Home / বই আলাপ / নতুন পবিত্র সরকারকে যেন আবিষ্কার করা-আলম খোরশেদ

নতুন পবিত্র সরকারকে যেন আবিষ্কার করা-আলম খোরশেদ

sorkar

নতুন পবিত্র সরকারকে যেন আবিষ্কার করা-আলম খোরশেদ

‘সুসাহিত্যিক পবিত্র সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসাবে পাওয়া তাঁর দু’টো বই পড়া সাঙ্গ হলো সম্প্রতি। এর মাধ্যমে এক নতুন পবিত্র সরকারকে যেন আবিষ্কার করা গেল। তাঁকে এতদিন মূলত একজন ভাষাবিদ, ভাষাচিন্তক ও প্রাবন্ধিক, অর্থাৎ সিরিয়াস প্রকৃতির লেখক বলেই জানতাম। সে-জানায় যে গুরুতর ভুল ছিল সেটা জানা হলো তাঁর এই আত্মজীবনী, ‘অল্প-পুঁজির জীবন’ ও কলামগ্রন্থ, ‘স্বচক্ষে স্বকর্ণে’ পাঠ করে।
ঢাকার উপকণ্ঠে এক অজপাড়াগাঁয় জন্ম নেওয়া পবিত্র সরকার দশ বছর বয়সে দেশভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে পাড়ি জমান পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে প্রবল দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসীন হন ও বাংলাসাহিত্যের একজন অগ্রগন্য লেখক হিসাবে স্বীকৃতি পান। তাঁর এই ঘটনাবহুল জীবনেরই অন্তরঙ্গ আখ্যান তিনি রচনা করেন ধ্রুপদী অথচ স্বাদু, প্রসাদগুণসম্পন্ন এবং প্রায়শই হাস্যরসে পরিপূর্ণ, অননুকরণীয় এক গদ্যভাষায়।
অপর গ্রন্থটি মূলত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত কলামধর্মী নিবন্ধ সংকলন হলেও তাতে তিনি ব্যক্তিজীবন, জগতসংসার, স্বদেশ, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাকার নানাবিধ বিষয় নিয়ে অত্যন্ত অগ্রসর, যুক্তিযুক্ত, বিশ্লেষণী আলোচনার অবতারণা করেন, যার মাধ্যমে তিনি আমাদের কাছে একজন গভীর অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ, সমাজতাত্ত্বিক হিসেবেও প্রতিভাত হন সহজেই। অথচ এই রচনাগুলোর ভাষা খুবই মজাদার ও হালকা চালের এবং চলনও অনেকটাই রম্যরচনা ধাঁচের, এবং সেগুলো পড়তে এতটাই উপভোগ্য যে তাঁকে তো এক্ষেত্রে রীতিমত সৈয়দ মুজতবা আলী কিংবা রাজশেখর বসুর সমতুল্য বলেই মনে হয়েছে!
প্রিয় পবিত্রদা, শতায়ু হন আপনি এবং আমাদেরকে এম্নিভাবেই ক্রমাগত আলোকিত, আমোদিত করে যান আপনার প্রখর মেধা ও স্বর্ণপ্রসূ লেখনীটির মাধ্যমে।’