটা সাজাও শয্যাসহ কুসুম। ঝুলকালি গেঁথে নাও নারকেলের পাতায়। রাত্রি যদি উষ্ণ হয় তারপর আঁখিঠারে ভাঙো পথের বিস্তার। এইপথে গতকাল মৃগতৃষা ছিলো তক্ষকের। তার মায়ায় নদী ছিলো কানাকুয়া পাখি। গাছেরা নুয়ে পড়বে, পাতারা ঝরে যাবে জেনো। বুটিদার চাদর আছে সে তোমারই শরীর- বিছিয়ে দিও। রাত্রি উষ্ণ হলে আধেয় তোমারই হবে।

ফুলের বিষ

তারা দুপুরকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলিকে সাজিয়ে রেখেছে প্লাস্টিক কালারে। তাদের আরক্তিম গালে সূর্যের ছায়া। তাদের হাতের আঙুলে লেবুর সুবাস। তারা কি প্রতারিত? কোন ফুলের বিষে রাত্রি হবে ভোর?

হাওয়ার সহোদর  

রাত্রি হাওয়ার মতো ঝরে পড়ে। ঝরে পড়ে দরজার ওপাশে ধূলিময় করিডোরে। কাল ছিলো বন্ধের দিন। আমি দরজা খুলিনি আর। ওপাশে রাতদিন রাত্রির কারবার। আমি আর দরজা খুলবো না। যদি জানলার গরাদ ভাঙতে পারি। বাইরে যাবো। অথবা বাতাস হবো হাওয়ার সহোদর।

ঘাটে বাঁধা নদী

অনতিদূর ঘাটে বাঁধা নদী কার প্রতীক্ষা করে? এই রাত তাকে দংশন করে; ¯রাতের কম্পনে টের পায় না কেউ। পৃথিবীর অন্য কোথাও আনন্দ বুঝি! বাইরে দূরে পড়ে আছে বাহির। কারও অলক্তরাগ পদমূলে জ্বলে স্মৃতি। আমি জিজ্ঞাসার অতীত খুঁড়ি। সেতো তেমনই আছে। নদী আছে তারপরও প্রতীক্ষারত। উত্তরের সমস্ত গন্ধ এসে পড়ে। আমি থাকি, থাকো তুমিও। এভাবেই বিভেদ হওয়া ভালো। বাহিরে দূরে কোথাও যন্ত্রণা আনন্দ হয়ে আছে।