Home / বইমেলা / ৫০০ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই নিয়ে ৬৪ জেলায় যাবে শ্রাবণ বইগাড়ি-রবীন আহসান

৫০০ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই নিয়ে ৬৪ জেলায় যাবে শ্রাবণ বইগাড়ি-রবীন আহসান

৫০০ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই নিয়ে ৬৪ জেলায় যাবে শ্রাবণ বইগাড়ি-রবীন আহসান

গত ২০ বছর ধরে বই প্রকাশনায় নানা বৈচিত্র আনা শ্রাবণ প্রকাশনী ও বইনিউজ এবার সারাদেশে আয়োজন করতে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা। ‘ইতিহাস ধরবো তুলে-বই যাবে তৃণমূলে’ এমন স্লোগানে ১লা ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা পাঁচ শতাধিক বই ভর্তি গাড়ি ছুটেবে ৬৪ জেলায়। মুক্তিযুদ্ধের বইমেলার প্রকাশক সহযোগী দেশের শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএল। এই বইমেলা উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই- ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম। মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ এই বইমেলার নানা দিক নিয়ে লিখেছেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক- রবীন আহসান।

আমরা বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ মেলা করেছিলাম। গত আগস্টে ঢাকার বাইরে আটটি জেলায় গিয়েছিলাম। জেলা শহরের স্কুল-কলেজগুলোতে পাঠকদের বিপুল উৎসাহ দেখেছি। অনেক বই বিক্রি হয়েছে। তখন বুঝেছি ভালো বইগুলো তৃণমূল পর্যায় পৌঁছায় না। তৃণমূলে চাহিদার তুলনায় বইয়ের ঘাটতি রয়েছে বিষয়টা উপলব্ধি করেই আমাদের এই আয়োজন। সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা।
আমাদের শুধু বই বিক্রি উদ্দেশ্য না। এটা আমাদের একটা আন্দোলনের মতো। বই পড়ানোর আন্দোলন। বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আন্দোলন। গত একমাসের মেলায় কিন্তু বই বিক্রি থেকে যে টাকা এসেছে তাই খরচ হয়েছে আমাদের। কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু একটা লাভ হয়েছে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম বই কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা বই কিনছে। এই যে পাঠক তৈরি করা। এই আন্দোলনটাই আমরা ছড়িয়ে দিতে চাইছি।

২০১৮র ১লা ডিসেম্বর মাসে এটা শুরু হবে। ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ এর ৩১মার্চ পর্যন্ত সারাদেশের ৬৪টি জেলায় আমরা বই নিয়ে যাবো। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা প্রায় পাঁচ শতাধিক বই থাকবে। আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচার শুরু হবে। বই, দাম, লেখক পরিচিতি এসব সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ শুরু হবে। আমরা দেশের আনাচে-কানাচে মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে যাবো। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বই পড়বে, জানবে, কিনবে।

মেলা শুরু আগে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। তিনটা অংশে আমরা বইগুলোকে ব্র্যান্ডিং করবো। তারমধ্যে থাকবে বিশেষ ৭১টা বই। এরপর ১৬টা বই আলাদা থাকবে, যা অবশ্যপাঠ্য। এরপরের পার্টে থাকবে ২৬টা বই। এইসব বইগুলোকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করবো আমরা। মুক্তিযুদ্ধের সেরা বইগুলো নিয়ে প্রান্তিক পর্যায় হাজির হওয়াটাই মেলার বিশেষত্ব।

আমরা লেখকদেরও সঙ্গে নিচ্ছি এই মেলায়। এই যে ৬৪ জেলায় আমরা মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে যাবো, আমাদের সঙ্গে থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখকরা। শুধু জেলায় না, সুযোগ-সুবিধা থাকলে দুইটা গাড়ি নিয়ে আমরা থানা পর্যায়েও যাবো। দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েও এই মেলা অব্যাহত থাকবে।
ফেব্রুয়ারি মাস চলে গেলে বইয়ের সাথে এগার মাসের জন্য আমাদের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি। ভ্রাম্যমাণ মেলা থেকে দেখেছি পাঠক বই কিনতে চায়। কিন্তু বই পায় না। ফলে ৬৪ জেলায় আমরা চার মাসব্যাপী বই নিয়ে যাবো। পাঠক হাতের কাছে বই পাবে। বছরব্যাপী বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে।

আমরা ভ্রাম্যমাণ বইমেলাকে জনপ্রিয় করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছি। বইনিউজ-টোয়েন্টিফোর-ডটকম এর স্টুডিও হবে। সেই স্টুডিও থেকে দিনে তিনবার মেলা বিষয়ক বুলেটিন প্রচার হবে। এখন ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কোথায় আছে, আগামীকাল কোথায় যাবে? কোন সময়ে কোন পয়েন্টে অবস্থান করবে তার সব বিস্তারিত প্রচার হবে। গাড়ি থেকে লাইভ প্রচার হবে। মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বই কিনবে, দেখবে, কিছু বইয়ের নাম মুখস্থ হবে সেই প্রচেষ্টাই আমাদের।

এছাড়াও আটটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা পোস্টার হবে। পোস্টারে রুটিন দেওয়া থাকবে। সব স্কুল-কলেজে পোস্টার লাগানো হবে। কোন কোন এলাকায় কবে যাবো তার তালিকা থাকবে। ফলে পাঠক আগে থেকে জানবে কবে আমরা কোন স্কুল-কলেজে যাচ্ছি।

প্রায় চার-পাঁচবছর ধরে চিন্তাটা আমার মাথায় ছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই পড়তে দেয়। বিক্রি করে না। কিন্তু একটি বই বিক্রির মাধ্যমে লেখক লাভবান হয়, প্রকাশক লাভবান হয়। পাঠক বই তার সংগ্রহে রাখতে পারে। আমি চেয়েছিলাম দেশের মানুষ বই পড়ুক, লেখক-প্রকাশকও সম্মানী পাক। এই চিন্তা থেকেই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা। আমি ফ্রাঙ্কফুট বইমেলায় গিয়েছি তিনবার। তখন দেখেছি। ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন দেশের বইমেলা দেখেছি। ভ্রাম্যমাণ বইমেলা তারা ষাট-সত্তর বছর আগে থেকে করে আসছে। ফলে আমাদের দেশেও এটা চালু করার একটা চিন্তা মাথায় আসে। শুধু ফেব্রুয়ারি নয়, সারাবছর মানুষ বই পড়বে, লেখককে জানবে, প্রকাশক বই বিক্রি করবে। এর মধ্য দিয়ে দেশ পরিবর্তন হবে। এমন চাওয়া থেকেই ভ্রাম্যমাণ বইবেলার শুরু।

যখন বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা চলছিল টাঙ্গাইলে। একটা স্কুলের বাচ্চারা টাকা নিয়ে আসেনি। তারা আমাদের গাড়ি থামিয়ে দিয়েছে। বলেছে, যাবেন না। আমরা বাসা থেকে টাকা নিয়ে আসি। আমরা পাঁচ ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। তারা বাসা থেকে টাকা এনে বই কিনছে। আমাদের গাড়ি না দেখলে কিন্তু তাদের বই কেনার এই উদ্যমটা সৃষ্টি হতো না। আমরা বিশ বছর আগে এই কাজটা শুরু করলে আজ বাচ্চাদের মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের নাম থাকতো। আগে হয় নাই; তবে চেষ্টা করছি এখন যেন সেটা হয়।

প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির জন্য একটা গাড়ি কিনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধুরা অনেকেই এগিয়ে আসছেন। হেল্প করছেন। অনেকগুলো বই একসাথে কেনার মাধ্যামে বড় একটা অ্যামাউন্ট জমা হচ্ছে।
এছাড়া আমরা পহেলা অক্টোবর থেকে একটা অফার দিচ্ছি। একসাথে পাঁচ হাজার টাকার বই কেনার মাধ্যমে যে কেউ শ্রাবণ প্রকাশনীর বন্ধু হতে পারবেন। তারা একটা কার্ড পাবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে আজীবন পঞ্চাশ শতাংশ ছাড়ে শ্রাবণ প্রকাশনীর সব বই তারা কিনতে পারবেন। এতে করে অর্থসংকট অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করি। এছাড়া এনজিও, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা আর্থিক সহায়তা চাচ্ছি। সবার সহযোগিতা না পেলে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের এই যাত্রায় অংশ নিতে চায় তার কাছে শ্রাবণ প্রকাশনী কৃতজ্ঞ থাকবে।

 

মুক্তিযুদ্ধ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার তহবিল গঠন অভিযান ১

‘শ্রাবণ বই পরিবারের সদস্য’ হোন মাত্র ৫,০০০ টাকায় । আজীবন শ্রাবণ প্রকাশনীর বই পাবেন ৫০% ছাড়ে!!!

*ঢাকায় এবং জেলা শহরে বই পৌঁছে দিতে কোন কুরিয়ার সাভির্স বিল দিতে হবে না কখনও! চাইলেই আপনি প্রথমেই ৫০০০ টাকার বই কিনে সদস্য হতে পারবেন অথবা টাকা জমা থাকবে শ্রাবণের নতুন নতুন বইয়ের জন্য ইচ্ছে মতো সময় বই সংগ্রহ করবেন ! *একই বই দ্বিতীয় বার দেয়া হবে না এই কার্ডে মাধ্যমে।
* আসছে একুশে বইমেলাতে শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে ৪০ টি নতুন বই প্রকাশিত হবে।
‘শ্রাবণ বই পরিবারের আজীবন সদস্য’ পদ নেয়ার জন্য ৫,০০০ টাকা পাঠাতে পারেন বিকাশ (পার্সোনাল) ০১৭১৫৭৫১১১৭ বিকাশ (পেমেন্ট) ০১৯৩২৭৯০২০৯

ব্যাংক : পূবালী ব্যাংক লিমিটেড
এ্যালিফেন্ট রোড শাখা
একাউন্ট নাম: শ্রাবণ প্রকাশনী
একাউন্ট (চলতি) নং ২৫৮৪৯০১০১০৪১৪

ব্যাংক : অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
শাহবাগ জাদুঘর শাখা
একাউন্ট নাম: বইনিউজ২৪.কম
একাউন্ট (চলতি) নং ০২০০০০৭৬৫৮৫০০

শ্রাবণ প্রকাশনী
অফিস : রোজ ভ্যালি প্লাজা, রুম ৫০৭, ৫ম তলা (হাতিরপুল বাজার শর্মা হাউসে) ১৮৫ বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক, ঢাকা-১২০৫।
শো রুম : ১৩২ আজিজ সুপার মার্কেট (২য় তলা) শাহবাগ, ঢাকা। মোবাইল ০১৭১৫৭৫১১১৭, ০১৯৩২৭৯০২০৯
www.shrabonprokashani.com