Home / বই আলাপ / মগজ বিক্রিতে বুদ্ধিজীবীগণ গলদঘর্ম-মতিন বৈরাগী

মগজ বিক্রিতে বুদ্ধিজীবীগণ গলদঘর্ম-মতিন বৈরাগী

Matin-Bairagiমতিন বৈরাগী

চলছে অমর একুশে বইমেলা। এবারের বইমেলা, লেখালেখি, কবিতাসহ নানান ইস্যু নিয়ে বইনিউজের সাথে কথা হয় কবি মতিন বৈরাগীর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বইনিউজের সম্পাদক রবীন আহসান।

 

বইনিউজ : আসছে একুশের বইমেলায় আপনার কী কোন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে?
মতিন বৈরাগী : একুশের বইমেলায় দেশ পাবিলিকেশন্স থেকে বেরুচ্ছে আমার ‘নির্বাচিত’, যেখানে প্রায় ৩৫০টির অধিক কবিতা এতে যুক্ত হয়েছে। আমার প্রবন্ধের বই ‘কাব্য শিল্প আনন্দ’ ইতোমধ্যেই বেরিয়ে গেছে। ‘ বটেশ্বর বর্ণন থেকে’ মতিন বৈরাগী ও ফরিদ আহমদ দুলালের যৌথ সম্পাদনায় বেরুচ্ছে দেশের প্রবীণ নবীন মিলিয়ে ৫৫ জন কবির ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ ‘রিলম অব পোয়েট্রি’, স্বতন্ত্র ময়মনসিংহ থেকে বেরুচ্ছে ‘দি পোয়েমস’ যা মতিন বৈরাগী ও ফরিদ আহমদ দুলালের যুগ্ম।

বইনিউজ : বাংলাদেশের সমাজে নানা ধরণের আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে কিন্তু কবিতায় এর কোন প্রভাব পড়ছে না কেন?
মতিন বৈরাগী : বাংলাদেশে বর্তমানে তেমন কোন আন্দোলন নেই। যা আছে তারও কোন দিশা নেই, কোন আদর্শবাদীর দ্বারা কোনো আন্দোলন পরিচালিতও হচ্ছেনা। মগজ বিক্রিতে বুদ্ধিজীবীগণ গলদঘর্ম। যা আছে তা হলো মোসাহেবি, পাইবার লোভ, দখলের উৎসব, প্রতারকের নাচ। কোন স্বপ্ন নেই মানুষের, তারা চারিত্রিকভাবে দূর্বল হয়ে গেছে। ফলে নতুন ভাবনার বা নতুন উদ্দীপনার কোন ইঙ্গিত নেই। কবিরাও ছুটছে দলবাজিতে, পাওনা বাজিতে, পিঠ চাপড়ানিতে। নতুন স্বপ্ন না হলে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়ে। স্বপ্ন গড়ে রাজনীতিবিদরা, তারা সবকিছুতে ব্যর্থ হতে বসেছে। তারা ভাবছে আর কি চাই আর কর্মীরা ‘আছির পিছে’ বলে তাকায় কি পাওয়া যাবে। আর কলাম লেখকরা ভাবছে আহা! আর একটু বেশী করে যদি স্তুতি করতে পারতাম। ফলে কবিতাও হয়ে উঠছে শরীরী, স্থূল, অস্থিরতার। এর কোন দিশা নেই।

বইনিউজ : আপনার লেখালেখির শুরুটা কখন থেকে?
মতিন বৈরাগী : লেখালেখি ৪ দশকেরও বেশী সময়ের। ১৯৭৬ সালে প্রথম বই ‘বিষণ্ন প্রহরে দ্বিধাহীন’ প্রকাশিত হয়। মজাটা এই যে এই বইটি বের করতে আমার সহধর্মিনীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তার দুটা অলঙ্কার বিক্রি করেছিলাম ৭৮০ টাকায়। বলেছিলাম বইগুলো বিক্রি হলে অন্তত হাজার দেড়েক পাব তখন তোমাকে আরো বেশী দামের অলঙ্কার কিনে দেব। দেব কি, বই বিক্রি হলেতো। যা দু-চারখান বিক্রি হয়েছিল সে টাকা বন্ধুবান্ধদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে চা খেয়ে শেষ। শেষটায় তার মুখ ভারি। অবশ্য পড়ে যখন কেউ টেলিফোন করে জিজ্ঞেস করতো কবি সাহেব আছেন, তখন তিনি খুশী হয়েই বলতে এই যে কবি তোমায় কেউ ডাকছে।

বইনিউজ : আপনি কী মনে করেন প্রকৃত কবিতা চর্চার মানুষ কমে যাচ্ছে?
মতিন বৈরাগী : অবশ্যই। স্তবস্তুতির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আবর্জনা।

বইনিউজ : কবিতা লেখার চেয়ে কবিরা অনেক বেশী মিডিয়া নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, মিডিয়া কী আসলে কাউকে বড় কবি বানাতে পারে?
মতিন বৈরাগী : বড় কবি বড় কথা নয়, আদর্শ না থাকলে লক্ষ না থাকলে কোনোরকম নিজের মুখখানা অন্যকে দেখানোর লোভ বাড়ে। আর ভাবে আমি এখন কত বড় কবি, সারা দেশের মানুষ দেখছে, বাইরেও দেখছে। মিডিয়া কবি বানাতে পারেনা একথা সত্য, কিন্তু তারা মিডিয়ার জোরে কবি হয়ে বসে গেছে আর অন্যরা তার পিছনে ছুটছে। এদের লক্ষ্য কবিতা নয়, লক্ষ্য অন্যত্র যদি কোনোভাবে কৃপা পাওয়া যায়। সব কটি মেডেল মেলে।

বইনিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে কবিতার বইয়ের পাঠক প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে, এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য দায়ী কে? এক্ষেত্রে পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?
মতিন বৈরাগী : আত্মঘাতী রাজনীতি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয় উত্পাদন সম্পর্ক দ্বারা। উত্পাদন সম্পর্ক স্বচ্ছ, কল্যানমুখী, মুক্তদ্বার না হলে প্রতারণার বিধিব্যবস্থা চলমান থাকলে উপনিবেশিক মানসিকতা দূর হয় না। দাস্য মনোবৃত্তির অপসারণ ঘটেনা আর এগুলোর পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন সিসটেম –এর পরিবর্তন ঘটে, মানুষের স্বাধীনতা অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। মানুষ দাঁড়ায় মানবিকতার পক্ষে।

বইনিউজ : আপনার প্রিয় কবি কে? কোন কোন কবিতার বই আপনাকে একজন কবি হিসেবে প্রভাবিত করেছে?
মতিন বৈরাগী : আমার প্রিয় কবি আমার অগ্রজরা, আমার অনুজরা, আমি নিজে।

বইনিউজ : বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা নিয়ে কবি হিসেবে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
মতিন বৈরাগী : আমার কোনো মন্তব্য নেই কারণ প্রতিষ্ঠানটির নিজের কী করার আছে সে তো পরিচালিত হয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যে বা যারা থাকে তাদের উদ্দ্যেশ্যকেই তো সামনে নিয়ে যেতে হয়। তার নিজের করার ক্ষমতা কতটুকু।