Home / বইমেলা / দীপনকে নিয়ে জাগৃতি থেকে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করছি-জলি

দীপনকে নিয়ে জাগৃতি থেকে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করছি-জলি

boimala-2016দীপনকে নিয়ে জাগৃতি থেকে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করছি-জলি

 

গত অক্টোবরে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন তার নিজ কার্যালয়ে নৃশংসভাবে খুন হন। এরপর থেকে জাগৃতি প্রকাশনীর দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন তার স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান জলি। দীপন না থাকলেও এবছর বইমেলাতে থাকছে দীপনের প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনী। বইমেলাতে জাগৃতির এবারের আয়োজন নিয়ে বইনিউজের সাথে সম্প্রতি আলাপ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্ণধার ডা. রাজিয়া রহমান জলি। বইনিউজের পাঠকদের জন্য তারই কিছু চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক -রবীন আহসান।

 

রবীন : দীপন ভাইয়ের পর জাগৃতির হাল ধরার সময় কী কী সমস্যাগুলো বেশী পড়তে হয়েছে?
জলি : সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সবাইকে সামলানো। দীপনের মৃত্যুর পর নিজেকে সামলানো, পরিবারকে সামলানো, আমার সন্তানদেরকে সামলানোই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। সবাইকে একটু সামলে নিয়ে উঠতেই চলে এলো বইমেলা। আসলে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময় তো খুবই কম। তবুও এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আবার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছি। এবারের বইমেলায় দীপন না থাকলেও দীপনেরই প্রতিষ্ঠিত জাগৃতি প্রকাশনী থাকছে। জাগৃতি শুধুমাত্র একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই নয় জাগৃতি দীপনের স্মৃতি। আমরা চেষ্টা করছি দীপনের সেই স্মৃতিটুকুকে ধরে রাখার। আর সেজন্যই বরাবরের মতো এবারের বইমেলাতেও জাগৃতি প্রকাশনী অংশ নিচ্ছে।

রবীন : এবারের বইমেলায় জাগৃতি প্রকাশনী মোট কয়টি বই প্রকাশিত হচ্ছে?
জলি : দীপনের ইচ্ছা ছিল এবারের বইমেলায় প্রায় ১০০টি প্রকাশ করা। এখন দীপন নেই, দীপনের মতো আমরা তো আর ১০০টি বই প্রকাশ করতে পারবো না তবে এবারের বইমেলায় জাগৃতি প্রকাশনী মোট ২০টি নতুন বই প্রকাশ করছে। এরমধ্যে রয়েছে আবুল কাশেম ফজলুল হকের “রাজনীতিতে ধর্ম মতাদর্শ ও সংস্কৃতি“, সতীদাহ, রুমানা বৈশাখীর গল্পসংকলন, এজি‘র “মধ্যরাতে মেয়েটি আমার কাছে আসে“ ইত্যাদি। এছাড়াও দীপনকে নিয়ে আমরা জাগৃতি থেকে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করছি, সেটি সম্পাদনা করছেন সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা।

রবীন : এবারের বইমেলায় জাগৃতির স্টল সজ্জায় কী কোন বিশেষ পরিবর্তন আসছে?
জলি : এবারের বইমেলায় আমরা জাগৃতি প্রকাশনীকে সাজাবো দীপনের স্মৃতিকে ঘিরে। স্টলে দীপনের বড় ছবি থাকবে, সেইসাথে পুরো স্টলটিই সাজানো হবে সাদা এবং কালো রং দিয়ে।

রবীন : বই প্রকাশনা এমনিতেই একটি মোটামুটি স্বল্প লাভের ব্যবসা। আপনার কী মনে হয় দীপনের অনুপস্থিতিতে আপনি জাগৃতি প্রকাশনীকে ধরে রাখতে পারবেন?
জলি : জাগৃতি প্রকাশনী দীপনের নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান। দীপন এটিকে কখনোই ব্যবসা হিসেবে দেখেনি। ওর কাছে সবচেয়ে বড় ছিল ভালো বই প্রকাশ করা। ও সবসময়ই বিশ্বাস করতো ভালো বই প্রকাশিত হলে ভালো লেখক, পাঠক তৈরী হবে এবং সেজন্য যা যা প্রয়োজন সবটা ও একাই করতো। জাগৃতি শুধু দীপনেরই নয় ওর বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকেরও অত্যন্ত প্রিয় একটি প্রতিষ্ঠান। তার অসংখ্য গুনমুগ্ধ রয়েছেন, এছাড়াও দীপনের বহু বন্ধু, লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। আমরা আশা করছি তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা আগামী দিনগুলোতে ভালোভাবেই এগিয়ে যেতে পারব।

রবীন : বইমেলায় বাংলা একাডেমির কাছে কোন দাবী-দাওয়া আছে কী?
জলি : দীপনের মৃত্যুর পর আমি বাংলা একাডেমি থেকে প্রচুর সহানুভূতি এবং প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। বাংলা একাডেমি আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করেছে। তাদের সাহায্য না পেলে এতো কম সময়ের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে আমাদের বইমেলায় থাকা সম্ভব হতো না।

রবীন : জাগৃতি প্রকাশনীর যেসব বই নিয়ে দীপন ভাইকে খুন হতে হলো সেই বইগুলো কী থাকছে এবারের বইমেলাতে?
জলি : অভিজিৎ রায়ের যেই বইটির জন্য দীপনকে খুন হতে হলো সেটি এবারের বইমেলাতে থাকছে না। ইতোমধ্যেই বইটির সব কপি শেষ হয়ে গেছে, তাছাড়া এই বইটি আমরা আর প্রকাশ করতেও চাচ্ছি না।

রবীন : বইমেলা উপলক্ষ্যে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন…
জলি : জাগৃতি প্রকাশনীর একটি সুনাম আছে সবসময় ভালো বই প্রকাশের। এতোদিন ধরে যেসব লেখক তাদের লেখা দিয়ে, পাঠকরা বই কিনে আমাদের সাথে যুক্ত থেকেছেন আমরা আশা করছি আগামীতেও তাদের আরো বেশী করে কাছে পাবো। এছাড়াও দীপনের বন্ধুসহ সকলের কাছে আমি অনুরোধ করছি যদি সম্ভব হয় তাহলে বইমেলার পুরো মাস জুড়ে যেন দীপনের ছবিটি তার প্রতি শ্রদ্ধাবশত আমরা ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করি। দীপনের হত্যার তো এখনো পর্যন্ত কোন বিচার হলো না, হবে যে সে আশাও তো দেখছি না। আশা করছি এই প্রোফাইল হিসেবে ব্যবহারের ফলে কোথাও যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের কারো চোখে পড়ে।