Home / বই আলাপ / প্রকৃত কবিতা লেখার মানুষ অন্য সময়ের মতই কম-গোলাম কিবরিয়া পিনু

প্রকৃত কবিতা লেখার মানুষ অন্য সময়ের মতই কম-গোলাম কিবরিয়া পিনু

Golam-Kibria-Pinuগোলাম কিবরিয়া পিনু

চলছে বইমেলা। এবারের বইমেলা উপলক্ষ্যে লেখালেখি, কবি, কবিতাসহ নানান ইস্যুতে বইনিউজের সাথে কথা হয় কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু’র। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক রবীন আহসান।

বইনিউজ : এবারের একুশের বইমেলায় আপনার কী কোন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : বের হচ্ছে তিনটি বই। কবিতার বই ‘কবন্ধ পুতুল নাচে’, প্রবন্ধের বই ‘কবিতা, বোধের দিগন্ত’ এবং ছড়ার বই ‘ছুঁ মন্তর ছুঁ’।

বইনিউজ : বাংলাদেশের সমাজে নানা ধরনের আন্দোলন হচ্ছে কিন্তু কবিতায় এর প্রভাব পড়ছে না কেন?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : বাস্তব পরিধিতে অস্থিরচিত্ততা এ-সমাজে বেড়েছে বেশ, নিলর্জ্জ নীতিহীনতার প্রকোপ ছোঁয়াচে রোগের মত ছড়িয়ে পড়েছে; বেদনাদীর্ণ হওয়ার পরও এর চিকিৎসা নেই। বিবেকতাড়িত হয়ে নীতিহীনতার বিরুদ্ধে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কবিরাও দিকভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে-কত রকমের ধান্দা চারদিকে, এরমধ্যে কবির নিজস্ব বোধ নষ্ট হতে থাকে, কবি নিজেও পঁচাগন্ধ পায়-তখন কবিতা নিয়ে কবির এগিয়ে চলার সাহস-স্পর্ধা লুপ্ত হচ্ছে। এভাবে কবির পতনমুখী এক ধরনের অবস্থান তৈরি হতে যায়। এই পরিস্থিতিতে  বাংলাদেশের সমাজের নানা ধরনের আন্দোলন কবিতায় মোটা দাগে প্রভাব ফেলছে না! তবে, কারো কারো কবিতায তা আসছে এবং তা সচেতনভাবেই আসছে। কবিতা সমাজবিচ্ছিন্ন কোনো শিল্পমাধ্যম নয়। কবির দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে-কী দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি বর্তমানের  সমাজ ও সামাজিক জীবনকে দেখবেন, সমাজের কোন্ বিষয় নিয়ে তার কাব্যে আলো ফেলবেন, কোন্ জিনিসটি বর্জন করবেন বা বিকশিত করবেন। কবিতা মানুষের জন্যই-ভালো কবিতার শিল্প-সৌন্দর্য স্বতঃস্ফুর্ত ও আনন্দময় অনুভূতির জন্ম দিয়ে থাকে।

বইনিউজ : আপনার লেখালেখির শুরুটা কখন থেকে? প্রথম বই কবে প্রকাশিত হয়? প্রথম বই প্রকাশের কোন মজার ঘটনা পাঠকের সাথে শেয়ার করতে চান?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : মুক্তিযুদ্ধের এমন এক পরিবেশের মুখোমুখি আমরা তখন, একদিকে বিধ্বস্ত অবকাঠামো ও স্বজন হারানোর বেদনার্ত সময়, আর অন্যদিকে নতুন করে গড়ে উঠবার উদ্দীপনা ও স্বপ্নের আন্দোলিত প্রেষণা। এমন সময়ের কণ্ঠলগ্ন হয়ে কিশোর বয়সের জীবন ছিল তখন। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাঘর করছি, করেছি ছাত্র সংগঠন-ছাত্র ইউনিয়ন, অংশ নিচ্ছি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। যাচ্ছি পাবলিক লাইব্রেরিতে  নিয়মিত। এমন পরিবেশ নিয়ে ছোট শহর গাইবান্ধায় বেড়ে উঠছি। তখন বের হতো স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ দিবস উপলক্ষে বহু সংকলন। আর এসব সংকলনে প্রথম দিকে আমার কবিতা ছাপা হতে থাকে। হতো নিয়মিত সাহিত্যসভা ও অনুষ্ঠান। এগুলোর সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী ছিলাম আমিও। আর কবিতা রচনা প্রতিযোগিতায়ও পেয়ে যাচ্ছিলাম পুরস্কার। এমন অনুকূল পরিবেশ পেয়ে কবিতা ধরা দিতে শুরু করে। গাইবান্ধা থাকাকালীন সময়ে তখনই জাতীয় পত্র-পত্রিকায় কবিতা ছাপা শুরু হতে থাকে, এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার লিটল ম্যাগাজিনেও । পরবর্তিতে শুধু কবিতা লিখবো-সাহিত্যের সাথে যুক্ত থাকবো বলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনার্সে ভর্তি হই, তখন আরও কবিতা লেখায় উদ্দীপিত হতে থাকি, কবিতার সাথে তখন সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। জাতীয় পত্র-পত্রিকায় তখন আরও কবিতা ছাপা হতে শুরু করে। এমনভাবেই কবিতার সাথে সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এমএ পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্ট হওয়ার আগেই ঢাকায় ১৯৮৩ সালের শেষে এসে চাকরি নিয়ে থিতু হলাম। সেই সময়ে কবিতা লেখার গোপনীয় স্পর্ধা নিয়ে নিজের ভেতর এক ধরনের চঞ্চলতা ছিল। সেই চঞ্চলতার রেশ নিয়ে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এখন সাইরেন বাজানোর সময়’ বের হয় ১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাসে, একুশের গ্রন্থমেলা উপলক্ষ্যে নয়, তখন মেলা উপলক্ষে এখনকার মত বই বের হতো না, মূলত বছরের অন্যান্য সময়ে বেশি বই বের হতো। তবে, বছরের অন্যান্য সময়ে প্রকাশিত বই মেলায় বিক্রি হতো।  এই বইটি বিক্রি হয়েছিল ১৯৮৫-এরএকুশের গ্রন্থমেলায়, প্রকাশকের স্টলসহ অন্যান্য স্টলে, তখন এক প্রকাশকের বই অন্য প্রকাশকের স্টলে বিক্রি করা যেত। বইটি বের হয়েছিল ৪ বাংলাবাজারের ‘পান্ডুলিপি’ থেকে, প্রকাশক ছিলেন লক্ষণ চন্দ্র সাহা, সেই সময়ে নির্মলেন্দু গুণ, মাসুদ বিবাগী ও আমার কাব্যগ্রন্থ একসাথে বের হয়েছিল এই প্রকাশনা থেকে। সেই ‘পান্ডুলিপি’ এখন নেই, প্রকাশক  লক্ষণ চন্দ্র সাহা’র খোঁজ এখন আমার অজানা! তবে, মনে আছে প্রকাশক লক্ষণ চন্দ্র সাহা’র সাথে নির্মলেন্দু গুণ ও মাসুদ বিবাগী’র বেশ সখ্য ছিল-আমিও ‘পান্ডুলিপি’তে গিয়েছি, প্রকাশক লক্ষণ চন্দ্র সাহা’র সাথে আমারও সংক্ষিপ্ত আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তাঁর মুখটি এখনো উজ্জ্বলভাবে মনে পড়ে! বিশেষ করে বইমেলা বা বইয়ের কথা মনে হলে! আমার প্রথম বইয়ের প্রকাশক হিসেবে তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে। এখনো আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এখন সাইরেন বাজানোর সময়’ বের হওয়ার অনুভুতি অনুভব করি- কী এক আবেগ ও শিহরণ নিয়ে বইটি বের করেছিলাম! রাত জেগে ৬৩ হৃষিকেশ দাস রোডের তাহের আর্ট প্রেস থেকে বইটি কালিমাখা অবস্থায় ছেপেছিলাম! ৪৮পৃষ্ঠার বইটির দাম ছিল বারো টাকা। বইটির প্রচ্ছদ ও নামের  লেটারিং আমি করেছিলাম দুই রংয়ে, অন্য নামে। প্রচ্ছদটি একেবারে খারাপ হয়নি, প্রশংসিত হয়েছিল। মনে পড়ে বইটির বিজ্ঞাপন ‘সচিত্র সন্ধানী’তে ছাপা হয়েছিল কয়েক সংখ্যায়, পত্রিকাটিতে তখন আমার কবিতা ছাপা হয়েছিল, এই সূত্র ধরে বিজ্ঞাপনটি ছাপা হয়। এ বিষয়ে কথাসাহিত্যিক সুশান্ত মজুমদার বিশেয় সহায়তা করে ছিলেন, তখন তিনি এই পত্রিকাটির সাথে যুক্ত ছিলেন। সাপ্তাহিক একতাসহ আরও কিছু পত্রিকায় বইটির বিজ্ঞাপন ও খবর বের হয়েছিল। পরবর্তিতে বেশ কিছু আলোচনাও ছাপা হয়। সেই সময়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার মধ্যে সড়ক ও প্রযুক্তি নির্ভর যোগাযোগ এখনকার মত ছিল না, গণমাধ্যমেরও এতটা বিকাশ হয়নি। বলতে দ্বিধা নেই- কবি হয়ে ওঠার এক ধরনের প্রেষণা নিয়ে ঢাকায় আসা এবং সেই প্রেষণার আওতায় প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হওয়ায় স্বপ্ন ছুঁয়ে আনন্দ অনুভব করেছিলাম।

বইনিউজ : আপনি কি মনে করেন প্রকৃত কবিতার চর্চার মানুষ কমে যাচ্ছে?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : না, কবিতার চর্চার মানুষ কমছে না, বরং বাড়ছে। তবে, প্রকৃত কবিতা লেখার মানুষ অন্য সময়ের মতই কম। প্রকৃত কবি তো বেশি পাওয়া যায় না।

বইনিউজ : কবিতা লেখার চেয়ে কবিরা অনেক বেশি মিডিয়া নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, মিডিয়া কী আসলে কাউকে বড় কবি বানাতে পারে?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা হয়তো বলা যায়। তবে, কবিরা মিডিয়ার সাহায্য নিতে পারে কিংবা মিডিয়াও কবি ও কবিতাকে গ্রহণ করতে পারে। তবে মিডিয়া কাউকে বড় কবি বানাতে পারে না। হয়তো সাময়িক হয়তো মিডিয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে টেনে নিয়ে নাঁচাতে পারে কিন্তু তা শেষমেষ স্থায়ী হয় না। আবার কেউ কেউ কৌশলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মিডিয়া নির্ভর প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে কবির ইমেজ বাড়ান বা ক্ষুন্ন করেন। এসব প্রবণতা আছে বা থাকবে। তবে, প্রকৃত কবিকে এসবের মুখোমুখি হয়ে বিচলিত হলে চলবে না। প্রকৃত কবি ও কবিতার জন্য আরও মনোযোগ, অনুসন্ধান ও আবিস্কারের উদ্যোগ সবসময়ের জন্য দাবী করে। প্রকৃত সমালোচকগণ কবিকে আবিস্কার করেন, কবিকে চিহ্নিত করেন, টেনে তোলেন কবিকে অন্ধকূপ থেকে, দেদীপ্যমান করেন  নতুন আলোয়। অন্য কোনো ব্যক্তি-লোভে আর সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসাবে ‘তথাকথিত সমালোচনা’ ব্যবহার করেন না-কোনো সৎ সমালোচক।

বইনিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে কবিতার বইয়ের পাঠক প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে, এই অবস্থার পরিবর্তনের  জন্য দায়ী কে? এক্ষেত্রে পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : কবিতার পাঠক সবসময়ে খুবই নির্বাচিত, সে কারণে মনে হতে পারে কম। তবে, এদেশে বিভিন্ন সময়ে কবিতার পাঠক কমেছে  এবং বেড়েছেও।
বর্তমানে কাব্যচর্চার ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এর জন্য শুধু কবিরা দায়ী নয়। এজন্য পরিবেশ-পরিস্থিতি ও অন্যান্য কারণও রয়েছে, তবুও সচেতনভাবে কবিদের জন্য এই সংকট কবিদেরই মোকাবেলা করতে হবে। তবে-এ ক্ষেত্রে কিছু কবি বিশেষভাবে দায়ী। তারা ভাবেন, তারাই একমাত্র কাব্যবোদ্ধা! যে ভাবেই কবিতা লিখেন না কেন, আর সেই কবিতায় কোনো শিল্পশর্ত পূরণ হোক না হোক বা ধারাবাহিক অভিজ্ঞতায় সামঞ্জস্য থাক বা না থাক কিংবা কবিতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা না হোক-তবুও এভাবে কবিতাকে এক ধরনের শূন্যতায় নিক্ষেপ করতে তারা ভালোবাসেন। এদের ভূমিকায় আজ কবিতা ও পাঠকের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে কবি ও প্রকাশকের পেশাদারিত্বের বিষয়টি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার আরও সুযোগ রয়েছে। কবির পান্ডুলিপি গ্রহণ ও বিবেচনার করার ক্ষেত্রে অনেক প্রকাশকের আগ্রহ ও নিয়ম-নীতির অভাব রয়েছে । সম্মানি ও অন্যান্য দিকও বিবেচনা করা হয় না। প্রকাশকও বেড়েছে, কবিও বেড়েছে কিন্তু উভয়ের মঙ্গলের জন্য আরও বোঝাপড়ার গভীরতা বাড়ানো দরকার।

বইনিউজ : আপনার প্রিয় কবি কে? কোন কোন কবিতার বই আপনাকে একজন কবি হিসেবে প্রভাবিত করেছে?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : দেশে ও দেশের বাইরের অনেক কবি আমার প্রিয়।  বাংলা কবিতা শুধু নয়, বিশ্বের অন্যান্য ভাষার কবিতাও ধারাবাহিকতা নিয়ে উজ্জ্বল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা প্রবহমানেরই নামান্তর। এই প্রবহমান অবস্থানে থেকে আমার কবিতা নির্মিত হচ্ছে বলে আমি মনে করি। কবিতা শূন্যে বা হঠাৎ লাফ দিয়ে নির্মাণ করা যায় না। সূক্ষ্মভাবে অনেক কবি বিভিন্নভাবে একজন কবিকে প্রভাবিত করে থাকে, আমি তা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো গ্রহের কবি নই। যদি বলি, চর্যাপদ থেকে বাংলা কবিতার যে বিকাশ, সেই বিকাশের ধারায় সমকালীন বাংলা কবিতার অস্তিত্ব ও উজ্জ্বলতা। আর এই কারণে বাংলা কবিতার যে সম্ভাবনা তা অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। বাংলা কবিতার যে বৈশিষ্ট্য ও ব্যঞ্জনা রয়েছে, সেই প্রবহমান শক্তিকে ধারণ করেই সমকালীন বাংলা কবিতার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করতে হবে।

বইনিউজ : বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা নিয়ে কবি হিসেবে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কী?
গোলাম কিবরিয়া পিনু : একুশের বইমেলা ২০১৬, গত বছরের মত এবার বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। এতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটানোর এক ধরনের  প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাংলা একাডেমীতে মেলার প্রয়োজন  অনুযায়ী জায়গা সংকুচিত হয়ে  পড়েছে। একাডেমীর চত্বরে ইতোমধ্যে আরও ইমারত উঠেছে, আরও কাজও চলছে, অন্যদিকে অনেক নতুন নতুন প্রকাশকের অস্তিত্ব বিকশিত হচ্ছে, বই প্রকাশনারও সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার সম্প্রসারণ করার যুক্তি গ্রহণ করা যেতে পারে। গত বছরে বাংলা একাডেমিতে সরকারি সংস্থা, শিশু-কিশোর বিষয়ক ও অন্যান্য বুক-স্টল রয়েছিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশিরভাগ বইয়ের স্টল, যার ফলে মেলায় এক ধরনের বিচ্ছিন্ন ভূ-ভাগ তৈরি হয়েছিল, অখন্ড সত্তা নিয়ে মেলা দাঁড়াতে পারেনি। সকল বইয়ের স্টল এক জায়গায় রাখলে বরং ভালো হয়। মেলার সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে রাখলে চলে। মেলার পরিসর বাড়িয়ে আরও উন্মুক্ত এলাকা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা সম্প্রসারিত হতে পারে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চেতনাগত দর্শন সাংঘর্ষিক নয়, বরং তা কাছাকাছি ও আমাদের জাতীয় চেতনার মূল খন্ডেরই দেদীপ্যমান প্রতিভাস।