Home / বই আলাপ / এবছর কোন এক সময় প্রকাশিত হবে কবিতার বই-কাজল শাহনেওয়াজ

এবছর কোন এক সময় প্রকাশিত হবে কবিতার বই-কাজল শাহনেওয়াজ

k-1এবছর কোন এক সময় প্রকাশিত হবে কবিতার বই-কাজল শাহনেওয়াজ

খ্যাতিমান কবি কাজল শাহনেওয়াজ-এর সাথে আসছে বইমেলাসহ সাহিত্য-বইপত্র লেখালেখী নিয়ে কথা হয় বইনিউজ সম্পাদক রবীন আহসানের

বইনিউজের : কতদিন ধরে বই পড়া? কত দিন ধরে লেখা?

কাজল শাহনেওয়াজ : ৮/৯ বছর বয়েসেই আমার হাতে বই এসে পড়ে। পড়তে শুরু করি গল্প। লেখা শুরু অনেক পরে, ১৭/১৮ বয়সে।

বইনিউজের : বইমেলা। নতুন বই পাঠকরা পাবেন কি? আগামী কবিতা গ্রন্থ সম্পর্কে বলুন।

কাজল শাহনেওয়াজ : নির্বাচিত কবিতার বইটা নিয়া কাজ করছিলাম। ১৯৮২-২০১৬ এই সময়ে প্রকাশিত কবিতা থেকে। একটা ছোট মুখবন্ধ লিখেছি। কালানুক্রমিক সাজানো কবিতাগুলা আমার কবিতা বিস্তারের চিহ্ণ ধরে রাখবে বলে মনে হয়। এবছর কোন এক সময় প্রকাশিত হবে। তবে মেলায় হচ্ছে না।

বইনিউজের : নিজের বই ও লেখালেখিতে কতটা আনন্দ-বেদনা কাজ করে নিজের ভেতরে বিস্তারিত বলবেন কী?

কাজল শাহনেওয়াজ : সব সময়ই ভাবি, আমি কি আমার লেখাগুলি লিখতে পারছি? দেখি, যখন লিখছি তখন ঠিকই লিখছি। কিন্তু যখন লিখছি না, তখনো লেখা দরকার ছিল। মানে অনেক লেখার দরকার ছিল। অনেক বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি, অনেক অসমাপ্ত লেখা রেখে দিছি। অথচ খুব দরকার ছিল লিখে শেষ করে প্রকাশ করে ফেলার।

আমার ভিতরে জগতের একটা একটা প্রতিজগত তৈরি হওয়া দেখি। রাষ্ট্রের বিকাশ হওয়া দেখতে দেখতে নিজের দেখা জগৎ ছিন্নভিন্ন হতে দেখি। একটু একটু করে লিখে রাখি। বিভিন্ন কাঠামোয় লিখে রাখি। এখন টুকরাগুলি মিলতে শুরু করেছে। এক হতে শুরু করেছে। গদ্য।

বইনিউজের : বছর জুড়ে কেমন সব কবিতা লিখলেন?

কাজল শাহনেওয়াজ : ২০১৬ সালটা আমার জন্য খুব শক্ত একটা বছর হয়ে গেল। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝার ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে জীবনের অনেক জটিল চেহারার দর্শন লাভ করলাম। অস্তিত্বরক্ষার জন্য খুব নিষ্ঠুর হতে হতে হাসি হাসি মুখ রাখা শিখলাম। ভাবছিলাম ‘পুরুষ পেপে…’ বইটার পর কিছুদিন কবিতা থেকে সরে থাকব। কিন্তু যখনই কিছু হয়, রাগ বা অভিমান, তখনই কবিতা মাটি ভেদ করে খাতায় ওঠে। তবে আবার গদ্যের ফোয়ারার যাচ্ছি। নিশ্চয়ই নতুন কিছু কবিতা আসবে!

বইনিউজের : সারা বছর কী কী বই পড়লেন? কেমন লাগলো? ভালোলাগাটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলে জানতে পারব।

কাজল শাহনেওয়াজ : কবিতা পড়েছি ফেসবুক বা অনলাইনে। গদ্য পড়েছি ই-বুক। তবে তরুন কবিদের কিছু কাগজের বই, ডিকশেনারি, শহীদ কাদরী’র শেষ বইটা হাতে নিয়ে পড়া হৈছে।

ইতিহাস পাঠ হল। বাংলায় মুসলিম আগমন পর্বটা টানা উত্তেজনার ভিতরে ঢুকাইয়া দিছে। তাছাড়া নদী ধরে ধরে অনেক রকম ম্যাপের ভিতর দিয়া গেলাম। প্রাচীন ও মধ্যযুগের নদনদী।

একটা গল্পের জন্য বেশ কিছু পুরানো দিনের তথ্যের জন্য ঘাটাঘাটি করে দেখতে পারলাম, আমাদের জাতীয় আর্কাইভে থাকা দ্রব্যগুলি এবার প্রকাশ্যে আসা দরকার। অনেক দরকার। একটা পরিশ্রমি সৃজনশীল জেনারেশন তৈরি করার জন্য এইটা দরকার।

বইনিউজের : আপনার কবিতার ওপর কোনও কবির প্রভাব থাকলে তা নিয়ে আপনার নিজের মধ্যে বোঝাপড়া বলুন।

কাজল শাহনেওয়াজ : একটা সময় ছিল যখন পাঠক হিসাবে কবিতা পড়তাম। তখন অনেক প্রিয় কবি ছিল। তাদের দিয়ে ভীষণ প্রভাবিত হৈতাম। এখন বহুদিন হল, কোন কবিতা পড়তে গেলে তার টেবিলের নিচে চোখ পড়ে যায়। সেই সব দিয়াও এখন প্রভাবিত হই। অন্যদের কবিতার ভিতর দিয়া গেলেই না নিজেকে চেনা যায়।

তবে পাঠক হিসাবে তরুনদের লেখাই আমাকে টানে। আমি সেখান থেকে সত্যি সত্যি মোমেন্টাম পাই। তরুনদের ভিতরেই আপনি পাইতে পারেন আপনার বহুদিন আগে হারিয়ে ফেলা চিত্রগুচ্ছকে, ভুলে যাওয়া মেয়েটার চিবুক বা কোন রুদ্ধশ্বাস ক্র্যাশ খাবার গল্প! অনেক গলি উপগলির না হওয়া উপমাগুলি ঘুরঘুর করে। অনেক পথ হারানো মাথা ঝাকানো দৃশ্যকাব্য বা লুপ্তপ্রায় ধ্বনির বেদনা দেখা যায়।

বইনিউজের : লেখালেখি নিয়ে আপনার চিন্তাটা জানাবেন? কীভাবে, কেমন লিখতে চান?

কাজল শাহনেওয়াজ : এখন আমি কয়েকটা ৩৫০০+ শব্দের গল্প শেষ করতে চাই। শেষ করতে চাই ২৮০+ পৃষ্ঠার ২টা মহাগদ্য। প্রতিদিন একটু একটু করে… ধরেন তিনচারটা লাইন বা কোন কোন তুফান দিনে কয়েকপৃষ্ঠা। নানা মাধ্যম্যে টুকে রাখা ছিটকা বাক্যগুলিকে ডেকে আইনা, তাদের দিয়া কাজ করাই।
বইনিউজের : বইমেলা, বই প্রকাশ, প্রকাশ মাধ্যম ইত্যাদি নিয়ে আপনার কোন কথা বলার থাকলে জানতে আগ্রহী।

কাজল শাহনেওয়াজ : বই বিক্রিতে আরো আকর্ষণ বাড়ান। বিষয় ভিত্তিক শুদ্ধ বই প্রকাশ করুন। প্রোপাগান্ডা বইকে আলাদা ভাবে বিচার করুন। অপেশাদার বইকে (ছোট উদ্যোগের স্বত:স্ফূর্ত প্রকাশনা) স্বতন্ত্র সুবিধা দিন। ইত্যাদি।।