Home / নতুন বই / নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল-ভাষান্তর: মাসুদুল হক

নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল-ভাষান্তর: মাসুদুল হক

বই: নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল
লেখক: সিদ্দিক সালিক
ভাষান্তর: মাসুদুল হক
প্রকাশনী: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ
প্রকাশক: কমলাকান্তি দাস।
মূল্য : ৩০০ টাকা
 ৫৫, কনকর্ড এ্যাম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা-১২০৫।

প্রাথমিক ধারণা : নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিল সিদ্দিক সলিকের লেখা উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থের অনুবাদ। লেখক সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের তিনজন প্রদেশিক সামরিক আইন প্রকাশক,-লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাকে তুলে ধরতে কুণ্ঠিত হননি। পাশাপাশি তিনি একজন অনুগত পাকিস্তানি ছিলেন বলেই বাংলাদেশের মাটিতে পাক-বাহিনীর বিপর্যয়ে তার আর্তনাদ ধ্বনিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র সময়কাল তিনি জেনারেল নিয়াজির পাশে পাশেই ছিলেন এবং বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে পাক-সামরিক জান্তার চক্রান্ত তাই তিনি কাছ থেকেই দেখার সুযোগ লাভ করেন। এই সুবাদে দেখেছেন এক আত্ম অহংকারী জেনারেলকে। দেখেছেন তার রণকৌশল, যা প্রচণ্ডভাবে মার খেয়েছে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ আঘতে। উপরন্তু সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য যুদ্ধের জন্য প্রণীত রণ কৌশল নামক যে ধাপ্পার আশ্রয় তিনি নিয়েছিলেন, তা ভারত-বাংলাদেশ বাহিনীর প্রবল আক্রমনে বিপর্যস্ত করে দেয়। এ সবের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ এসেছে এ গ্রন্থে, যা পাকিস্তানের অন্যান্য জেনারেলরা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন তাদের গ্রন্থে। ফলে ইতিহাস সচেতন পাঠকের কাছে এ গ্রন্থের অবেদন কখনো ম্লান হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।

লেখক পরিচিতি
সিদ্দিক সালিক (মুল লেখক)
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আসার আগে সিদ্দিক সালিক লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক ছিলেন। সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত ছিলেন কিছুকাল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেজর হওয়ার পর তিনি সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে বদলি হয়ে আসেন প্রাদেশিক সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানের জনসংযোগ অফিসার হন, পরবর্তী সময়ে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের জন্মের পর খণ্ডিত পাকিস্তানে তিনি ফিরে যান ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের আওতায় এবং সেনাবাহিনীতে স্বপদে বহাল থাকেন। পরে ব্রিগেডিয়ার হন এবং পাকিস্তানের আরেক সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হকের প্রেস সেক্রেটারি হন। ১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হককে বহনকারী একটি বিশেষ সামরিক বিমান মধ্য আকাশে ধ্বংস হলে প্রেসিডেন্ট ও তার বেসামরিক কর্মকর্তাদের সাথে তিনিও প্রাণ হারান।

15823487_1543131042369612_1
তুমুল সাড়া জাগানো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএ, যা ‘র’ অওর সিআইএ: মাশরেকি পাকিস্তানে অনূদিত এবং ব্যাপক সমাদৃত ‘বাঙালি হত্যা এবং পাকিস্তানের ভাঙন’ ও ‘স্বাধীনতার ঘোষণা: মিথ ও দলিল’ গ্রন্থের লেখক মাসুদুল হকের প্রথম প্রকাশিত পাঠক সমাজে বিপুল আলোড়ন তোলো এই অনুবাদ গ্রন্থ ‘নিয়াজির আত্মসম্পর্ণের দলিল’। তার আর দুটি অনুবাদ গ্রন্থ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ ও ‘বাংলাদেশ : বারুদে জন্ম যার’।
মাসুদুল হক পেশায় সাংবাদিক। কর্মজীবনের শুরু স্কুল শিক্ষাকতা দিয়ে, কাজ করেছেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল অফিসে এবং সাংবাদিকতার আরম্ভ অধুনালুপ্ত সিনে সাপ্তাহিক পূর্বানীর প্রতিবেদক হিসেবে। পরে দৈনিক ইত্তেফাক- এর সিনিয়র সাব-এডিটর। তার পৈত্রিক বাড়ি খুলনার খালিশপুর।