Home / খবর / স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন নির্মলেন্দু গুণ, বইনিউজের অভিনন্দন

স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন নির্মলেন্দু গুণ, বইনিউজের অভিনন্দন

boinews-24নির্মলেন্দু গুণ

স্বাধীনতা পদক পেলেন নির্মলেন্দু গুণ। এর আগে গত ১২ মার্চ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নাম না দেখে তার ফেসবুক ওয়ালে এই বিষয়ে তিনি ক্ষোভ ব্যক্ত করে স্ট্যাটাস দেয়ার পর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদকের জন্য সরকার মনোনীত করেছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহমাম্মদ শফিউল আলম।
গত ১২ মার্চের সেই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, “শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পদকের মুলোটি আমার নাকের ডগায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই সেটি আমাকে দিচ্ছেন না। উনার যোগ্য ব্যক্তির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হতে হতে আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় আমার স্থান হচ্ছে না।” এ ব্যাপারে নিজের স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেছিলেন, “আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসেবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভিতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনও রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে এক সময় আমাকে এই পদকটি দেয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন।”
তবে আজ পুরস্কার পাওয়ার পর কবি নির্মলেন্দু গুণ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “বুঝতে পারছি। আমার মতো, ছোটো হতে ভয় না-পাওয়া Confessional ঘরাণার কবি যারা পূর্বে দেখে নি, আমার unpredictable behavior তাদের কাছে অচেনা ঠেকছে বলেই তারা আমাকে নিন্দামন্দ শুধু নয়, গালমন্দও দিচ্ছে। আমার ক্ষোভকে তারা লোভ বলছে। যদিও আমি একটি কবিতায় বলেছি : আর কিছু তো আরাধ্য নয়  ‘কাব্য এবং নারী ছাড়া’, ওটা পেলে জাহান্নামেও যেতে আমি এক পা খাড়া। প্রশ্ন উঠেছে, আমি স্বাধীনতা পদকের জন্য নিজে থেকে দাবি তুলেছি কেন? আমি স্বাধীনতা পদক চেয়েছি এই জন্যই যে, আমি চাই এই পদকটি সসম্মানে সচল থাকুক”।
এরপর আজ সন্ধ্যায় আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “নির্মলেন্দু গুণ পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র-এর জন্য নির্ধারিত স্থান (মগড়া নদের তীর, মালনী, নেত্রকোণা)। অপেক্ষাকৃত নীচু জায়গাটিকে কিছুটা উঁচু করার লক্ষে আজ ওখানে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে … আমার স্বাধীনতা পদক থেকে পাওয়া টাকার অর্ধেক ঐ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। কিছু পাবে আমার কাশবন, কিছু রাখবো আমার জন্য”।

উল্লেখ্য এর আগে নির্মলেন্দু গুণ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি এবং ২০০১ সালে একুশে পদক অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হবার পর সেটি ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও তার ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ আমাদের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কবিতা লেখার পাশাপাশি নির্মলেন্দু গুণ চিত্রাঙ্কন, গদ্য ও ভ্রমণসাহিত্যও লিখেছেন। ২০১৩ সালে তার কবিতা অবলম্বনে মাসুদ পথিকের নির্মীত সিনেমা ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ সর্বমহলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।