Home / সবিশেষ / প্রিয় শৌণক-ইশরাত জাহান ঊর্মি

প্রিয় শৌণক-ইশরাত জাহান ঊর্মি

israt-urmiপ্রিয় শৌণক

ইশরাত জাহান ঊর্মি

প্রিয় শৌণক,

বিয়ের প্রায় একযুগ পর স্বামীকে “প্রিয়” সম্বোধন করতে যথেস্ট ভাবতে হয়। কিন্তু ভেবে দেখলাম, তুমি আমার প্রিয়ই আছো। সম্বোধনটা তাই সততার সাথেই লেখা। আমার উপর আস্থা রাখতে পারো।
মেইল না করে চিঠি লিখছি কেন সেও এক রহস্য। কখনও কিছু কিছু ঝাঁকি থাকে যা মানুষকে এমন নাড়ায় যা সব সিস্টেমেই একটা গণ্ডগোল করে ফেলে। সম্ভবত: আমারও তেমন কিছুই হয়েছে। এমন কোন পরিবর্তন হয়ে গেছে যা কিছু খুব স্বাভাবিক তার থেকে একটু বাইরে কিছু করতে মন চাইছে।

আজ থেকে ঠিক ২১ দিন আগের কথা। আমরা খাওয়ার টেবিলে। খেতে খেতে আমাদের মধ্যে টুকটাক খুনসুটি। আমরা আমাদের কল্পিত প্রেমিক-প্রেমিকা নিয়ে কথা বলছিলাম। হাসছিলাম, খাচ্ছিলাম। তুমি হঠাৎই বললে, সত্যি সত্যিই তোমার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করে। আমি একটু থমকে গেলাম। ভাবলাম ঠাট্টা। কিন্তু সাম হাউ আমার আঁচ করার শক্তি খুব প্রবল। আমার মনে হলো, কথাটা মিথ্যা না। কারণ তোমার বলা কথাটার মধ্যে একধরনের দীর্ঘনি:শ্বাস মিশে ছিল। আমি তোমাকে চেপে ধরলাম। তুমি তো খালি এড়াচ্ছো তখন, হাসছো আর বলছো, আরে কি একটা বললাম, আর তুমি এই নিয়ে পড়লে, তুমি জানো না আমি ঠাট্টা করি সবসময়। আমি ঐ সময় কিছু বলিনাই। কিন্তু মনে মধ্যে একটা ছোট কাঁটা যেন বিঁধেই রইলো।
আমি কিছুটা উৎকর্ণ রইলাম। দুএকটা দিন। সন্দেহবাতিকগ্রস্ত স্ত্রীদের মতো তক্কে তক্কে থাকলাম প্রতিটা মুহূর্তে। তারপর ঠিকই পেলাম অপেক্ষার ফল। তুমি সকালে বাথরুমে ঢুকলে আমি তোমার ফোন চেক করলাম। খুবই অন্যায় জানি। একেবারেই অন্যের পায়জামা খুলে উঁকি দেয়ার মতো অসভ্যতা। কিন্তু আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না। ফোনে দেখলাম শুধু একটা অক্ষর দিয়ে সেভ করা একটা নাম্বারে তোমার সাথে রর্যাদনডম কথা হচ্ছে কোন একজনের। অক্ষরটা হচ্ছে ইংরেজি জে। আমি দ্রুত ঢুকলাম তোমার ম্যাসেজ অপসনে। হ্যাঁ একটু খুঁজতে পেয়েও গেলাম। জে তে হলো জুঁই। জুঁই নামের কোন একজনের সাথে তোমার অনেক কথা হচ্ছে, এসএমএস চালাচালি হচ্ছে, তবে এসএমএস এ খুব প্রেমবিষয়ক কোন বাক্য নেই। ‍”এই আসছি আধাঘন্টা পর”, “খেয়েছো?”, “ওষুধ খেয়েছিলে”, “কি কর”-এই ধরনের বাক্য। কিন্তু সত্যি বলতে কি শৌণক, আমার ভেতরে কেউ যেন ঢেলে দিয়েছে তরল বিষ, এমনই যন্ত্রণা হচ্ছিল আমার। আমার গলা-বুক জ্বলে যাচ্ছিল। বিয়ের পর থেকে আমরা খুব সাধারণ দম্পতি। সাধারণ এবং সুখী। মেয়েদের নিয়ে তোমার ছোকছোকানী নেই, আমার প্রতিও যে খুব র‍োম্যান্টিক এমন নয়, কিন্তু নারী বিষয়ক কোন বিষয়ে তোমাকে তোমার অন্য বন্ধুদের মতো হ্যাহ্যা করতে দেখিনি। আমারও অন্য কোন পুরুষের প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণ ঘটেনি। তাই খুবই জলভাত মার্কা একটা সম্পর্ক আমরা পার করেছি। তোমার আর কারো সাথে সামান্যতম সম্পর্কও হতে পারে আমি কেন জানি কল্পনাও করিনি।
কেন করিনি শৌণক? তুমি কি আমার সম্পত্তি। কোন নারী বা পুরুষই কি অপর নারী বা পুরুষের সম্পত্তি হতে পারে? শোন তাহলে। আমি যখন কিশোরী, তখন নচিকেতার গানের খুব ভক্ত ছিলাম। জানোই তো, আমরা মফস্বলে থাকতাম। সেখানে একটু আলস্য মাখানো জীবন,একটু সবুজ লতা-পাতা, একটু অকারণ আবেগ এসব নিয়েই বাস। কলেজে পড়ি, প্রেমের চিঠি পাই, বিপ্লব করার কথা ভাবি আর উজ্জ্বল চোখের চাপদাড়ির সুদর্শন সুকন্ঠ নচিকেতার জীবনমুখী গান শুনি। তো একবার ঢাকায় আসছি কাজিনের বাসায় বেড়াতে, কাজিনের ননদ খুব ঠোঁট উল্টে বলল, ও নচিকেতা, ও তো আমার জান! আমার বান্ধবীদেরও।
আমি কেমন থমকে গেলাম। ফিরে এসে নচিকেতার গান শোনা বলতে গেলে বাদই দিলাম। সবাই যার জন্য পাগল তাকে আমার দরকার নাই। অ্যাজ ইফ নচিকেতা শুধু আমার জন্যই গান করে। তো এইরকম অবুঝ আর পাগল ছিলাম আমি। শৌণক, আমি ভাবতাম যে আমার হবে তার আর কারো কাছে যাওয়ারই প্রয়োজন হবে না কোনদিন। আমি চিরদিন নিজেকে নতুন রাখবো, সে আমাতেই বুঁদ হয়ে থাকবে।
ভেবেছিলাম, কিন্তু ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য কাজ কি কিছু করেছিলাম? নাকি তোমাকে টেকেন ফর গ্রান্টেড ভেবেছিলাম। যার সাথে খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি তাকে নতুন করে আবিষ্কারের কিছু নাই তাইই ধরে নিয়েছিলাম?
যাই হোক। তারপরের ঘটনায় আসি। জুঁই নামটা আমার খুব পরিচিত লাগলো। মনে হলো, কোথায় যেন শুনেছি শুনেছি। স্মৃতির উপর একটু জোর খাটাতেই বেরিয়ে এলো। তোমাদের এনজিও থেকে যে সেইফ হোম চালাও তোমরা জুঁই নামের মেয়েটি সেখানে থাকে এখন। কদিন আগে ওর ঘটনাটা নিয়ে খুব তোলপাড় হয়েছিল। জুঁই গরীব ঘরের মেয়ে, কোন এক আত্নীয়র খপ্পরে পড়ে ট্রাফিকিং এর শিকার হচ্ছিল বিদেশে। মেয়েটা বুদ্ধিদীপ্ত। শেষমুহুর্তে ও ঘটনা টের পায়। তারপর কিভাবে যেন তোমরা শেষ মুহুর্তে আইওএম আর পুলিশের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করো। মেয়েটা তারপর থেকে তুমি যে এনজিও প্রতিষ্ঠাতা সেই এনজিও এরই সেইফ হোমে থাকছে।
আমি এক সকালে তুমি অফিসে আর আমাদের ছেলে স্বর্ণাভ স্কুলে বেরিয়ে গেলে সেইফ হোমে গেলাম। আমাকে মানে বসের বউকে এখানে দেখে কিছুটা যেন বিব্রত রিসেপসনের মেয়েটা, সুপারভাইজার ভদ্রলোক। আমি কোন ভনিতা করলাম না, স্পষ্ট বললাম,
জুঁইকে ডেকে দিন আমি একটু কথা বলতে চাই।
সবাই কেমন যেন আমতা আমতা করছিল। বুঝতে পারলাম, তোমার সাথে জুঁই এর ঘটনাটা এখন অনেকেই জানে, আমি গাধা তাই কিছুই বুঝিনি।
জুঁই আমার সামনে আসলো। চোখে জ্বালা ধরানো ফর্সা, একটু মোটার দিকে, লম্বা বেনী করা জুঁই। চেহারা খুব আহামরী কিছু না, সম্ভবত ওর গায়ের রঙই ওর দুগর্তির কারণ হয়েছিল। জুঁই কিন্তু আমাকে দেখে বিশেষ ভয় পেল বলে মনে হলোনা। শান্ত-দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এলো আমার দিকে। আমি তোমাদের প্রায় সব স্টাফকে বিস্মিত-বিব্রত করে ওকে নিয়ে বসলাম সেইফ হোমের সবুজ বাগানে, সিমেন্টের বেঞ্চিতে।
খুব কোমলভাবে জানতে চাইলাম,
: কেমন আছো জুঁই।
: ভালো আছি।
মেয়েটা বলল। আমি বললাম,
: জুঁই তোমার সাথে শৌণকের কি সম্পর্ক?
মেয়েটা লেখাপড়ার গণ্ডী স্কুল পর্যন্ত। কিন্তু সে খুব সাবলীল,বলল,
: আপনি যে সম্পর্ক ধারণা করে আজ আমার কাছে এসেছেন সম্পর্ক সেটাই।
: তোমরা কি একে অপরকে ভালোবাসো?
: আমি বাসি। উনি কতটা বাসেন আমি নিশ্চিত নই।
: কেন?
: হয়তো আপনি। আপনার কারণেই হয়তো দ্বিধা আছে তার আমার বিষয়ে। আর আপনাদের ছেলে।
: ঠিক কতটা পর্যন্ত এগিয়েছো তোমরা?
জুঁই একটু হাসলো, বলল,
: এটা কি ঠিক বর্ণণা করার মতো বিষয়? সবকিছু কি মুখে বলে জানানো যায়? আপনি তার স্ত্রী, এতদিনে আপনারই তো বুঝা উচিৎ ছিল।
বলতে কি শৌণক, আমি একটু অসহায় বোধ করি। আমার স্লিভলেস ব্লাউজ ভিজে যায় অসহাত্বের ঘামে। আমি বোকার মতো প্রশ্ন করি,
: কেন বুঝি নাই আমি জুঁই?
ও বলে,
: সম্ভবত: আপনাকে বুঝতে দ্যায় নাই ম্যাডাম। আপনার প্রতি একটা দায়িত্ব তো আছে তাই না? দায়িত্ব আছে ছেলের প্রতিও। তাই হয়তো এতদিন চেপে গেছেন। শৌণক কিন্তু বলে, ওর আর ভালো লাগে না…
কথা শেষ না করেই থেমে যায় জুঁই। আমি চেপে ধরি,
: কি ভালো লাগে না জুঁই?
ও নিশ্চুপ।
: আমাকে? আমার সংসারকে?
জুঁই উত্তর দ্যায় না হয়তো ওর খারাপই লাগে আমার জন্য।
তারপর বলে,
: বিষয়টা ঠিক সেরকমও নয়, আপনাকেও শৌণক খুবই পছন্দ করে, কিন্তু…আর একটা কথা কি আমি বা আমাদের সম্পর্ক কিন্তু আপনার জন্য হার্মফুল কিছু নয়, আমরা একসাথে থাকার কথা ভাবিনি, আপনার আর আপনার সংসারের জন্যই।
আমি কিছুটা ধরতে পারি। আমি আসলে পুরোন হয়ে গেছি শৌণক। তুমি নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছো। কিন্তু তুমি অনৈতিক কিছু কোনদিন করোনি। তাই আমার আর স্বর্ণাভর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছো না। কিন্তু নাউ ইউ আর ইন লাভ। আর আমি বড় বেশি নি:সন্দেহ ছিলাম তোমার ব্যাপারে, ভেবেছিলাম এই পাশার দান কোনদিন উল্টাবে না। বিয়ের একটা দলা পাকানো কাগজ আলমারীতে উঠানো থাকলেই কি আর অপরজনকে পুরোটা পাওয়া যায় শৌণক? আমি ভাবতাম বটে, এই জীবনে যেকটা দিন পেয়েছি, ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলে তোমার সাথে কাটিয়ে যাবো, কিন্তু ভালোবাসাও আসলে চর্চা করতে হয়, জিইয়ে রাখতে হয়। আমি সংসারের আরও পাঁচ কাজে তোমাকেই যে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছি, আমাদের লিভিংরুমের ডিভানটাকে যতটা ঝাড়পোছ করি প্রতিদিন, সম্পর্ককে তো তেমন ঝাড়ঁপোছ করিনি। তাই আমরাই বধূঁয়া আনবাড়ি গেছে কবে কবে আমারই আঙিনা দিয়া…আমি টেরও পাইনি।
জুঁই আবার বলে,
: আপনি যখন এসেছেনই সব শুনে যান। শৌনক কিন্তু আমার সাথে শুয়েছেও। একাধিকবার। তবে ওর চেয়েও আমার আগ্রহেই ঘটনাটা ঘটেছে বেশিরভাগ সময়।
আমি ততক্ষনে উঠে দাঁড়িয়েছি। আমার মনে হলো, মেয়েটি আমাকে কোন ম্যাসেজ দিতে চায়, তা না হলে এই মেয়ের এত সাহস হওয়ার কথা নয় যে কোন বিবাহিত পুরুষের সাথে নিজ ইচ্ছায় শুয়ে তা আবার তারই স্ত্রীকে সগর্বে ঘোষণা দিতে পারে। আমি বললাম,
: তাতে কিছু যায়-আসে না জুঁই। শোয়া আর এমন কি ব্যাপার, তারচেয়েও অনেক বড় ব্যাপার তো ঘটেই গেছে। তোমরা দুজন দুজনকে ভালোবেসেছো, কাছে চেয়েছো, শোয়া আর এমন কি।
জুঁই একটু হাসে। বলে,
: এই কথাটা ঠিক না ম্যাডাম, শরীরও অনেক বড় ব্যাপার, আপনি হয়তো জানেন না।
আমি কিছু বলি না। জানি না। আমি অনেক কিছুই জানি না। তা প্রমানিত।

শৌণক, কষ্ট হচ্ছে, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এ-ও মনে হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের জীবনেই একবার পাথরের ঘা সহ্য করার অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। ফুলের আসন আর ফুলের বসন যাদের,তাদের একবার হলেও রাস্তার ধূলোয় দাঁড়ানো উচিৎ। ভেবে দেখলাম, আমি আসলে বড্ড আলুনী, বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। আমার মধ্যে ভালোবাসার মতো কোন উপাদান আসলে নেই। কোন মাদকতা নেই, আবার দু:খের দহনও নেই। মোটকথা আকর্ষণ করার মতো কিছু নেই। চোখের বালি’র বিনোদীনিকে যেজন্য ভালোবেসেছিল মহেন্দ্র। জুঁইএরও একটা কষ্টকর,সংগ্রামময় অতীত আছে যা তোমাকে ওর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে, ওকে ভালোবাসতে অনুঘটক হয়েছে। আর আমি? চিরটাকাল আমাকে সুখী, ভ্যাদভ্যাদে, নিজের বউ হিসেবেই পেয়ে এসেছো, নতুন কিছু তো দিইনি তোমাকে ছেলেটা ছাড়া।

আমি তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি শৌণক। তোমার জীবন থেকে আমি সরে যাবো। না, তোমার সাথে এই বিষয়ে কোন কথা বলিনি আমি। কথা বললে আমি জানি, তুমি হয়তো মিথ্যা বলতে। বলতে, এসব মিথ্যা,ষড়যন্ত্র বা আমার ভুল বোঝা অথবা সব স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে। বলতে, আর এরকম হবে না, নতুন করে চলো শুরু করি।
আমার এই চলে যাওয়ায় সমাজ-সংসার হয়তো তোমাকে ছিঁড়ে ফেলবে, আমার এমনকি তোমার আত্নীয়স্বজনও হয়তো ছিছি করবে, তোমার নীতি-নৈতিকতা, চরিত্র নিয়ে কথা উঠবে। কিন্তু আমি তো জানি, তুমি এসবের কিছুই নও। তুমি তো খুব সুন্দরী, চটকদার বা নিতান্তই কারো শরীরের প্রেমে পড়োনি। বরং খুব সাধারণ সাদাসিদে একজনকেই ভালোবেসেছো। তুমি একজনকে ভালোই তো বেসেছো, এর বেশি তো কিছু নয়, কিংবা কে জানে হয়তো ভালোও বাসোনি, শুধু আরেকজনের ভালোবাসার দাম দিয়েছো মাত্র।

স্বর্ণাভর কথা ভেবো না। বাচ্চারা খুব একোমোডেটিভ হয়। সব মানিয়ে নেবে। এখন হয়তো একটু কষ্ট হবে ওর, কিন্তু মানিয়েও নেবে। আর না নিলেই কি? অন্য কারো জন্যই নিজের জীবনটা নষ্ট করো না শৌণক। জীবন তো মানুষের একটাই।
শুধু একটা প্রশ্ন দিয়ে চিঠি শেষ করি। শৌণক, আজ আমাকে খুব পুরোন, ম্যাড়ম্যাড়ে লাগছে বলে তুমি নতুন একজনকে খুঁজে পেলে, ওকেও তোমার একসময় যদি খুব পুরোন লাগে, তখন? ওর চেয়েও সংগ্রামী, ওর চেয়েও আকর্ষনীয় কাউকে যদি পেয়ে যাও, তখন? আচ্ছা ভালোবাসার চেয়েও বড় কিছু কি আছে, যার জন্য দুজন মানুষ সারাজীবন পরষ্পরকে আঁকড়ে থাকে? কি সেই উপাদান? শৌনক, জীবনের বাকী দিনগুলো আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো, অবশ্যই খুঁজবো।
ইতি,
বিভাবরী
বিভাবরী ঘুম থেকে উঠে দেখে বালিশ ভিজে গেছে চোখের জলে। সে সামান্য হাঁপায়। এই স্বপ্নের অর্থ কি? স্বপ্নের মধ্যেই এতবড় চিঠি সে লিখেছে শৌণককে! আশ্চর্য্য। রোদ উঠে গেছে। শৌণক কখন অফিস চলে গেছে তাকে না জানিয়েই। ঘুমের ঘোর কাটলে বিভাবরী হাসে। ধুর ধুর, এইগুলা কিছু হইলো। জুঁই নামে কেউ কোথাও নাই, আর শৌণকেরও খেয়ে দেয়ে অনেক কাজ আছে। এইসব প্রেম-ফ্রেম তার এতো আসে না। কি যে সব ফালতু স্বপ্ন সে দ্যাখে। হাসে আর ভাবে। কিন্তু যেকোন কারণেই হোক সারাদিন আর কোন কাজে তার আর মন লাগে না। কেন যে!