Home / সাহিত্য / জাহানারা পারভীন-এর একগুচ্ছ কবতিা

জাহানারা পারভীন-এর একগুচ্ছ কবতিা

Jahanara-Perveenজাহানারা পারভীন-এর  একগুচ্ছ কবতিা

 

ত্রিভুজ দেশে যাইনি কখনো;
যেখানে গনিকাদের গ্রামে
নর্তকীর বৈধ নগ্নতা,
নাচের মুদ্রা কিনতে মাঠভর্তি দর্শক
দাঁড়িয়ে থাকে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে

লাতিন মেয়েরা চোখের জলে চুল ভিজিয়ে
মুছে দেয় খদ্দেরের পা;

সেই উৎসব, জমকালো নাচ,
ধাঁধার আড়ালে থাকা
তোমাকে দেখব বলে বহুবছর
শুকপাখি হয়ে বন্দী থেকেছি খাঁচায়।

খুঁজেছি নিভে যাওয়া আলাদীনের প্রদীপ

 

এই তবে তুমি?
সামান্য দেখায়, অদেখার সংকোচ!

ঠান্ডা ভাত তোলে কাঁচা মরিচের দাবি
আরো চাই এক চিমটি নুন
অসামান্য অসুখের মা সামান্য মন
আমি, চন্দ্রাবতীর বোন!
এসব আয়োজনে মাটি হয় উর্বর রাত
হাত থেকে খসে যায় রক্তমাখা হাত

এই তবে ধর্ম কৃষকের?
শস্যের চারা তুলে আগাছার পরিচর্যা!

 

সৌজন্যের পাল তুলে যতদূর গেছ
ততট পথ ফিরে এসে দেখো
খুঁজে পাও কিনা ফেলে যাওয়া দিয়াশলাই
প্রতিটি কাঠিতে বারুদের অভিমান

জানি তুমি এখনো একরোখা,
ভোতা হয়ে যাওয়া দা;
নিঃস্ব বলপেন, শূন্য দোয়াতের কথা তুলবে,
চিকন কঞ্চি ডুবিয়ে লিখবে নীতিকথা;

ধর্মের প্রসঙ্গ এলে বলবে সেই গোয়ালঘরের কথা
যেখানে কুমারী মা প্রসব করেছে ঈশ্বরের পুত্র।

তোমার আকাশ থেকে পেড়ে আনা কিছু সত্য
আগলে রেখেছি তবু
ভাসিয়ে দিয়েছি জলে খনার কাটা জিভ

 

হয়তো তখনো তুমি আত্মঘাতি
গান শেখাচ্ছো ফুটপাতের পাখিদের;
মুখস্ত করছো পরস্ত্রীর শেখানো স্লোক;

শহরের উঁচু ছাদে বসে রাখছো গ্রহ উপগ্রহের হিসাব,
হয়তো তখনো তুমি মিথ্যেবাদী রাখালের ভাই,
অনাস্থা ভোটে হেরে যাবে প্রকৃত বাঘের প্রসঙ্গ;
ইবনে বতুতার জুতো পায়ে হেঁটে যাচ্ছো অসুস্থ দেশে
পিলসুজের আগুনে পোড়া অন্ধকারে

হয়তো তখনো বেজে উঠবে শরীরের সংকেত;
জুয়ার আসরে তোমাকেই রাখব বাজি;
বৃদ্ধাশ্রমে বারান্দায় দেখতে এসো
ভাতের মাড়ে শক্ত হওয়া তাঁতের শাড়ি।

হয়ত তখনো প্রাদ্রির সাদা জামার মৌনতা কুড়াতে দাঁড়িয়ে থাকব তালগাছের পাশে। পড়ে থাকা তালের কাছে গল্প শুনবো, বিচ্যুত দিনের। নরম শাঁসের শৈশব, সবুজ জন্ম থেকে রোদে কালো হয়ে যাওয়া ত্বকের বিবর্তন। শুনতে শুনতে হাতের তিলগুলো তাল হয়ে যাবে। আমি এই তালের পেছনে ছুটতে ছুটতে কোথায় এলাম? ডোবাপুকুর না নদীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজ?

 

অবেশেষে
দাঁড়িয়ে থাকি মাটিলেপা ঘরের বাইরে;
কখন শুকাবে কাঁচা ঘর!

এই প্রজন্মের মেঝেরা বড্ড অসহনশীল
বহিরাগত,
পরিবারের সদস্য নয়,
মেপে রাখে এমন অতিথি পায়ের মাপ;

কারণ পা-ই সব,
পায়ের ছাপই বলে দিতে পারে,
সে খাজনা দিয়েছে কী না;
মাধ্যমিকে পাশ করেছে কি না গণিতে

পা দেখে বলা যায়
হারিয়ে গেছে কি না বাজারের রশিদ।

কত নম্বর পেতে পারো প্রেমে
দেহ পেরিয়ে, নিতে পারো কি না মনের যত্ন!

শেষ পর্যন্ত ফিরতে চাই নিজের কাছেই। যেতে যেতে বলে যাই, এই মাঠের গোলপোস্ট সাক্ষী―

 

আমি সেই কর্নেলের বোন
পৃথিবীর কোনো ডাকঘরে
আমার নামে কোনো চিঠি আসেনি বলে
চিনতে পারিনি জলের ক্ষমতা

বুঝতে পারিনি,
ভেজা কাগজে অক্ষর থেকে ছড়ানো কালি
কীভাবে নষ্ট করে দেয় পাঠের সৌন্দর্য…