Home / সবিশেষ / দোলা আহমেদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

দোলা আহমেদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

dolaদোলা আহমেদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

তুমি কে?
সুদূর কোন নীহারিকার আলো
না কি সাগরের জ্বলন্ত লাভা?
প্রাচীন কোন সভ্যতার জনপদ
যাকে আবিস্কার করেছে নৃ-তাত্ত্বিকরা
অনেক যতনে কোন মাটির গহীন জীবাশ্ম থেকে

তুমি কি সেই তুমি!
তারারা দেখেছিল যাকে কোন এক চাঁদনি রাতে
মেসোপটেমিয়ার কোন এক খোলা মাঠে
হয়তো বা সিন্ধু,হরপ্পা কিংবা মহেনঞ্জোদারোর
প্রাচীন সভ্যতায় তুমি ছিলে সাহসী কোন্ যোদ্ধা?
তুমি কি প্রাচীন নীল নদের নীল ঢেউ
টাইগ্রিস, ইউফ্রেটীসের খরস্রোতা জলরাশি?

তুমি কি সেই তুমি
যাকে জীবনানন্দ দাশ আবিস্কার করেছিলেন
বিশ্বপ্রকৃতির রূপের মাঝে
কবিগুরু পেয়েছিলেন তার সুরে বীণায়
খ্যাপা নজরুলের কবিতার আগ্নি-স্ফুলিঙ্গ
না কি প্রাচীন সেই চর্যাপদের কোন সিদ্ধাচার্য?

মুক্ত কোন মেঘের ভেলা না কি শরতের নীল আকাশ
অপরূপ কোন চাঁদনি রাতের মায়াবি আলো
না কি সাগর জলের সাদা ঊর্মিমালা?
পাইন বনের ঝড়ে পড়া সাদা বরফের সৌন্দর্য
না কি কলরডার অবাধ্য স্রোতধারা?

তুমিই তো আমার সেই তুমি…..
ফাল্গুনের আগুন ঝড়া কৃষ্ণচূড়ার লাল
বীর শহীদের বুকের তাজা রক্তের শক্তি।

 

ক্যানভাস

চিত্রকর ছবিটি আঁকলেন
তার জীবনের
সব ভাল লাগা আর গাঢ় ভালবাসার রংদিয়ে
মনের মাঝে যত আনন্দ ছিল
সেই তুলিতে আঁকলেন ….
আঁকলেন সব কিছু
সেই ক্যানভাসে স্থান হলো
সাগর,নদী,তরুলতা,আকাশ,…
প্রকৃতির সব কিছুর
তার জীবনের সাফল্যের সাথীরা ও বাকি রইলো না
সেই ক্যানভাসে
শুধু হলো না এতটুকু স্থান
একটা মনের
ছোট্ট একটা হদুল পাখির
যে কিনা শুধুই আশায় থেকেছে
চিত্রকরের ক্যানভাসে হবে তার স্থান
একটা ছবি হবে তার
সেও পাবে ভালবাসার ছোঁয়া
মেঘের কাছে বলে তার মনের কথা
নদীর জলে ভাসায় দু’ফোটা অশ্রু
চাতকের মত চেয়ে থাকে সে
চিত্রকরের ক্যানভাসের দিকে….
হঠাৎ একদিন
পাখিটির মনের সাধ পুরণ হলো
কেউ একদিন তাকে তার ক্যানভাসে স্থান দিল
আঁকলো তার ছবি
তবে সেটা কোন ভালবাসার ছবি ছিল না
ছিল…..
ঝড়া পাতার মাঝে শক্ত পরে থাকা
মৃত ছোট্ট একটা হলুদ পাখি
যার নেই কোন সাথী
কোন ভালবাসার ক্যানভাসে হলো না
হতভাগার শেষ ঠিকানা…..

 

অজানায়

হেঁটেছি আমি ক্রশ ক্রশ পথে
গোধুলী লগ্নে মেঠো পথের ধুলো উড়িয়ে
সব পাখিরা ঘরে ফেরে
সব ফুলেরা ঘুমিয়ে পড়ে
আমি শুধু হেঁটে চলেছি
অজানা রাস্তায়
মহাশ্বশানের দিকে
সেই প্রাগৈতিহাসিক সময়ের খোঁজে
যেখানে একদিন দেখা হয়েছিল
নিজের সাথে নিজের
আবার নিজেকে আবিস্কার করতে

লক্ষ লক্ষ লাশে ভরা নদীর পাড়
সাগরের উর্মিমালায় এখন শুধুই বিষাক্ত লবনের ছোঁয়া
প্রকৃতির বুকের সবুজ গিয়েছে কবেই মিশে
বিবর্ন পাতায়—–
আকাশের নীল হারিয়েছে আজ সীসার আবরণে
বিষাক্ত ক্যাকট্যাসের আঘাতে
সব স্বপ্ন আজ ক্ষত-বিক্ষত
তবু ও পেলাম না
সেই ঠিকানা….
মহাশ্বশানের জলন্ত চিতা
সব কোলাহল শান্ত
সব চাওয়া-পাওয়ার অবসান
ভালবাসা আজ সবুজ জলের মাছ

 

বৈষ্টমী দিদি

ফাল্গুনের এক ভরা পূর্নিমায়
বৈষ্টমী দিদি মুখের দিকে ভাল করে তাকিয়ে বলেছিল….
‘তোর কপালে ভালবাসার রাজ তিলক আঁকা
কেষ্ট ঠাকুর তোকে বুকের মাঝে রাখবেন সারা জীবন…
তুই দেখে নিস’
মনে মনে অনেক হেসেছিলাম
ভেবেছিলাম….
এ কি কথা বলে !!
বুকের মাঝে কি তাই কাউকে ধরে রাখা যায়??
আরশীতে কত বার নিজেকে দেখেছি
কত খুঁজেছি কপালের সেই রাজ তিলক
জনে জনে শুধিয়েছি…..
কারো চেখে পড়ে নাই
সবাই বলেছে….
পাগলের প্রলাপ

কত ফাল্গুন এলো গেলো
বাগান ভরে আম্র মুকুলে
মৌমাছিরা পাগলের মত ফুলের শোভায় মাতোয়ারা
আষাঢ়ে নামলো আকাশ কালো করে গভীর জলধারা
শরতের আকাশে মেঘেদের লুকোচুরি
প্রকৃতির বুকে বারে বারে এলো-গেলো নব যৌবনের আনন্দ
শুধু এলো না ললাটের রাজটিপ আলো করে
আমার সোনা বন্ধু
মন-প্রান-অন্তর আত্মার মাঝে যাকে দিয়েছি স্থান
শরীরের রক্ত ধবনীর মাঝে যেমন প্রবাহিত হয় রক্ত কনিকা
প্রতিটি শ্বাসে যেমন হৃদপিন্ডের শব্দ থাকে
শুধুই তার ধ্যানে নিমগ্ন নিশি দিন
প্রাণের মাঝে চলে তার বিচরণ
প্রাণের আলো প্রাণেই থেকে গেল……
কেউ এলো না

বৈষ্টমী দিদি….
আর কত অপেক্ষায় কাটাবো পূর্নিমা রাত
কত ফাল্গুন আসবে যাবে?
যমুনাতে যে জল গিয়েছে শুকিয়ে
পথ পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ গিয়েছে কোঠরে
কোকিলের আর নাই কোন সুর
রাম ধনুর রং গুলো আজ বড়ই বিবর্ন
বিষাক্ত সীসার উতপ্ত আবরনে
চারিদিকে আচ্ছাদিত আজ
তুমি কি তবে দেখেছিলে…..
আমার সর্বনাশের মরণ চিহ্ন??

 

সভ্যতা!!

এ কোন সভ্যতার মাঝে
দাঁড়িয়ে আছি?
যেখানে অভুক্ক মানুষে আর কুকুরে করে লড়াই
খাদ্যের জন্য
রক্তপিপাসু মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য
করে রক্তের হলি খেলা
যে আগুনের জন্য আজো
স্বর্গের প্রমিথিউজকে নির্মম নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়
সেই আগুনে আজ ধ্বংস হচ্ছে হাজারো নিস্পাপ প্রাণ
যে নারী ছিল সভ্যতার অগ্রযাত্রায়
সবুজ ফসলের সোনা ফলেছিল
তারই হাতে
সেই নারী আজ পন্য
পন্য নারীর শরীর
এই সভ্যতার মায়াজালে……