Home / প্রকাশনা উৎসব / কবি আবুল কাসেম-এর নতুন কাব্যগ্রন্থ “অন্ধকারে আলো আসে” পাঠ উম্নোচন অনুষ্ঠান

কবি আবুল কাসেম-এর নতুন কাব্যগ্রন্থ “অন্ধকারে আলো আসে” পাঠ উম্নোচন অনুষ্ঠান

কবি আবুল কাসেম-এর নতুন কাব্যগ্রন্থ “অন্ধকারে আলো আসে” পাঠ উম্নোচন অনুষ্ঠান ও আবৃত্তি সন্ধ্যা এলিফ্যান্ট রোডের দীপনপুরে, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৬টা অনুষ্ঠত হয়। আয়োজনে ছিল শ্রাবণ প্রকাশনী, কথা কবিতা আবৃত্তি, লিটল ম্যাগাজিন চোখ।

নতুন কাব্যগ্রন্থের পাঠ উম্নোচন অনুষ্ঠান ও আবৃত্তি সন্ধ্যা অতিথি হিসাবে ছিলেন: অধ্যাপক কাশীনাথ রায়, আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী এবং প্রকাশক রবীন আহসান

কবির পরিচয় পাঠ করেন ফাহমিদা শিকদার বৃষ্টি। আয়োজনের সামগ্রিক বিষয়ে এবং কবি আবুল কাসেমের সাহিত্যকম, লেখালেখির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কথাকবিতাআবৃত্তির সমন্বয়ক ও চোখ লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক নাজমুল আহসান।

বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং নতুন কাব্যগ্রন্থ “অন্ধকারে আলো আসে” থেকে তিনটি কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির মধ্যে দিয়ে এই কাব্য গ্রন্থের পাঠ উম্মোচন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে কবির বেড়ে ওঠা, কাব্যচর্চা, বিভিন্ন কাব্য গ্রন্থ থেকে কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলেন কবি আবুল কাসেমের সাহিত্য জীবনের অন্তরঙ্গ বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক কাশীনাথ রায়। এরকম নিভৃতচারী কবির কবিতার বই প্রকাশ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবীন আহসান।

এর পর কবি আবুল কাসেমের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্হ ‘নিবাসে চারপাশে’, ‘আশায় ভালোবাসায়’, শীত সন্ধ্যার রঙধনূ’, ’রক্তহীন আলোকে আধাঁরে’, ‘পানির দেশে পানির তৃষ্ঞা’, ‘অন্ধকারে আলো আসে’ থেকে আবৃত্তি করেন। আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ শহীদুল ইসলাম নাজু, নাজমুল আহসান, মাসুম আজিজুল বাসার, অম্লান দত্ত অভি, অনিকেত রাজেশ, লুলুয়া ইসহাক মুন্নী, শামীম আহসান, নাঈমা রুম্মান রুমা, মিসবাহিল মোকার রাবিন, অনন্যা রেজওয়ানা, খালেদ হাসান মুন, শেখ সাদী মারজান, শহিদুল ইসলাম পাপ্পু এবং শাহ ফিয়াজ আহসান প্রাণন।

কবি আবুল কাসেম তাঁর বক্তৃতায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তার ধ্যানমগ্ন কাব্যচর্চা আরো গতি পাবে এ আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা তাবেদার ই রসুল চান্নু।

 

কবি আবুল কাসেম
জন্ম ১ জুলাই ১৯৪৪, নূরপুর, পাবনা। পিতা মরহুম মহসিন আলী। মাতা মরহুমা হামিদা বেগম। পিতা ছিলেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আবুল কাসেম পাবনা আর. এম. একাডেমী হতে ম্যাট্রিকুলেশন; সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ পাবনা হতে আই এ; বাংলায় অনাস সহ স্নাতক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৬৯ সালে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা কর্মে নিয়োজিত হন। দেশের বিভিন্ন সরকারী কলেজে অধ্যাপনা শেষে সবশেষে মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ২০০১ সালে অবসর গ্রহন করেন। বর্তমানে অবসর যাপন করছেন নিজ বাসভবন নূরপুর, পাবনায়।

কবি আবুল কাসেম। ষাটের দশক থেকেই কাব্যচর্চার সূচনা। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ লিখেছেন প্রচুর। নিরন্তর, সাহিত্যপত্র, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজসহ দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর পান্ডিত্যের ছাপ সুস্পস্ট। তাঁর কাব্য গভীর জীবনবোধের সংগে অন্তঃপ্রেম ও রূপময়তার অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছে। শৈল্পিক সৌন্দর্য তাঁর প্রবন্ধ ও কবিতার অনন্য্ বৈশিষ্ট্য। দেশের বিভি্ন্ন সরকারি কলেজ সহ বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘ সময়। খুলনায় বয়রা মহিলা কলেজে অধ্যাপনার সময়ে খুলনার সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজনে এবং খুলনা বেতারের শিল্প সাহিত্য বিষয়ক নানা অনুষ্টানে তাঁর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে অধ্যাপনার সমযে বাগেরহাটে সংলাপ সাহিত্য আসরের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। পিসি কলেজ ক্যাম্পাসের খোলা মাঠে রাতে ভরা পূর্নিমায় সাহিত্য আসর সেই সময়ে সাড়া জাগিয়ে ছিল বাগেরহাটে। নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত কলেজ বার্ষিকী ও একুশের সংকলন ‘মুখর বনমালা” ও সম্পাদনা দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্হ ‘নিবাসে চারপাশে’, ‘আশায় ভালোবাসায়’, শীত সন্ধ্যার রঙধনূ’, ’রক্তহীন আলোকে আধাঁরে’, ‘পানির দেশে পানির তৃষ্ঞা’, ‘অন্ধকারে আলো আসে’। প্রবন্ধ গ্রন্হ ‘ কুসুমিত ইস্পাত ও অন্যান্য প্রবন্ধ’।