Home / বই আলাপ / আমি চমকের বদলে বিভূতিভূষণের আরণ্যকে বুঁদ হতে পারি। অমল সাহা

আমি চমকের বদলে বিভূতিভূষণের আরণ্যকে বুঁদ হতে পারি। অমল সাহা

 

amal-shaবইপড়া আর নিজের প্রিয় বই নিয়ে বলেছেন ছোটগল্পকার-শিশুসাহিত্যিক অমল সাহা

বইনিউজ : প্রথম কোন বই পড়ে আপনি সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত হয়েছেন?
অমল সাহা : সত্যিকার অর্থে আমি এখনো আচ্ছন্ন হয়ে আছি ম্যাক্সিম গোর্কির আত্মজৈবনিক ট্রিলজির অন্যতম ‘পৃথিবীর পথে’ পড়ে। এটা আমাকে শুধু মুগ্ধতাই নয় আমার লেখালেখির উপরও স্থায়ী প্রভাব ফেলে রেখে গেছে। আমি এ বইটি পড়েছিলাম আমার ১৫ বছর বয়সে। গোর্কির নিরাবরণ বর্ণনা শৈলীর জন্য যে কোন পৃষ্ঠা থেকেই এই বইটি আমি বহুবার পড়েছি। এ জন্যই আমি চমকের বদলে বিভূতিভূষণের আরণ্যকে বুঁদ হতে পারি।

বইনিউজ : কোনো বই পড়ার পর সেই বইয়ের কোন চরিত্রের মতো হওয়ার বা তাকে অনুসরণ করার কী কখনো চেষ্টা করছেন? করে থাকলে পাঠকদের উদ্দ্যেশ্যে বিস্তারিত বলুন?

অমল সাহা : আহা! যদি ‘পথের দাবী’র সব্যসাচী হতে পারতাম! ওর মত সাহসী হতে পারিনি, তবে নিত্যকার জীবনযাপনে, কাজেকর্মে সব্যসাচী হতে চেষ্টা করেছি। মেধাহীনতার কারণে ও গেঁজেল বন্ধুদের সাথে মিশে গোল্লায় গেছি। পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারিনি। আমি এক সময় চাল বিক্রি করতাম। মাদ্রাসায় মাস্টারী করেছি। পড়ালেখা বাদ দিয়ে সারাদিন বছরখানেক তাস খেলে কাটিয়েছি। আবার পড়ালেখায় ফিরেছি। ছোটখাট সরকারী চাকরীও জুটিয়ে ফেলেছি। শেষে প্রশিক্ষণ উপলক্ষ্যে ইউরোপের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তারপর চাকরী করেছি জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থায়। ছোটদের জন্য বই লিখেছি ২১ টা। টেলিভিশনে নাটক লিখেছি। পয়সার জন্য চানাচুরের বিজ্ঞাপণ লিখেছি। ভাড়াটে লেখক হিসাবে অন্যকে উপন্যাসও লিখে দিয়েছি। তথ্যচিত্র লিখেছি এন্তার। খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে যেমন রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে তেমনি শুয়েছি ৫তাঁরা হোটেলের বিছানায়। সব্যসাচীকে খুব মনে পড়ে।

বইনিউজ : আপনার পঠিত বাংলা সাহিত্যের সেরা একটি উপন্যাস পড়ার মজার স্মৃতি পাঠকদের সাথে শেয়ার করুন।
অমল সাহা : আসলে সত্যিকার অর্থে সবাই যা বলে সেভাবে সেরা বা ভাল বইগুলি আমার পড়া হয়নি। এ লজ্জা আমার। যা সামনে পেয়েছি তাই পড়েছি। এর মধ্যেই কত বই পড়েছি, পড়ে মনে হয়েছে আহা! জীবনটা এমনই! হয়তো সেই বইকে সেরা বললে পাঠকরা আমাকে দুয়ো দেবে। কোন্ বইকে সেরা বলে শেষে লজ্জায় পড়বো। থাক। মাপ কিজিয়ে ভাই সাহেব।

বইনিউজ : আপনার জীবনযাপন, চিন্তাধারা ইত্যাদি বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে কোন বইয়ের অবদান রয়েছে কী? থাকলে সে ব্যাপারে আমাদের পাঠকদের বিস্তারিত জানান?
অমল সাহা : একটা নয় অনেক বইই ধীরে ধীরে আমার চিন্তাকে বদলে দিয়েছে। একটা বিষয়কে নতুন করে দেখতে শিখিয়েছে। তবে ভাই, তারাশঙ্করের ‘কবি’ পড়ে আমি বেশ্যাদের চিরদিনের জন্য ঘৃণা না করতে শিখেছি। যে সংস্কার ছোটবেলা থেকে সমাজ আমাদের শিখিয়েছিল। যাত্রা দলের বসন্তের তথা বসনের মৃত্যুর পূর্বক্ষণে সেই আত্মা ছেঁড়া কথাটা যখনই মনে পড়ে, ‘হে রাধানাথ আর জন্মে আমার সংসার দিও… ..’ (পাঠক আমি কাঁদছি) তখনই আমার চোখ জলে ভরে ওঠে। পৃথিবীর সব নারীদের এবং পূরুষদের শ্বাশত কথা যেন ধ্বনিত হয়েছিল বসন্তের গলায়। আমি একদিন টিভিতে দেখলাম দেহ বিক্রয় করে এমন এক আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে টিভির প্রশ্নকর্তার উত্তরে বলছিল, ও I want salvation, I want family.. মেয়েটির চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় জল পড়ছিল। বসন্তের সেই বলা কথাগুলিই মনে পড়ছিল।

বইনিউজ : সম্প্রতি পড়েছেন এমন একটি ভালো বই সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের পাঠকদের জানান?
অমল সাহা : আবার সেই ভাল বইয়ের প্রসঙ্গ!! কই যাই!! আমি সম্প্রতি একটা পেশাগত কারণে বই পড়েছি বা পড়ছি সেটা হল ভারতীয় বিজ্ঞানী সুধা গাঙ্গলের ‘Handbook of Mammalian Cell culture’ । বইটা আমার খুব ভাল লাগছে। মলিকুলার বায়োলজির ছাত্রদের বইটি খুব ভাল লাগবে।