Home / খবর / গণগ্রন্থাগার গড়তে চান বিচারপতি সিনহা

গণগ্রন্থাগার গড়তে চান বিচারপতি সিনহা

s-k-sinha

গণগ্রন্থাগার গড়তে চান বিচারপতি সিনহা

 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সৌজন্যে

সারা জীবনের উপার্জন থেকে খরচের টাকা রেখে বাকিটা দিয়ে একটি গণগ্রন্থাগার গড়ে তুলতে চান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, চারতলা ভবন করে তার পুরোটাতেই এ গ্রন্থাগার গড়ে তুলবেন, এজন্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বই কিনেছেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট বার আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবসরে যাওয়ার পর একটি গ্রন্থাগার গড়ে তুলবেন জানিয়ে এস কে সিনহা বলেন,যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের এটা এক রকম প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটা বিষয় আমি প্রকাশ করিনি। আমি একটি পাবলিক লাইব্রেরি করছি। এই লাইব্রেরিতে ইতোমধ্যেই ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বই কিনেছি।

“বিচারপতি আব্দুর রহমানও জানেন। আমি চারতলা ভবন করে আমার সারা জীবনের যে আয়, চিন্তা করেছি আমার খরচ বাদ দিয়ে সমস্তটা আমি একটা লাইব্রেরির পেছনে খরচ করব। আমি আশা করব- আমি এখান থেকে সরে যাওয়ার পর অন্য বিচারক যারা আছেন তারাও এমনটা করবেন।”

এই গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা নেবেন না বলে এক সময় চিন্তা করলেও এখন সেখান থেকে সরে আসার কথা জানান বিচারপতি সিনহা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী কিছু বই অনুদান দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সবার প্রতি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা সবাই পড়ি। কিন্তু ইদানিং আমরা খেয়াল করি আমাদের পাঠাভ্যাসের মধ্যে কিছুটা মন্থর গতি। আগে যে রকম আমরা পড়তাম এখন কিন্তু তেমনটা পড়ি না।

“প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি, সময় পাই না। আমি তো মনে করি লাইব্রেরি ছাড়াও ঘরের ডাইনিং টেবিলে, বেডরুমের পাশে, ড্রয়িংরুমে সাধারণত যেসব স্থানে আপনি বসেন বা বিশ্রাম নেন সেখানে পছন্দ মতো বই রেখে দেবেন। যখন মনে হলো একটু পড়ে নিলেন।”

নিজের বাড়ির পুরোটাই ‘লাইব্রেরি’ জানিয়ে এস কে সিনহা বলেন, “নিচতলা থেকে ওপরতলা, সবখানে আমি বই রেখে দিয়েছি। বিছানায় ঘুমানোর সময় একটা লাইন মনে হলে এটা পড়ে নিলাম।”

আইনজীবীদের প্রতি রাযের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং বিচার বিভাগ নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা লেখার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, “আমি খুবই প্রত্যাশা করি বিজ্ঞ আইনজীবীরা আমাদের ঘোষিত রায় নিয়ে গঠনমূলক লেখা লিখেন। আমাদের জাজমেন্টে অনেক ত্রুটি আছে। আমি নিজেই আমার জাজমেন্টে ত্রুটি পাই। যেমন বছর দুই আগে যে রায় লিখেছি এখন সেটি দেখে মনে হয় এটা কী লিখলাম! একজন বিজ্ঞ আইনজীবী পেলাম না যে, আমার রায়ে এই ত্রুটি আছে, এই আছে-সেই আছে নিয়ে কিছু লিখেছেন।

“আমরা তো গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য একটা রায় দিয়েছি, অনেকে বলছে। কিন্তু কেন আপনারা লিখেন না?”

আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়নের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সমিতির সহ-সভাপতি ফাহিমা ইয়াসমিন মুন্নী উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান বিচারপতি ফিতা কেটে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা উদ্বোধন করেন।

আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচতলার ফাঁকা জায়গা এবং দক্ষিণ পাশের বারান্দায় স্টল বসানো হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ বইমেলায় আইনের বই ছাড়াও অন্যান্য বই পাওয়া যাবে।