Home / শুভ জন্মদিন / আজ কথাশিল্পী জুলফিয়া ইসলাম-এর শুভ জন্মদিন

আজ কথাশিল্পী জুলফিয়া ইসলাম-এর শুভ জন্মদিন

Untitled-1আজ কথাশিল্পী জুলফিয়া ইসলাম-এর শুভ জন্মদিন
বইনিউজের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

মনস্তত্ব, সমাজতত্ব, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য এবং বিজ্ঞান। একই জ্ঞানবৃক্ষের ফল হলেও এদের প্রত্যেকেরই শাখা যেমন আলাদা আলাদা, তেমনি আলাদা তাদের পরিধি এবং ব্যাপ্তিও। এই ছয়ের মিশ্রণ ঘটানো শুধু কঠিনই নয় এককথায় অসম্ভবও মনে হতে পারে। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার কাজটিই করেছেন লেখক জুলফিয়া ইসলাম। শুধু তাই নয় একাধারে প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নারী এবং কিশোর সাহিত্যের নানান বিষয় যাতে একাধারে হাজির করেছেন মনস্তত্ব, সমাজতত্ব, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য এবং বিজ্ঞান।
লেখালেখির বাইরেও ঘুরে বেড়ানোর বাতিক তার। লেখালেখির বাইরেও ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন দেশ-বিদেশে। পর্যবেক্ষন করেছেন নানান চরিত্রের মানুষ। সেগুলো নানান ভাবে ফুটে উঠেছে তার লেখনীতে। মানব সম্পর্কের নানান বিষয় এবং সম্পর্কের নানান রূপ তার “সম্পর্কের ভাঙাগড়া“ বইটিতে ফূটে উঠেছে। সমাজতত্ত্বে বাঙালির বর্তমান অবস্থান, বিবর্তন সবই রয়েছে এই বইটিতে। এছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্বের আধুনিক ও অর্থনৈতিক রুপ ইত্যাদি।
বুদ্ধিমান মানুষ যেভাবে প্রযুক্তির অতি ব্যবহার করেছে এতে সমস্যা হচ্ছে প্রযুক্তিজাত মানসিক সমস্যা। প্রযুক্তির অতি ব্যবহারে মানুষ হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা। মেধাবী মানুষ এই বৈষম্য কমানোর বদলে বাড়িয়ে তুলেছে এই সমস্যাগুলোকে। এই অবস্থায় মেধাবুদ্ধির নতুন নির্মাণের জন্য বুদ্ধিচর্চার উত্তরণ ঘটানো প্রয়োজন। সেই সমাধানের লক্ষ্যে জুলফিয়া ইসলাম লিখেছেন “মনোসামাজিক বুদ্ধি“।
মানুষ প্রকৃতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। বিচিত্র এর জীবন চিত্র, বিচিত্র এর গঠনগত দিক ও সমস্যা। কিন্তু সম্পদ সবজায়গায় একরকম নয়। সাধারণ সমাজবদ্ধ মানুষের পাশাপাশি আমাদের সমাজেই বসবাস করে আরো একদল মানুষ। যারা সমাজ থেকে বিচ্যুত, এই সমাজে জন্ম নিয়েও যারা সমাজের অংশ নয়। যাঁদেরকে আমরা সাধারণভাবে চিনি “হিজড়া“ নামে। আমাদের দেশে হিজড়ারা শুধুমাত্র একঘরেই নয় স্পর্শকাতর এবং স্বল্পপঠিত ও স্বল্পচর্চিত একটি বিষয়ও বটে। সেই স্বল্পচর্চিত বিষয় নিয়েই লিখেছেন জুলফিয়া ইসলাম। বইয়ের নাম “তৃতীয় লিঙ্গের অবস্থান“।

শুধু মনোসামাজিক বিষয়ই নয় সমাজের নানান অনুষঙ্গ নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস। শুধু খন্ড খন্ড উপন্যাসই নয় লিখেছেন ট্রিলজিধর্মী উপন্যাসও। মোতালেব নামের একজনকে নিয়ে লেখা উপন্যাস “দাবা খেলা“। তিনি ভালো কী মন্দ আছেন এই ব্যাপারে নিশ্চিত নন ইদানিং। একসময় যাকে ভালোলাগা মনে হত এখন আর তা মনে হচ্ছে না। এরকম কেন মনে হচ্ছে এর কোন অর্থ খুঁজে পান না মোতালেব সাহেব।
তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হলো “মধ্য গগন“। সেখানকার মূল চরিত্র রাজু। রাজুর কাছে মনে হয় দেশ হচ্ছে তাদের কিশোরগঞ্জের সেই নিস্তরঙ্গা নিথর পুকুরটি যার তলদেশে চিরদিনের মতো হারিয়ে গেছে শিমু। একা এই নির্জন মজা পুকুরের পাড়ে রাজু কীভাবে তার বাকী জীবন কাটাবে? সেই ঘটনাকে নিয়েই “মধ্য গগন“।
“দাবা খেলা“ এবং “মধ্য গগন“ এর ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত বই “ভোর“। এর পটভূমি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। কিছু কাল্পনিক চরিত্রের পাশাপাশি এই বইতে যুক্ত হয়েছে বাস্তব কিছু চরিত্রও। এই ট্রিলজির সর্বশেষ খন্ডও এটি।

শুধু সাহিত্য রচনাই নয় রচনা করে চলেছেন সংগীতও। লেখালেখি এবং সংগীত রচনার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও। বাংলা একাডেমির তিনি জীবন সদস্য। সাহিত্যের বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন মাওলানা ভাসানী সাহিত্য পুরস্কার, সালেহীন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পুরস্কার, ম্যাপসাস অ্যাওয়ার্ড (মানবাধিকার পরিবেশন সাংবাদিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্বর্ণপদক, নবাব ফয়জুন্নেছা স্বর্ণপদকসহ নানান পুরস্কার।
বাংলাদেশের বাইরেও কলকাতা, আগরতলার বহু পাঠক পাঠিকা তার একনিষ্ঠ। একসময় জড়িত ছিলেন শিক্ষকতার সাথেও। এছাড়াও জড়িত ছিলেন সাপ্তাহিক ২০০০ সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।