Home / বই আলাপ / অমর একুশে বইমেলা যতোটা না প্রকাশক বান্ধব, ততোটা দর্শক বা লেখক বান্ধব নয়-শাকুর মজিদ

অমর একুশে বইমেলা যতোটা না প্রকাশক বান্ধব, ততোটা দর্শক বা লেখক বান্ধব নয়-শাকুর মজিদ

Shakoor-Majidঅমর একুশে বইমেলা যতোটা না প্রকাশক বান্ধব, ততোটা দর্শক বা লেখক বান্ধব নয়। শাকুর মজিদ

১৯৬৫ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার মাথিউরা গ্রামে নাট্যকার-নির্মাতা-স্থপতি, শিক্ষক ও ভ্রমণ লেখক শাকুর মজিদ জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মৃত আব্দুল মজিদ, মাতা বেগম ফরিদা খাতুন। ৫ ভাইবোনের মধ্যে শাকুর মজিদ সবার বড়। ১৯৭৮ সালে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮২ সালে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে মাধ্যমিক এবং ১৯৮৪ সালে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য অনুষদে ভর্তি হন। পেশাদার স্থপতি শাকুর মজিদ আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খন্ডকালীন ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত।

শাকুর মজিদ মঞ্চ, টেলিভিশন, বেতার, তিন মাধ্যমেই এখ পর্যন্ত নাটক লিখেছেন ১৫ টি। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৫, এর মধ্যে কুঁড়িটি ভ্রমণ বিষয়ক, ৬ টি স্মৃতিচারণ ও আত্মজীবনীমূলক।

অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষ্যে নির্মাতা ও লেখক শাকুর মজিদের সাথে কথা বলেছেন কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা রেজা ঘটক। সেই কথোপকথনের চুম্বক অংশ বইনিউজের পাঠকদের জন্য:

রেজা ঘটক:  অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে আপনার কি কি বই প্রকাশ পায়েছে?
শাকুর মজিদ: কথাপ্রকাশ থেকে বেরোচ্ছে চার খণ্ডে ভ্রমণসমগ্র। তাতে ১৭টি ভ্রমণগ্রন্থ থাকছে। এটি রয়েল সাইজের বই। প্রতিটির গড় পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪১৬ (৫২ ফর্মা), সম্পূর্ণ চার রঙের। অনেকগুলো ছবির ব্যাবহার আছে সবগুলো বইতে।
পাঞ্জেরী প্রকাশনী থেকে বেরোচ্ছে চীনের শিশুয়ান পান্নার উপজাতী অধ্যুষিত একটা অঞ্চল নিয়ে ভ্রমণকাহিনী ‘ময়ূরের গ্রাম’ আর নাটক ‘হাছনজানের রাজা’। গ্রন্থকূটির থেকে বেরোচ্ছে আমার ভ্রমণচিত্রের পাণ্ডুলিপি নিয়ে ‘পৃথিবীর পথে পথে’। সব মিলিয়ে ৭টি আলাদা মোড়কে নতুন পুরনো মিলিয়ে মোট ২০টি বই।

রেজা ঘটক: এখন পর্যন্ত আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে? সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় বই কোনটি? বইটি পাঠকপ্রিয় হবার কারণ যদি বলতেন!
শাকুর মজিদ: ৩৫টি বই বেরিয়েছে। আমার বেশিরভাগ লেখাই ভ্রমণ, স্মৃতিকথা বা আত্মজৈবনিক। বিক্রির হিসাবে, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখা প্রথমা থেকে প্রকাশিত ‘যে ছিলো এক মুগ্ধকর’ সবচেয়ে বেশি পাঠকের কাছে গিয়েছে। তবে আমার সর্বশেষ প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ভ্রমণগ্রন্থ ’১০ সদর স্ট্রিট, রবীন্দনাথের কলকাতা’ বইটি সুধি মহল বেশি পছন্দ করেছেন বলে মনে হয়। কিন্তু আমার নিজের লেখা বইয়ের মধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘ক্লাস সেভেন ১৯৭৮’ সবচেয়ে প্রিয়।

রেজা ঘটক: লেখালেখিতে আপনি কোন মাধ্যমে বেশি স্বস্তিবোধ করেন এবং কেন?
শাকুর মজিদ: প্রিন্ট এবং ভার্চুয়াল, দুই মাধ্যমেই আমি লিখি। ভার্চুয়ালের আবেদন বেশি, তাতক্ষণিক, কিন্তু অস্থায়ী। যদিও তার আর্কাইভ ভ্যালু ভালো, তথাপিও সহজপ্রাপ্য নয়। কাগজে ছাপা বই অনেক স্থায়ী।

রেজা ঘটক: অমর একুশে গ্রন্থমেলা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
শাকুর মজিদ: এটা আমাদের সারা বছরের লেখক-পাঠক-প্রকাশক মিলনমেলার ক্ষেত্র।

রেজা ঘটক: আপনার তো অনেকগুলো পরিচয়, আর্কিটেক্ট শাকুর মজিদকে যদি জিজ্ঞেস করি- বইমেলার কেমন ডিজাইন হলে বইমেলায় আগত পাঠক-ক্রেতাদের পুরো বইমেলার সকল প্রকাশকের বই যাচাই করার সুযোগ হবে, তাহলে আপনি কেমন ডিজাইন সাজেস্ট করেন?
শাকুর মজিদ: এটার ডিজাইনের মধ্যে পেশাদারিত্ব নাই। এটা যতোটা না প্রকাশক বান্ধব, ততোটা দর্শক বা লেখক বান্ধব নয়। মেলায় বইয়ের আঁটি নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে , হেঁটে হেঁটেই কেনো পুরো সময় কাটাতে হবে ? এখন তো জায়গার অভাব নাই। তাহলে চত্বরের ডিজাইনে মূল মেলার ভেতরে কেনো বসার জায়গা নাই ? আর মেলা বাহ্যিকভাবে কেনো দুইটা পৃথক অংশে বিভক্ত হবে ? পিক আওয়ারে যে পরিমাণ দর্শক প্রবেশ করেন বা বের হন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। কোনো পেশাদার স্থপতিকে দিয়ে এর পরিকল্পনা করা হয় না বলেই এমন।

রেজা ঘটক: বইমেলায় আগতদের জন্য কী সরকারি বাস সার্ভিস চালু করা যায় না? করলে কিভাবে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব?
শাকুর মজিদ: যায় তো ! কিন্তু বাস রাখার জায়গা কোথায় ? এটা রাজধানীর পৃথক একটা সমস্যা।

রেজা ঘটক: অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলা করা যাচ্ছে না কেন? আসল সমস্যা কোথায়? সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য আপনার পরামর্শ কী?
শাকুর মজিদ: ফেব্রুয়ারির মেলার বাংলা একাডেমি অংশটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্য বরাদ্ধ করে এখানেই বিদেশী স্টলের মেলা বসতে পারে।

পাঠকদের জন্য শাকুর মজিদের প্রকাশিত গ্রন্থাবলী :
ক. ভ্রমণ কাহিনী [প্রকাশের কালানুক্রমে]:
১. আমিরাতে তেরোরাত (২০০৩/উৎস প্রকাশন)
২. আমেরিকা: কাছের মানুষ দূরের মানুষ (২০০৮/উৎস প্রকাশন)
৩. কালাপানি (২০০৯/অন্যপ্রকাশ)
৪. সক্রেটিসের বাড়ি (২০০৯/অন্যপ্রকাশ)
৫. পাবলো নেরুদার দেশে (২০০৯/অবসর প্রকাশনী)
৬. হো চি মিনের দেশে (২০০৯/ উৎস প্রকাশনী)
৭. নদীর নাম টে (২০১০/উৎস প্রকাশন)
৮. মালয় থেকে সিংহপুরী (২০১১/উৎস প্রকাশন)
৯. অষ্টভ্রমণ (২০১১/উৎস প্রকাশন)
১০. সিংহল সমুদ্র থেকে (২০১১/অনন্যা)
১১. সুলতানের শহর (২০১২/অবসর প্রকাশনী)
১২. লেস ওয়ালেসার দেশে (২০১২/অবসর প্রকাশনী)
১৩. মিং রাজের দেশে (২০১৩/ উৎস প্রকাশন)
১৪. নাশিপাড়া লিজিয়াং (২০১৪/ উৎস প্রকাশন)
১৫. নোবেলের শহর (২০১৪/অন্যপ্রকাশ)
১৬. অন্নপূর্ণায় (২০১৪/ উৎস প্রকাশন)
১৭. প্রাগের ঠাকুরোভা, মোজার্টের লবণপুর (২০১৫/অবসর প্রকাশনী)
১৮। ফেরাউনের গ্রাম (২০১৬ /অন্যপ্রকাশ)
১৯। ১০ সদর স্ট্রিট: রবীন্দ্রনাথের কলকাতা (২০১৬/প্রথমা)

প্রকাশিতব্য :
১. পৃথিবীর পথে পথে – (গ্রন্থকুটির, ২০১৭)
২. চার খণ্ডে ভ্রমণ সমগ্র ১, ২, ৩, ৪ (কথাপ্রকাশ, ২০১৭)
৩. জিংহোং : ময়ূরের গ্রাম,  (পাঞ্জেরী প্রকাশনী, ২০১৭)

খ. আত্মস্মৃতি/স্মৃতিচারণ মূলক:
১. ক্লাস সেভেন ১৯৭৮ (২০০৮/অন্যপ্রকাশ)
২. হুমায়ূন আহমেদ : যে ছিলো এক মুগ্ধকর (২০১৩/প্রথমা)
৩. নুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি (২০১৩/অন্যপ্রকাশ)
৪. ভাটির পুরূষ-কথা (২০১৩/ বেঙ্গল পাবলিকেশনস)
৫. ক্যাডেটের ডাইরী (২০১৪/অন্যপ্রকাশ)
৬- মাথিউরার গেন্দাফুল কিংবা ফৌজদারহাটের মেরিগোল্ড, (২০১৫/পাঞ্জেরী)

গ. নাটক গ্রন্থ:
১. মহাজনের নাও (২০১১/উৎস প্রকাশন)
২, নির্বাচিত নাটক (২০১৫/অয়ন প্রকাশনী)
৩. হাছনজানের রাজা, (সমকাল, ২০১৬)
৪. রাধার মন (পাঞ্জেরী,  ২০১৭- প্রকাশিতব্য)

নাট্য রচনা :
ক. বেতার নাটক:
১.  যে যাহা করোরে বান্দা আপনার লাগিয়া (১৯৮৫- সিলেট বেতার)
২.  হিসাব বুঝে পেলাম (১৯৮৬- সিলেট বেতার)

খ. টেলিভিশন নাটক/ টেলিফিল্ম:
১. শেষ দৃশ্য (১৯৯৮- বাংলাদেশ টেলিভিশন)
২. লন্ডনী কইন্যা (২০০০- বাংলাদেশ টেলিভিশন)
৩. নাইওরী (২০০১- বাংলাদেশ টেলিভিশন)
৪. চেরাগ (২০০৩- এনটিভি)
৫. আজ আমার দিন (২০০৩- বাংলাদেশ টেলিভিশন)
৬. বৈরাতি (২০০৪- চ্যানেল আই)
৭. করিমুন নেসা (২০০৫- এনটিভি)
৮. সবুজ মাটির মায়া (২০০৫- চ্যানেল আই)
৯. একটি লাল শাড়ি (২০০৬- চ্যানেল আই)

গ. মঞ্চ নাটক:
১.  মহাজনের নাও (২০১০- সুবচন নাট্য সংসদ/ঢাকা, ২০১১- একতারা/আমেবিকা,  ২০১৪ নৃত্যশৈলী/সিলেট)
২। হাছনজানের রাজা (২০১৫)
৩। রাধার মন (২০১৬)