Home / খবর / টরন্টোতে লেখক সম্মেলন: উচ্ছ্বসিত কানাডীয় লেখকেরাও

টরন্টোতে লেখক সম্মেলন: উচ্ছ্বসিত কানাডীয় লেখকেরাও

 

জাভেদ ইকবাল
গত ১৪ অক্টোবর টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি লেখক সম্মেলন ২০১৭। বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি)-র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মিলনমলা কানাডীয়-বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। দেখিয়ে দিয়েছে বাঙালি সাহিত্যরসের ব্যাপকতা, স্বতঃস্ফূর্ততা! কানায় কানায় পূর্ণ টরন্টোর লিজিয়ন হলের হাসি-আনন্দ-উচ্ছাস ছাপিয়ে উপচে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের বাঙালিদের কাছে। ঢাকা-কলকাতার সাহিত্য রসিক মানুষ খুঁজে পেয়েছে নতুন জমজমাট আসরের ঠিকানা- টরন্টো! শহরের ৯ ডজ রোডের কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সম্মেলন চলেছে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন কানাডীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী, কবি ইকবাল হাসান, লেখক ড. দিলীপ চক্রবর্তী, রাইটার্স ইউনিয়ন অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক ঔপন্যাসিক, কবি ও কলামিস্ট জন ডেগেন এবং কানাডার সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাইটারস ট্রাস্ট অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক মেরি অসবর্ন। উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিচেস-ইস্টইয়র্ক এলাকার এমপিপি আর্থার পটস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল অতিথি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কানাডার বাঙালি কমিউনিটির প্রয়াত লেখক ড. মীজান রহমান, মোল্লা বাহাউদ্দিন, ড. জহিরুল ইসলাম, মাহফুজুল বারী এবং ড. প্রশান্ত সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সম্মেলনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল কানাডার কবিতার বাংলা অনুবাদ নিয়ে আড্ডা-পর্ব। এ পর্বে যে দুজন কানাডীয় কবি অংশ নেন তাঁরা হলেন রোনা ব্লুম এবং আনা ইয়িন। বাঙালি যে দুজন কবি ও অনুবাদক এ পর্বে অংশ নেন তাঁরা হলেন ঢাকা থেকে পারভেজ চৌধুরী এবং ভ্যাঙ্কুভার থেকে শাহানা আকতার মহুয়া।

সম্মেলনে ‘বিএলআরসি সাহিত্য পত্রিকা’র দ্বিতীয় সংখ্যাটির মোড়ক উম্মোচিত হয়। এখানে কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ৭২জন বাঙালি লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছে। কানাডার কেন্দ্রীয় হেরিটেজ মন্ত্রী মেলানি জলির শুভেচ্ছাবার্তা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য বয়ে আনে নতুন মাত্রার প্রেরণা। সাহিত্য পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক গবেষক সুজিত কুসুম পাল সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য সদস্যদের নিয়ে সংখ্যাটির পাঠ উন্মোচন করেন। প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সুব্রত কুমার দাস। সাহিত্য পত্রিকাটিতে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় লেখা রয়েছে। চমৎকার প্রচ্ছদে অলংকৃত এ সংখ্যায় কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, প্রবন্ধ সকলি স্থান পেয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি পাঠক এবং গবেষকদের হৃদয়ে স্থান করে নেবে।

কথাসাহিত্য পর্বে আলোচনায় অংশ নেন সৈয়দ ইকবাল, ফরিদা রহমান, সালমা বাণী, মামুনুর রশীদ, অটোয়া থেকে আগত শাহিনুর ইসলাম এবং কুইবেকের লংগেইল শহর থেকে আগত আব্দুল হাসিব। প্রবন্ধসাহিত্য পর্বে যে লেখকেরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন হাসান মাহমুদ, রিসমন্ড হিল থেকে আগত সুধীর সাহা, সৈকত রুশদী এবং নজরুল মিন্টো। কবিতা পর্বে পাঠ এবং আলোচনায় ছিলেন অশোক চক্রবর্তী, রূমানা চৌধুরী, শওকত সাদী, অটোয়া থেকে আগত সুলতানা শিরিন সাজি, মৌ মধুবন্তী, শিউলী জাহান এবং মানজু মান আরা। ইংরেজিভাষী বাঙালি লেখকেরা হলেন: আয়েশা চ্যাটার্জী, শুক্লা দত্ত, দয়ালী ইসলাম, সঞ্চারী সূর এবং রেজা সাত্তার।

বিকালের কফি বিরতিতে সবার মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় আর আড্ডা জমে উঠে। সেইসাথে ছবি তোলা আর কুশল বিনিময়কালীন আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠে পরিবেশ।

বিএলআরসি নির্বাহী পরিচালক লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিএলআরসি সম্পর্কে তার কর্মকাণ্ড, ভবিষৎ লক্ষ্য-রূপরেখা তুলে ধরেন। কানাডায় বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্ম যেন ইংরেজি ভাষায় বাঙালি সাহিত্য উপভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া বিএলআরসি’র মিশন-ভিশন সবার মাঝে দারুন আগ্রহের সঞ্চার ঘটায় এবং ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে। আর তাই সম্মেলনে তরুণ লেখকদের নিয়েও ছিল একটি পর্ব। যে বাঙালি তরুণরা লেখালেখির অভিজ্ঞতার নিয়ে কথা বলেন তাঁরা হলেন অর্ক ভট্টাচার্য, সূচনা দাস বাঁধন, ব্রতী দাসদত্ত এবং মেরিলিন সামান্থা পাণ্ডে।

কবি ও লেখকদের পরস্পরের বই সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং তাঁদের গ্রন্থ সম্পর্কে পাঠকদের ধারণা বৃদ্ধির জন্যে গতবারের মতো এবারও সম্মেলনে বিনা খরচে লেখকদের বই প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। সম্মেলনে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনায় ছিলেন আকবর হোসেন, চয়ন দাস, দেলওয়ার এলাহী, তাসমিনা খান, সারিয়া তানজিম সুমনা, অর্ক ভট্টাচার্য, মানসী সাহা এবং অদিতি কাজী।

সংগঠনের সচিব ফায়েজুল করিম সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠান সফল করার জন্য। সাহিত্যপ্রেমীদের এই জমজমাট আসরের সমাপ্তি ঘটে রাত্রি-ভোজের মাধ্যমে। এই স্বতঃস্ফূর্ত সম্মেলন টনক নড়িয়ে দিলো স্থানীয় কানাডিয়ান লেখকদের। কানাডার বাঙালি কমিউনিটিতে বয়ে এনেছে সুস্থ সাহিত্যচর্চার এক নতুন ঠিকানা।