Home / খবর / জিয়া হায়দার পেলেন জেমস টেইট ব্ল্যাক পুরস্কার

জিয়া হায়দার পেলেন জেমস টেইট ব্ল্যাক পুরস্কার

Zia-Haider-Rahmanজিয়া হায়দার পেলেন জেমস টেইট ব্ল্যাক পুরস্কার
সাঈদ আহমেদ

১৯১৯ সাল থেকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ব্রিটেনের নামী-দামী লেখক/সাহিত্যিকরা জেমস টেইট ব্ল্যাক পুরস্কারে ভূষিত হয়ে আসছেন। এতোদিন ধরে এই পুরস্কার ব্রিটেনের বাঘা বাঘা লেখক-সাহিত্যিকদের দখলে থাকলেও সম্প্রতি প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত লেখক হিসেবে জিয়া হায়দার রহমান এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জিয়া হায়দারের এই সাফল্যে তাকে বইনিউজ টোয়েন্টিফোর.কম এর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। জিয়া হায়দারের এই সাফল্যের খবর নিয়ে বিবিসি’র সংবাদ অবলম্বনে লিখেছেন সাঈদ আহমেদ।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ লেখক জিয়া হায়দার রহমান ব্রিটেনের সবচেয়ে পুরোনো এবং সন্মানজনক পুরস্কার জেমস টেইট ব্ল্যাক পুরস্কার পেয়েছেন। গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
জিয়া হায়দার তার লেখা In the Light of What We Know বইটির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। বইটি গত বছর ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত হয়। এটিই জিয়া হায়দার রহমানের প্রকাশিত প্রথম বই। বইটি প্রকাশের পরপরই ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের বিচারে ২০১৪ সালের প্রকাশিত সেরা দশটি বইয়ের তালিকায় উঠে আসে। দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইনের পাঠকদের ভোটের বিচারে সেরা দশের মধ্যে বইটি তালিকার সাত নম্বরে উঠে আসে তখন। গত ২১ জুলাই ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইনে এই তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।
এই বইয়ের রিভিউ করতে গিয়ে নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত পত্রিকা “দ্য নিউ ইয়র্কার“ জিয়া হায়দারের এই সূচনাকে “ড্যাজলিং ডেব্যু“ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জিয়া হায়দারের এই বইটি সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে জেমস টেইট ব্ল্যাক প্রাইজ ফর ফিকশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর র্যা নডাল স্টিভেনসন বলেন, জিয়া হায়দার রহমান তার এই বইতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসাথে এনে পাঠকদের জন্য হাজির করেছেন। ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের যুদ্ধ, ব্যাংকিং ক্রাইসিস, মুসলিম ফান্ডামেন্টালিজমের উথানসহ আরো নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়াও তিনি তার বইতে আরো রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নানান ইস্যগুলো হাজির করেছেন, কখনো গল্পের ছলে আবার কখনো বাস্তবধর্মী হিসেবে। তার বই পড়ার সময় পাঠক একই সাথে কল্পনা এবং বাস্তবতার মিশেলে তৈরি এক জগতের মাঝে ডুবে যান। এবছর জিয়া হায়দারের পাশাপাশি এই পুরস্কার পান রিচার্ড বেনসন।
১৯১৯ সাল থেকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য লেখক/সাহিত্যিকদের এর পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। প্রকাশক জেমস টেইট ব্ল্যাকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জ্যানেট কোটস তার স্বামীর বইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই পুরস্কারের প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে ব্রিটেনের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ লিটারেচার এর উদ্যোগে এই পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে। এই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পঠিত বইয়ের মধ্য থেকে প্রতিবছর চার শতাধিকেরও বেশী বই শর্ট লিস্টেড করা হয় এবং সেখান থেকেই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।
প্রতি বছর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য লেখকদের এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিজয়ী লেখকরা সন্মাননার পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে পান দশ হাজার ইউরো। ২০১৩ সাল থেকে এই পুরস্কারে ড্রামা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়।