Home / বইমেলা / বইমেলায় কমপক্ষে চারটি প্রবেশদ্বার থাকতে হবে-সাঈদ বারী

বইমেলায় কমপক্ষে চারটি প্রবেশদ্বার থাকতে হবে-সাঈদ বারী

prokashok                                                                                                                                                                                 সাঈদ বারী

সাঈদ বারী
প্রকাশক, সূচীপত্র প্রকাশনী

বই নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় আয়োজন হলো অমর একুশে বইমেলা কিন্তু অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলতে হয় যে  আমাদের এই বইমেলা পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে হয় না। প্রতিবছর আমাদের বইমেলাতে ব্যাংকগুলো যথেষ্ট পরিমাণে স্পন্সর করে, এর পাশাপাশি আমারা স্টলের যে ভাড়া দিই তাও প্রচুর। গতবারের তুলনায় এবারের স্টলের ভাড়া বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। যা দিয়ে খুব সহজে পেশাদারীর ভিত্তিতেই বইমেলা করা যায় কিন্তু আমাদের এখানে তা হচ্ছে না। বইমেলা নিয়ে আমাদের এবারের দাবী হলো বইমেলায় কমপক্ষে চারটি প্রবেশদ্বার থাকতে হবে, যেগুলো দিয়ে শুধু মেলায় ঢোকা নয় বের হওয়ারও সুযোগ থাকবে।
অমর একুশে বইমেলা আমাদের দেশের বড় উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। এতোবড় একটি বইমেলা, সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা তো জোরদার করতেই হবে। নিরাপত্তার কথা বলে বইমেলাতে টিএসসির দিক থেকে ঢোকা বন্ধ করা কোনভাবেই সমর্থন করি না। যেমন, যারা শান্তিনগর অথবা ঢাকার ঐদিকটায় থাকেন তাদের জন্য টিএসসি বাদ দিয়ে দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢোকা খুবই কষ্টকর। এক্ষেত্রে যা করা যায় তা হলো তাদের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ঐদিক থেকে ঢোকার জন্য একটি গেট তৈরী করা।
গতবারে তুলনায় এবারের বইমেলার পরিসর আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে একটি গেট থাকলে যা হবে তা হলো যাদের স্টলগুলো পেছনের দিকে পড়েছে তারা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়বেন বলে আশংকা করছেন। যদি বইমেলার চারদিক দিয়ে চারটি প্রবেশদ্বার তৈরী করা যায় তাহলে সামনে-পেছনের সকলেরই অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।
মেলায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে লোক সমাগম হয়, ছুটির দিনগুলোতে মেলায় আসা মানুষের আরো বেড়ে যায়। তখন শুধুমাত্র একটি প্রবেশদ্বার দিয়ে এদের কন্ট্রোল করা খুবই কষ্টকর। আমাদের দাবী মেলায় চারদিক থেকে চারটি প্রবেশদ্বার তৈরী করতে হবে যেগুলোতে শুধুমাত্র প্রবেশই নয় বের হওয়ার সুযোগও থাকবে। গেটগুলো মেলার উত্তর পশ্চিম, উত্তর পূর্ব, দক্ষিণ পূর্ব এবং দক্ষিণ পশ্চিম্ দিক দিয়ে তৈরী করলে মেলার এই ভীড় সহজেই সামাল দেয়া সম্ভব হবে। আরো একটি দাবী হলো বইমেলায় টিকিটের ব্যবস্থা করা। টিকিটের মূল্য দুই টাকা হলেও এই টিকিটের ব্যবস্থা চালু করা উচিত। এতে করে বইমেলায় প্রতিদিন কতজন মানুষ প্রবেশ করছে না করছে তার সম্পূর্ন একটি পরিসংখ্যান আমরা পাবো এবং সেই অনুযায়ী আগামীতে আমরা আমাদের পরিকল্পনাও সাঁজাতে পারবো।
বইমেলা সম্পর্কে আমার আরো একটি অভিযোগ হলো বইমেলাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন এতো এতো মানুষ বইমেলায় আসে সেই তুলনায় তাদের জন্য টয়লেটের সংখ্যা অতি নগণ্য। বইমেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেটের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
বইমেলা নিয়ে আমাদের যে ট্যাবু আছে তা ভাঙ্গতে হবে। একসময় বইমেলা শুধুমাত্র বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতো, এখন বইমেলা বাংলা একাডেমির গন্ডী পেরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হচ্ছে। যদিও বাংলা একাডেমিকে আমরা এই পরামর্শ দিয়ে আসছিলাম আরো আগে থেকেই। এবছর বাংলা একাডেমির কাছে আমাদের দাবী থাকবে মেলায় চারটি প্রবেশদ্বার রাখা, পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই মেলাকে আন্তর্জাতিকমানের একটি মেলায় উন্নীত করা।